
শেষ আপডেট: 2 October 2019 11:59
একমেটে, দোমেটে থেকে ধীরে ধীরে পূর্ণ অবয়ব ধারণ করেন মহিষমর্দিনী মহামায়া। অসুরনাশিনী কাত্যায়নীর এই ভুবনমোহিনী মৃন্ময়ী রূপ ফুটিয়ে তুলতে শাস্ত্রমতে কয়েকটি বিশেষ উপকরণ লাগে।যেগুলি ছাড়া দুর্গাপ্রতিমা গড়া সম্ভব নয়।
পবিত্রতার প্রতিমূর্তি মা দুর্গার মূর্তি তৈরি করতে প্রথমেই লাগে বিশেষ কিছু জায়গার মাটি। রাজবাড়ির মাটি, চৌমাথার মাটি, গঙ্গার দুই তীরের মাটি ও তথাকথিত ‘অশুচি’ এলাকা নিষিদ্ধপল্লীর মাটি৷ এর সঙ্গে লাগে গাভীর মূত্র, গোবর, ধানের শিস, পবিত্র গঙ্গার জল।
পুজোর কয়েক মাস আগে থেকেই মৃৎশিল্পীরা বিভিন্নভাবে যোগাড় করতে শুরু করেন এই সমস্ত উপাদানগুলি। নিষিদ্ধপল্লীতে থাকা বারাঙ্গনার ঘরের দরজার বাইরে থেকে মাটি সংগ্রহ করা হয় এবং এই আচার পালন করা হয়ে চলেছে প্রাচীন কাল থেকে।
অন্যদিকে পুরুষের মানুষের কামনা, বাসনা, লালসার গরল গ্রহণ করে তথাকথিত পতিতারা সমাজকে বিষমুক্ত করেন, নিষ্কলুষ রাখেন, পুণ্যার্জন করেন। তাঁদের পদধূলিও লেগে থাকে তাঁদের ঘরের দরজার বাইরের মাটিতে। তাই এ মাটি পবিত্রতম।
কিন্তু রাজন্যবর্গদের পেশি ও আর্থিকশক্তির বিরুদ্ধে লড়ার ক্ষমতা ছিল না প্রাচীন হিন্দু শাস্ত্রজ্ঞদের। এই অভিশপ্ত পেশার বিলোপ ঘটানোও সম্ভব ছিল না। তাই তাঁরা সুকৌশলে সমাজের এই সব দুঃখিনী নারীর সমাজের পবিত্রতম অনুষ্ঠানে অঙ্গীভূত করে সমাজকে চাবুক মেরে গেছেন।
যাঁদের জীবনে দিন ও রাত আসে কেবল বঞ্চনার পাখা মেলে, শারদ উৎসবের দিনগুলিতে হয়তো তাঁরা মা দুর্গার শরীরে অঙ্গীভূত হওয়ার তৃপ্তি অনুভব করেন। ভোররাতে সবার নজর এড়িয়ে ফাঁকা প্যান্ডেলে দুর্গাপ্রতিমার সামনে কুণ্ঠিতভাবে দাঁড়িয়ে এই অভিশপ্ত জীবন থেকে মুক্তি কামনা করেন। চোখ বুজে প্রার্থনা করেন,"সামনের জন্মে যেন বাবুদের বাড়ির বউদের মতো বিজয়া দশমীতে সিঁদুরখেলা খেলতে পারি মা"।
নিচের ছবিতে ক্লিক করুন, দ্য ওয়ালের পুজো ম্যাগাজিন পড়ুন বিনামুল্যে।