
বাঁকুড়ায় সুভাষবাবুর হাসপাতালে রোগী বিক্ষোভ। ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 27 April 2024 11:54
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভুল চিকিৎসায় রোগী মৃত্যুর অভিযোগ উঠল কেন্দ্রীয় প্রতি মন্ত্রী সুভাষ সরকারের ছেলে সোমরাজ সরকারের বিরুদ্ধে। গত ২৪ এপ্রিল সুভাষবাবুর ছেলের বিরুদ্ধে বাঁকুড়া থানায় এফআইআর রুজু করেছেন মৃত বধূর স্বামী।
বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতে রাজনৈতিক মহলে শোরগোল তৈরি হয়েছে। কারণ, এবারেও বাঁকুড়া লোকসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী সুভাষ সরকার। ভোটের মুখে এ ঘটনাকে ঘিরে অস্বস্তিতে গেরুয়া শিবিরও।
মন্ত্রীর ছেলের বিরুদ্ধে বাঁকুড়া থানায় এফআইআর রুজু করেছেন মৃত বধূর স্বামী তন্ময় দে। পুলিশকে জানানো অভিযোগে সোমরাজের কঠোর শাস্তি চেয়ে তন্ময় লিখেছেন, "সোমরাজের ভুল চিকিৎসার কারণেই তাঁর স্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে।"
তন্ময়ের আরও অভিযোগ, "পেশায় চিকিৎসক হওয়ার দৌলতে বাঁকুড়া শহরে মন্ত্রী সুভাষ সরকারের হার্দিক মেডিক্যাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার প্রাইভেট লিমিটেড নামে একটি নার্সিংহোম রয়েছে। কোনও সরকারি বৈধ অনুমতি ছাড়াই সোমরাজ সেখানে চিকিৎসক হিসেবে কাজ করতেন।"
মৃত বধূর স্বামীর অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। তবে এ ব্যাপারে সুভাষবাবু বা তাঁর ছেলে সোমরাজের কোনও প্রতিক্রিয়া জানা যায়নি।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাঁকুড়ার লালবাজার কামারপাড়ার বাসিন্দা মৌসুমী দে। অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পর থেকেই তিনি সোমরাজের তত্ত্বাবধানে ছিলেন। তন্ময় জানান, "সোমরাজের কথা মতো গত ২১মার্চ স্ত্রীকে সুভাষবাবুর নার্সিংহোমে ভর্তি করি। রাতে স্ত্রী কন্যা সন্তান প্রসব করেন। রাত ১১ টার পর থেকে স্ত্রীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে শুরু করে। কিন্তু সোমরাজের দেখা মেলেনি। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য সেখান থেকে দুর্গাপুরের একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে স্থানান্তর করা হয়। ২৫ মার্চ সেখানেই স্ত্রী মারা যান।"
ওই ঘটনার পর সে সময় মৃতর পরিজনেরা সুভাষবাবুর হাসপাতালের সামনে দেহ রেখে বিক্ষোভও দেখিয়েছিলেন। এবার দায়ের হল এফআইআর।