পুলিশ টাকা খাচ্ছে, দোষ হচ্ছে কাউন্সিলরদের, বিস্ফোরক অভিযোগ ফিরহাদ হাকিমের
কলকাতা (Kolkata) শহরে বেআইনি নির্মাণের নেপথ্যে পুরসভার (Corporation) এক শ্রেণির কর্মী-অফিসার ও পুলিশের (Police) আঁতাত রয়েছে বলে বহুদিনের অভিযোগ। শনিবার খোদ কলকাতা পুরসভার মেয়র তথা পরিবহণমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম (Firhad Hakim) সেই সত্যতা স্বীকার
শেষ আপডেট: 26 February 2022 12:42
কলকাতা (Kolkata) শহরে বেআইনি নির্মাণের নেপথ্যে পুরসভার (Corporation) এক শ্রেণির কর্মী-অফিসার ও পুলিশের (Police) আঁতাত রয়েছে বলে বহুদিনের অভিযোগ। শনিবার খোদ কলকাতা পুরসভার মেয়র তথা পরিবহণমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম (Firhad Hakim) সেই সত্যতা স্বীকার করে নিলেন। তাঁর মতে, পুরসভার বিল্ডিং বিভাগের নিচুতলার বেশ কিছু লোক আর থানা টাকা খাচ্ছে। আর বদনাম হচ্ছে স্থানীয় কাউন্সিলরের।
বিল্ডিং বিভাগে ঘুঘুর বাসা ভাঙার দায়িত্ব মেয়রেরই। কিন্তু পুলিশ বা থানা তাঁর এক্তিয়ারে নেই। তবে ‘থানা টাকা খায়’ অভিযোগ করে মহানাগরিক তথা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মন্ত্রিসভার প্রবীণ মন্ত্রী কলকাতা পুলিশকে এক প্রকার কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে দিয়েছেন বলে মনে করছেন অনেকেই।
মহানাগরিকের এই অভিযোগ নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানার উদ্দেশে এদিন কলকাতার পুলিশ কমিশনার বিনীত গোয়েলকে ফোন করা হয়েছিল। কিন্তু তিনি ফোন ধরেননি। পুলিশ কমিশনার কোনও প্রতিক্রিয়া জানালে তা এই প্রতিবেদনে আপডেট করা হবে।
শনিবার ‘টক টু মেয়র’ অনুষ্ঠানে বসেছিলেন ফিরহাদ হাকিম। ওই অনুষ্ঠান চলাকালীন আহেরিপুকুর এলাকার বাসিন্দা শেখ আব্দুল করিম তাঁকে ফোন করেন। গত সপ্তাহে একটি বেআইনি নির্মাণ নিয়ে অভিযোগ জানিয়েছিলেন করিম। কর্পোরেশন থেকে সেই সময় আশ্বস্ত করা হয়েছিল যে ওই বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কিন্তু শেষমেশ সেরকম কিছু হয়নি। এদিন ফের টক টু মেয়রে ফোন করে তাঁর অসন্তোষ উগড়ে দেন আহেরিপুকুরের ওই বাসিন্দা।
আরও পড়ুনঃ
বিধানসভা মধ্যরাতেই বসবে, সাংবিধানিক যুক্তি দিয়ে সাফ কথা ধনকড়ের
তা শুনেই ক্ষুব্ধ হন মেয়র। তিনি আধিকারিকদের উদ্দেশে বলেন, ছমাস ধরে অপেক্ষা করলে হবে? ততদিনে তো লোক ওই বেআইনি বাড়িতে ঢুকে যাবে। ফিরহাদ এই প্রসঙ্গেই আরও বলেন, “বিল্ডিং ডিপার্টমেন্টের লোয়ার লেভেল টাকা খায়। অভিযোগ এসেছে মানে রেট আরও বেড়ে যাবে”।
আধিকারদের মেয়র প্রশ্ন করেন, “অভিযোগ আসার পরেও ফলোআপ হয়নি কেন অফিস থেকে? পয়সা বিল্ডিং ডিপার্টমেন্ট খায় আর থানা খায়, দোষ হয় কাউন্সিলরের। কাউন্সিলর কী করে জানবে কোনটা আইনি আর কোনটা বেআইনি বিল্ডিং হচ্ছে? কোনটা অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে বা কোনটা দেওয়া হচ্ছে না?” আধিকারিকদের উদ্দেশে ক্ষোভের সঙ্গে মেয়র আরও বলেন, নোটিস লাগানোর পরেও কী করে বাড়ি হয়ে যাচ্ছে? এরপর হাইকোর্টে গেলে তো পুলিশ কমিশনারকে নিয়ে টানাটানি করবে!
কলকাতার মেয়রের এই মন্তব্য নিয়ে এদিন সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী বলেন, কোথায় দুর্নীতি হয়েছে তা যখন মেয়র জানেনই, তখন ব্যবস্থা নিচ্ছেন না কেন। বাংলায় তাঁদের সরকার চলছে। তিনি মেয়র, আর মুখ্যমন্ত্রীই হলেন পুলিশ মন্ত্রী। আশা করব, দোষীদের খুঁজে বের করে মানুষকে সুরাহা দেবে কলকাতা পুলিশ ও পুরসভা।