দ্য ওয়াল ব্যুরো: ডিসেম্বর ২ তারিখে কোভ্যাক্সিন টিকার প্রথম ডোজ নিয়েছিলেন রাজ্যের পুর ও নগোরন্নয়ন মন্ত্রী তথা কলকাতা পুরসভার প্রশাসক ফিরহাদ হাকিম। ঠিক ২৮ দিনের মাথায় আজ ৩০ তারিখে টিকার দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হল তাঁকে। বেলেঘাটার নাইসেডে টিকার ইঞ্জেকশন দেওয়া চলছে। প্রথম পর্যায়ে যাঁরা টিকা নিয়েছিলেন তাঁদের আজ দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হবে।
ভারত বায়োটেকের তৈরি কোভ্যাক্সিন টিকার তৃতীয় পর্যায়ের ট্রায়াল প্রায় শেষের দিকে। দেশের ২৪টি সেন্টারে টিকার ট্রায়াল হয়েছে। তার মধ্যে কলকাতায় হাজার জনকে টিকার ইঞ্জেকশন দেওয়া হয়েছে। শহরে ট্রায়াল শুরুর পরে প্রথম টিকা নেন বিপ্লব যশ নামে এক যুবক। তারপরে পুরমন্ত্রীকে টিকার ইঞ্জেকশন দেওয়া হয়। গতকাল বিপ্লবকে টিকার দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হয়েছে।
ভারত বায়োটেকের টিকা সুরক্ষিত, টিকার ডোজ নিয়ে ভাল আছেন বলে জানিয়েছিলেন প্রাক্তন মেয়র ববি হাকিম। তিনি বলেছিলেন, টিকা নেওয়ার পরে কোনওরকম শারীরিক অস্বস্তি হয়নি তাঁর। তবে যদি অসুবিধা হতও তাহলেও জনগনের স্বার্থে টিকা নিতেন তিনি।
ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিক্যাল রিসার্চের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে করোনার টিকা কোভ্যাক্সিন বানিয়েছে ভারত বায়োটেক। কোভ্যাক্সিন হল ইনঅ্যাক্টিভেটেড ভ্যাকসিন অর্থাৎ ভাইরাল স্ট্রেন নিষ্ক্রিয় করে বানানো হয়েছে। ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিক্যাল রিসার্চ (আইসিএমআর) ও পুণের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ভাইরোলজি (এনআইভি) থেকে সার্স-কভ-২ ভাইরাল স্ট্রেন নিয়ে ল্যাবোরেটরিতে তার স্ক্রিনিং করে ভ্যাকসিন ক্যানডিডেট বানিয়েছে ভারত বায়োটেক। বায়োসেফটি লেভেল-৩ ল্যাবোরেটরির সুবিধা থাকায় ভারত বায়োটেকের ভাইরোলজিস্টরা সংক্রামক ভাইরাল স্ট্রেনের বিশেষ অংশ চিহ্নিত করে তাকে আলাদা করে নিয়েছেন। অর্থাৎ ভাইরাল প্রোটিনের বিশেষ অংশ স্ক্রিনিং করে বার করে নিয়েছেন। এরপরে সেই সংক্রামক স্ট্রেনকে বিশেষ বিজ্ঞানসম্মত উপায় পিউরিফাই করে তাকে নিষ্ক্রিয় বা ইনঅ্যাকটিভ (Inactive)করেছেন ।
নাইসেড জানিয়েছে, এই টিকা এমনভাবে তৈরি হয়েছে যাতে কোল্ড স্টোরেজের স্বাভাবিক তাপমাত্রাতেই সংরক্ষণ করা যায়। মাইনাস ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় রাখা হয়েছে কোভ্যাক্সিন টিকার ভায়াল। ২৮ দিনের ব্যবধানে দুটি ডোজ দেওয়া হচ্ছে স্বেচ্ছাসেবকদের।
করোনার নতুন স্ট্রেনের ওপরও এই টিকা কার্যকরী হবে বলে জানিয়েছিল ভারত বায়োটেক। কৃষ্ণা এল্লার সংস্থা কিছুদিন আগেই টিকার দুই পর্যায়ের ট্রায়ালের রিপোর্ট সামনে এনে দাবি করে, করোনাভাইরাস থেকে দীর্ঘমেয়াদী সুরক্ষা দেবে কোভ্যাক্সিন টিকা। এই টিকার ডোজে তৈরি অ্যান্টিবডি টিকে থাকবে অন্তত ৬-১২ মাস। সক্রিয় থাকবে টি-কোষও। সংক্রমণজনিত জটিল রোগের আশঙ্কা থাকবে না।