
শেষ আপডেট: 25 February 2024 22:52
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শেখ শাহজাহান ফেরার। তাঁর নাগাল এখনও পাওয়া যায়নি। এবার সন্দেশখালি কাণ্ডের মূল অভিযুক্তের ভাইয়ের বিরুদ্ধেও হল এফআইআর দায়ের। শেখ সিরাজউদ্দিনের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করেছে পুলিশ। সাধারণ মানুষের অভিযোগ জমা নিতে যে ক্যাম্প তৈরি করা হয়েছে তাতে সিরাজের বিরুদ্ধে একশোটিরও বেশি অভিযোগ জমা পড়েছিল।
জমি জবর দখল থেকে শুরু করে মারধর করা, হুমকি দেওয়া সহ একশোটিরও বেশি অভিযোগ রয়েছে শেখ সিরাজউদ্দিনের বিরুদ্ধে। সমস্ত অভিযোগ খতিয়ে দেখে এফআইআর রুজু করেছে পুলিশ। যদিও দাদা শাহজাহানের মতো এখন সিরাজও বেপাত্তা বলে খবর। তাঁর খোঁজ এখনও পর্যন্ত পায়নি পুলিশ।
গত শুক্রবার থেকেই সিরাজউদ্দিনের বিরুদ্ধে অভিযোগে মুখর ছিল সন্দেশখালির বাসিন্দারা। তাঁকে তৃণমূল কংগ্রেসের অঞ্চল সভাপতির পদ থেকে সরিয়ে দেওয়াও হয়েছিল। তবে তাঁর জায়গায় আরেক শাহজাহান ঘনিষ্ঠ তৃণমূল কংগ্রেস নেতা অজিত মাইতিকে দায়িত্ব দেওয়া হলেও তাঁকেও সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে অজিতকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাঁর বিরুদ্ধেও অভিযোগ কিছু কম নয়।
সন্দেশখালি এলাকায় শাহজাহানের ভাই সিরাজ 'ডাক্তার' নামে পরিচিত। তিনি স্থানীয় তৃণমূল নেতাও। তাঁকে গ্রেফতারির দাবিতেই শুক্রবার সকাল থেকে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল সন্দেশখালির বেড়মজুরের কাছারি এলাকা। স্থানীয়দের দাবি, প্রায় ৪০ বিঘা জমি জোর করে দখল করে নিয়েছে শেখ সিরাজউদ্দিন। চাষের জমিতে রাতারাতি সামুদ্রিক নোনা জল ঢুকিয়ে বানানো হয় মেছো ভেড়ি। প্রতিবাদ করতে গিয়ে জখম হতে হয়েছে অনেককে। এই বিষয়ে পুলিশের ওপরও ক্ষোভ আছে এলাকাবাসীর। কারণ আগে অভিযোগ জানান সত্ত্বেও কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলেই জানিয়েছেন তাঁরা।
সম্প্রতি শেখ সিরাজউদ্দিনের ভেড়ির আলাঘরে আগুন ধরিয়ে দেয় উত্তেজিত গ্রামবাসী। শুধু তাই নয়, শাহজাহানের অনুগামী তৈয়েব খানের মাছের ভেড়ির আলাঘরও পুড়িয়ে দেয় তাঁরা। শাহজাহানের অন্য এক ভাই আলমগীরের বিরুদ্ধেও জমি দখল, মারধর সহ একই অভিযোগ রয়েছে এলাকাবাসীর। এমনকী সন্দেশখালির প্রাক্তন তৃণমূল নেতারাও হুবহু এক অভিযোগ করেছেন শাহজাহান গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে।
সন্দেশখালি কাণ্ডে এই মূহুর্তে গ্রেফতার হয়েছেন শিবু হাজরা, উত্তম সর্দার, অজিত মাইতি। প্রত্যেকের বিরুদ্ধে ঘুরেফিরে একই অভিযোগ রয়েছে। রবিবার সকালে দলের লোকজনের সঙ্গে কথা বলতে গেছিলেন অজিত। সেখান থেকে ফেরার সময়ে গ্রামবাসীদের তাড়া খেয়ে তিনি স্থানীয় এক সিভিক ভলান্টিয়ারের বাড়িতে ঢুকে পড়েন। প্রায় চার ঘণ্টা পর তাঁকে সেখান থেকেই প্রথমে আটক করে পুলিশ, পরে গ্রেফতার হন তিনি। এলাকাবাসীরা এখন অপেক্ষা করছেন শাহজাহানের গ্রেফতারির খবর শোনার।