দ্য ওয়াল ব্যুরো: গত মাসের শেষের দিকে বিধ্বংসী সাইক্লোন ইয়াস আসার আগে থেকেই শহরের পুরব্যবস্থা নিয়ে বিশেষ সতর্ক ছিল প্রশাসন। জল যাতে না জমে, তা নিয়ে একাধিক বৈঠক, পদক্ষেপ করেছিল পুরসভা। শুধু জল নয়, বিদ্যুৎবিভ্রাট এড়াতেও সিইএসসি এবং পুরসভা যৌথ উদ্যোগে একাধিক পদক্ষেপ করেছিল। গাছের ডাল কাটা হয়েছিল বহু এলাকায়, যাতে তা ভেঙে বিদ্যুতের তার না নষ্ট হয়। ঘটনাচক্রে ইয়াসের তেমন প্রভাব শহর কলকাতায় পড়েনি। সাইক্লোনের পরের দিন ভারী বৃষ্টি হয়েছিল বটে, তাতেও বিশেষ বিপর্যয় ঘনায়নি।
অথচ শহরের পরিস্থিতি বিপর্যস্ত হয়ে গিয়েছে বর্ষার শুরুতেই। আজ দিন দশেক হল রাজ্যে পা রেখেছে বর্ষা। জোড়া নিম্নচাপের ফলায় ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস আগে থেকেই ছিল। দফায় দফায় একাধিক বার সতর্কও করেছে পুরসভা। কিন্তু কার্যক্ষেত্রে ভেসে গেছে শহর। পরশু একরাতের ভারী বৃষ্টিতে জলের তলায় চলে গিয়েছে কলকাতার উত্তর থেকে দক্ষিণ। বেহালা, পার্ক সার্কাস, কলেজ স্ট্রিটে জল থইথই। কোথাও হাঁটুজল আবার কোথাও গোড়ালি ভেজা জলে ডুবেছে রাস্তা।
অবধারিত ভাবেই আঙুল উঠেছে পুরসভার দিকে। এ যেন শত সাজসরঞ্জাম নিয়ে যুদ্ধের ময়দানে নেমে, ডাহা পরাজয়।
এই পরিস্থিতিতে আজ পুরসভায় উচ্চপদস্থ কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন মেয়র ফিরহাদ হাকিম। মূলত শহরের আদিগঙ্গা ও তার পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠক হয়। জানা গেছে, টালি নালার সংস্কারের কাজের জন্য যে টেন্ডার ডাকা হয়েছিল, তাতে একটিমাত্র সাড়া মিলেছে। বিশ্বব্যাংকের কাছে অনুমোদনের জন্য চিঠিও গিয়েছে। সেপ্টেম্বর মাসে ওয়ার্ক অর্ডার বেরোতে পারে। গড়িয়া থেকে দই ঘাট সাড়ে ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই নালা পরিষ্কার করার জন্য ৪০৭ কোটি টাকা খরচ হবে বলে জানা গেছে। সময় লাগবে ৩০ মাস।
জানা গেছে, শহরকে জল যন্ত্রণার হাত থেকে মুক্ত করতে খাল সংস্কারেই জোর দেবে রাজ্য সরকার। প্রাথমিকভাবে সিদ্ধান্ত হয়েছে শহরের গুরুত্বপূর্ণ খালগুলিকে সংস্কার করা হবে। আগামীকালই ইএম বাইপাস সংলগ্ন কেপিটি খাল ও সন্তোষপুর মনি খাল পরিদর্শন করা শুরু করবেন সেচ দফতর ও পুরসভার আধিকারিকরা।
ফিরহাদ এদিন বৈঠকের পরে বলেন, "শীতকালেও টালি নালায় জোয়ারের জল ঢোকে। আদি গঙ্গায় জোয়ার-ভাটা খেলার ক্ষেত্রে সমস্যা আছে। ভাটার সময় জল বেরোনো আর জোয়ারের সময় জল ঢোকার ফ্লো সঠিক থাকছে না। বিশেষজ্ঞদের আমরা এটা দেখতে বলেছি।"
পাশাপাশি তিনি বিদ্যুৎ পরিবহণ প্রসঙ্গে জানান, হরিদেবপুর, পাটুলির মৃত্যুর ঘটনা খুবই দুঃখের। সিইএসসির বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে এই ঘটনা ঘটেছে। তিনি বলেন, "আমাদের লোকেরা গিয়েছে আমি সিইএসসি-কে বলেছি বিষয়টি দেখতে।"
সেই সঙ্গে ফিরহাদ বলেন, খিদিরপুর এলাকায় গতকাল জল জমে ছিল বলে বিদ্যুৎ পরিষেবা বিচ্ছিন্ন রাখতে হয়েছিল। কারন অনেকেই বেআইনিভাবে হুকিং করে। ফলে যে কোনও সময় বিপদ ঘটার সম্ভাবনা থাকে। কিন্তু মানুষের চাপে পড়েই বিদ্যুৎ পরিষেবা চালু করা হয়। "আমি সিইএসসি-কে বলেছি একটু কড়া হতে। পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে এই সমস্ত বেআইনি ট্যাপিং কাটতে বলেছি।"-- বলেন মেয়র।