দ্য ওয়াল ব্যুরো : কোচির অদূরে পেরিয়ার নদীর তীরে বানানো হয়েছিল শুটিং-এর সেট। রবিবার রাতে সেখানে ভাঙচুর চালায় এক হিন্দুত্ববাদী সংগঠন। তাদের বক্তব্য, ওই ফিল্ম সেটের উল্টোদিকে আছে একটি শিবমন্দির। ফিল্ম সেটের মধ্যে এমন একটি কাঠামো বানানো হয়েছিল, যা অনেকটা গির্জার মতো দেখতে। হিন্দুত্ববাদীরা আগেই ওই কাঠামো নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিল। কথা না শোনায় তারা ভাঙচুর করেছে।
সোমবার ওই ঘটনায় এফআইআর দায়ের করে পেরুওম্বাভুর থানার পুলিশ। যে সিনেমার জন্য সেট নির্মাণ করা হয়েছিল, তার নাম ‘মিন্নাল মুরলি’। ছবির নায়ক তোভিনো টমাস। ছবির সেট ভাঙচুরের কথা প্রথমে ফেসবুকে জানান হরি পালোডে নামে এক ব্যক্তি। তিনি অন্তঃরাষ্ট্রীয় হিন্দু পরিষদ নামে এক দক্ষিণপন্থী সংগঠনের সদস্য। তিনি জানিয়েছেন, বজরং দলের সদস্যরাও ভাঙচুরে যুক্ত ছিল। হরি পালোডে বলেন, “যখন তারা ওই কাঠামোটি বানাচ্ছিল, তখনই আমরা বারণ করেছিলাম। আমরা অভিযোগও করেছিলাম। আমরা কারও কাছে অনুনয়-বিনয় করতে অভ্যস্ত নই। তাই কাঠামোটি ভেঙে দিয়েছি। আত্মসম্মান বজায় রাখার জন্য আমাদের ওই কাজ করতে হয়েছে।”
কেরলের মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন বলেন, “কেরলে এমন ঘটনা মেনে নেওয়া হবে না। মার্চ মাসে ওই সেট নির্মাণ করা হয়েছিল। লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ হয়েছিল। কিন্তু লকডাউনের ফলে শ্যুটিং হতে পারেনি। এখন শুনছি বজরং দল তার সেট ভাঙচুর করেছে। সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা সৃষ্টির জন্যই এই কাজ করা হয়েছে। কেরলে সাম্প্রদায়িক শক্তিকে বেড়ে উঠতে দেওয়া হবে না।”
‘মিন্নাল মুরলি’ ছবিটি পরিচালনা করছেন ব্যাসিল যোসেফ। তিনি ফেসবুকে লিখেছেন, “কী বলব জানি না। কেই কেউ হয়তো পুরো ব্যাপারটাকেই মজা হিসাবে নেবে। আমাদের কাছে ওই সিনেমা ছিল স্বপ্নের প্রজেক্ট। আমরা দু’বছর ধরে ওই ফিল্মের শ্যুটিং করছি।”