দ্য ওয়াল ব্যুরো : ৩১ অগস্ট অসমে প্রকাশিত হবে চূড়ান্ত জাতীয় নাগরিকপঞ্জি। তার আগে মানুষের আতঙ্ক কাটাতে উদ্যোগ নিল প্রশাসন। বৃহস্পতিবার সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, গুজবে কান দেবেন না। এনআরসি-তে কারও নাম না থাকা মানেই এই নয় যে তিনি বিদেশি। একইসঙ্গে অসম জুড়ে কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। রাজধানী গুয়াহাটি সহ রাজ্যের নানা অঞ্চলে মাইকে ঘোষণা করা হচ্ছে, সবরকম বড় জমায়েত নিষিদ্ধ করা হল।
গত কয়েক দশকে বাংলাদেশ থেকে বহু মানুষ অসমে অনুপ্রবেশ করেছেন। সেই নিয়ে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে অশান্তিও হয়েছে। ২০১৩ সালে সুপ্রিম কোর্ট জাতীয় নাগরিকপঞ্জি সং শোধন করতে বলে। এর ফলে রাজ্যের ৩ কোটি ৩০ লক্ষ মানুষকে প্রমাণ করতে হচ্ছে, ১৯৭১ সালের ২৪ মার্চের আগে তাঁরা অথবা তাঁদের পরিবারের লোকজন ভারতীয় ছিলেন।
এনআরসি-র খসড়ায় ৪১ লক্ষ মানুষকে বাদ দেওয়া হয়েছে। চুড়ান্ত নাগরিকপঞ্জি প্রকাশের আগে সরকারের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, যারাই ওই তালিকা থেকে বাদ যাবেন, তাঁরা ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালে আবেদন করতে পারবেন। ২০ অগস্ট কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক আবেদন জানানোর সময়সীমা বাড়িয়ে করেছে ১২০ দিন। অর্থাৎ চুড়ান্ত নাগরিকপঞ্জি প্রকাশের পরে কেউ বাদ পড়লে তিনি প্রায় চার মাসের মধ্যে ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালে আবেদন করতে পারবেন।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের এক উচ্চপদস্থ অফিসার বলেন, আমরা যত বেশি সম্ভব মানুষকে বোঝাতে চেষ্টা করছি, এনআরসি থেকে বাদ পড়লে সেই সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করা যাবে। ভয় পাওয়ার কোনও কারণ নেই।
অসমের বাসিন্দাদের একটি অংশের আশঙ্কা, এনআরসি থেকে নাম বাদ পড়লে তাঁরা 'রাষ্ট্রহীন' হয়ে পড়বেন। অর্থাৎ কোনও দেশই তাঁদের নাগরিক বলে স্বীকার করবে না। ২০১৮ সালের জুলাই মাসে এনআরসি-র খসড়া তালিকা প্রকাশিত হয়। শনিবার যে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশিত হবে, তা সেই খসড়ারই সংযোজিত অংশ। অসমে গুরুত্বেপূর্ণ রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে বিজেপি, কংগ্রেস ও অল ইন্ডিয়া ইউনাইটেড ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্ট আশঙ্কা করছে, এনআরসি-তে বহু ভারতীয় নাগরিক বাদ যেতে পারেন। আবার অনেক অনুপ্রবেশকারীর নামও তালিকায় থাকতে পারে।