দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্যের স্কুলগুলোকে বেসরকারি সংস্থার হাতে তুলে দেওয়া হবে! অর্থাৎ যৌথ উদ্যোগে স্কুল ও স্কুলের শিক্ষা ব্যবস্থাকে সাজানো হবে, রাজ্য সরকারের অন্দরে কয়দিন ধরেই এই নিয়ে ভাবনা চিন্তা চলছে বলে খবর। যদিও এবিষয়ে বুধবার রাতে দ্য় ওয়ালের তরফে রাজ্যের শিক্ষা সচিব মণীশ জৈনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, নীতি তৈরির ভাবনা সংক্রান্ত নির্দেশিকা বাতিল করা হয়েছে। তবে বৃহস্পতিবার সকালে রাজ্য শিক্ষায় যৌথ উদ্যোগের পক্ষেই জোরদার সওয়াল করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। আর তারপর থেকেই জোর জল্পনা শুরু, তাহলে কি পিপিপি মডেলের পথেই হাঁটতে চলেছে রাজ্য সরকার?
তাঁর যুক্তি, 'এই বেসরকারিকরণের ব্যাপার সিপিএম আমলে শুরু হয়েছে। বিজেপিও সারা ভারতব্যাপী একই কাজ করছে। সেখানে যদি অন্যায় না থাকে, তাহলে বাংলায় যদি কোনভাবে উদ্যোগ নেওয়া হয় তাহলে অন্যায় হবে?'
এদিন তিনি তাঁর কথার সাপেক্ষে কয়েকটি যুক্তিও রেখেছেন। তিনি বলেন, 'আগে কটা ইনস্টিটিউট ছিল বাংলায়? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে অনেক নতুন ইনস্টিটিউট হয়েছে। সরকারি কলেজেরও কমতি নেই এখন বাংলায়। সবাই বলে, বাংলার ছেলে-মেয়েরা ব্যাঙ্গালোর চলে যাচ্ছে। ব্যাঙ্গালোরের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভিড় বাড়ছে। সেখানে যদি বাংলার বাইরে থেকে ছেলেমেয়েরা এখানে আসে, তাহলে আপত্তি কোথায়?'
তিনি আরও বলেন, 'আমরা চাই যে, বড় বড় ইনস্টিটিউট আসুক বাংলায়।' কিন্তু এই বেসরকারিকরণ নিয়ে বিরোধী থেকে বিভিন্ন মহল জোর আপত্তি তুলেছে। সেই প্রসঙ্গেই এদিন পরিবহন মন্ত্রী বলেন, 'আসলে বাংলায় যাই করবে, শাকের করাতের মত, এদিকেও কাটবে ওদিকেও কাটবে?'
প্রসঙ্গত, সরকারি এবং সরকারের আর্থিক সাহায্য প্রাপ্ত স্কুল বেসরকারি সংস্থার হাতে দেওয়ার ভাবনাচিন্তা শুরু হয়েছে নবান্ন এবং বিকাশ ভবনে। তবে পুরোপুরি বেসরকারি হাতে না দিয়ে আপাতত যৌথ উদ্যোগের পথে হাঁটার পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে সরকারি শিক্ষামহল। এ জন্য একটি নীতি তৈরির জন্য সংশ্লিষ্ট মহলের মতামত চাওয়া হয়েছে। বিষয়টি খুবই গোপন রাখতে চাইছে নবান্ন ও বিকাশ ভবন। সেই কারণে কেউ এই বিষয়ে মুখ খুলতে চাইছেন না।
তবে সূত্রের খবর, শিক্ষাখাতে বিপুল খরচ সরকারের চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর্থিক কারণেই শিক্ষকের কয়েক হাজার শূন্য পদ পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না। এই পরিস্থিতিতে কিছু স্কুলকে যৌথ উদ্যোগে চালানোর ভাবনা শুরু হয়েছে। সেই নিয়ে নীতির খসড়াও তৈরি হয়ে গেছে বলে শোনা গিয়েছিল। যদিও নীতি তৈরির ভাবনা সংক্রান্ত নির্দেশিকা বাতিল করা হয়েছে বলে বুধবার রাতে জানিয়েছিলেন শিক্ষা সচিব মনীশ জৈন। তবে বৃহস্পতিবার মমতার মন্ত্রীর এইরূপ জোর সওয়াল পর যৌথ উদ্যোগের বিষয় কিছুটা স্পষ্ট ধারণা মিলল বলে মত ওয়াকিবহাল মহলের।