দ্য ওয়াল ব্যুরো : আরবিআই, সিবিআইয়ের পরে ন্যাশনাল স্ট্যাটিসটিক্যাল কমিশন। সরকারের সঙ্গে মতভেদের পরে ইস্তফা দিয়েছিলেন রিজার্ভ ব্যাঙ্কের গভর্নর উর্জিত পটেল। সিবিআইয়ের ডিরেক্টর অলোক বর্মাকে সরিয়ে দিয়েছে সরকারই। এবার ন্যাশনাল স্ট্যাটিস্টিক্যাল কমিশনের কার্যনির্বাহী চেয়ারম্যানও সরকারের সঙ্গে মতভেদের জেরে পদত্যাগ করলেন।
ন্যাশনাল স্ট্যাটিসটিক্যাল কমিশনে সরকারের বাইরে দু’জন সদস্য ছিলেন। কার্যনির্বাহী চেয়ারম্যান পি সি মোহানন ছিলেন তাঁদেরই একজন। অপরজনের নাম জে ভি মীনাক্ষী। তাঁরা দু’জনেই কমিশন থেকে বিদায় নিয়েছেন। তাঁদের অভিযোগ, দেশে চাকরির সুযোগ ও বেকারত্ব নিয়ে যে সমীক্ষা করা হয়েছিল, সরকার তার রিপোর্ট প্রকাশ করতে চাইছে না। সম্ভবত নির্বাচনের আগে ওই রিপোর্ট প্রকাশ করা হবে না।
সরকার ইতিমধ্যে পদত্যাগী দুই সদস্যের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। তাঁদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে চেয়েছে। এর পাশাপাশি তথ্য ও পরিকল্পনা রূপায়ন মন্ত্রক থেকে বলা হয়েছে, গত ত্রৈমাসিকে যে তথ্য পাওয়া গিয়েছে, তা এখন ‘প্রসেসিং’ করা হচ্ছে। সেই কাজ শেষ হলেই সব তথ্য প্রকাশ করা হবে। একইসঙ্গে মন্ত্রকের পালটা অভিযোগ, পদত্যাগী দুই সদস্য গত কয়েকমাসে একবারও বলেননি যে, কমিশনের কোনও কাজে তাঁরা অখুশি হয়েছেন।
মোহানন ও মীনাক্ষী, দু’জনেরই ২০২০ সালে অবসর নেওয়ার কথা ছিল। তাঁরা চলে যাওয়ার পরে স্ট্যাটিসটিক্যাল কমিশনে এখন মাত্র দু’জন সদস্য রইলেন। তাঁরা হলেন চিফ স্ট্যাটিসটিশিয়ান প্রবীণ শ্রীবাস্তব এবং নীতি আয়োগের প্রতিনিধি অমিতাভ কান্ত। নিয়মমতো ওই কমিশনে সাতজন সদস্য থাকার কথা। দু’জন ইস্তফা দেওয়ার আগেও সেখানে তিনটি পদ ফাঁকা ছিল।
মোহানন বলেন, আমরা লক্ষ করেছিলাম, কমিশন তার কাজটা ঠিকমতো করতে পারছে না। কিছুদিন ধরে মনে হচ্ছিল, আমাদের কোনও গুরুত্বও নেই। ন্যাশনাল স্ট্যাটিসটিক্যাল কমিশন দেশের একটি শীর্ষস্থানীয় সংস্থা। আমাদের মনে হয়েছিল, এই সংস্থার যা করা উচিত, তা করছে না।
ন্যাশনাল স্যাম্পেল সার্ভে অফিস থেকে ২০১৭-১৮ সালের লেবার ফোর্স সার্ভে রিপোর্ট নিয়ে মোহাননদের সঙ্গে কমিশনের বিরোধ চরমে ওঠে। ওই রিপোর্টে দেশে কর্মসংস্থান ও বেকারত্ব নিয়ে তথ্য রয়েছে।
ন্যাশনাল স্ট্যাটিস্টিক্যাল কমিশনে বিরোধের খবর শুনে সরব হয়েছে বিরোধীরা। প্রবীণ কংগ্রেস নেতা পি চিদম্বরম টুইট করে বলেন, ওই সংস্থাটির মৃত্যু হয়েছে। আমরা তার জন্য শোক জানাই। মৃত্যুর আগে ন্যাশনাল স্ট্যাটিসটিক্যাল কমিশন জিডিপি ও কর্মসংস্থান নিয়ে তথ্য প্রকাশ করার জন্য লড়াই চালিয়েছিল। দেশের আরও একটি সম্মানিত সংস্থার মৃত্যুর জন্য সরকারই দায়ী।