
শেষ আপডেট: 24 September 2019 13:01
আমেরিকার নেভাডা স্টেটের দক্ষিণে, লাস ভেগাস থেকে ১৫০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে পাহাড়ঘেরা মরুভূমির মধ্যে ২৯ লক্ষ একর জায়গা জুড়ে আছে Nevada Test and Training Range । পৃথিবীতে আধুনিক মারণাস্ত্রের সবচেয়ে বড় পরীক্ষাগার। এখানে আমেরিকা নাকি পাঁচশোর বেশি পারমাণবিক বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে। তার মধ্যে একশোর বেশি বিস্ফোরণ হয়েছে মাটির ওপরে। এবং এখানেই অবস্থান করছে পৃথিবীর সবচেয়ে গোপন ও সবচেয়ে রহস্যময় এলাকা এরিয়া-৫১।
[caption id="attachment_144654" align="alignnone" width="992"]
এরিয়া-৫১ ঘাটির প্রবেশপথ[/caption]
পৃথিবীর মানুষকে আমেরিকা দীর্ঘদিন ধরে জানিয়ে আসছে, এরিয়া-৫১ হল তার সবচেয়ে সুরক্ষিত সামরিক বিমান ঘাঁটি। ১৯৫৫ সালের আগস্ট মাসে এরিয়া-৫১ থেকে আমেরিকার বিখ্যাত U-2 গুপ্তচর বিমান উড়ান শুরু করেছিল। তারপর থেকে আমেরিকা এখানে A-12 Oxcart, D-21, SR-71 Blackbird , F-117 Nighthawk, Bird of Prey, F-117A এবং Tacit Blue নামের অত্যাধুনিক গুপ্তচর বিমানগুলির পরীক্ষানিরীক্ষা চালিয়ে আসছে।
[caption id="attachment_144665" align="alignnone" width="702"]
রাতের অন্ধকারে উজ্বল গ্রুম লেক ও পাপুস লেকের মাঝে এরিয়া-৫১[/caption]
সদা সতর্ক ক্যামো ডুড ( ১০ কিলোমিটার দূর থেকে তোলা ছবি )[/caption]
এরিয়া-৫১ এর কাছে যাওয়ার উপায় নেই। ঘাতক M16 হাতে নিয়ে পাহারা দিচ্ছে হাজার হাজার ক্যামো ডুড। বারণ সত্ত্বেও এরিয়া-৫১ এর কাছে কেউ আসার চেষ্টা করলে সরাসরি গুলি করে মেরে ফেলার অনুমতি দেওয়া আছে তাদের।
তাই অতি উৎসাহীদের সাবধান করতে, এরিয়া-৫১ এর চারধারে লাগানো আছে নোটিশ। সেখানে লেখা আছে Use of deadly force Authorized। যার মর্মার্থ হচ্ছে, বারণ সত্ত্বেও ভেতরে ঢুকতে গেলে নিশ্চিত মৃত্যু।
আমেরিকার সবচেয়ে সুরক্ষিত কিছু জায়গা যেমন পেন্টাগন, হোয়াইট হাউস, নাসার সদর দপ্তর ও বিভিন্ন লঞ্চ প্যাডে অনুমতি নিয়ে সাধারণ মানুষ ঢুকতে পারলেও এরিয়া-৫১ এর ত্রিসীমানায় মিডিয়া ও জনসাধারণের প্রবেশাধিকার নেই।
[caption id="attachment_144661" align="aligncenter" width="770"]
চারিদিকে ঝোলানো আছে সতর্কবাণী[/caption]
● লাজার আরও বলেছিলেন এরিয়া-৫১ ঘাটিতে এমন কিছু মৌলিক পদার্থ নিয়ে গবেষণা করা হয় যা আবিষ্কারের কথা আমেরিকা বিশ্বকে জানায়নি। লাজারের মতে সুপারনোভা বা বাইনারি স্টার সিস্টেম থেকে আমেরিকা সম্ভবত এমন একটি মৌলিক পদার্থ সংগ্রহ করতে পেরেছে, যে পদার্থের মাত্র এক কেজি দিয়ে ১০ মেগাটনের ৪৭টি হাইড্রোজেন বোমা বানানো যাবে।
● এরিয়া-৫১ নিয়ে আরেকটি বোমা ফাটান এই বিজ্ঞানীই। তিনি এক টিভি সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন এই এরিয়া-৫১ ঘাটির ভেতরে ভিনগ্রহবাসীদের ধ্বংস হয়ে যাওয়া একটি আকাশযান আছে। দুর্ঘটনায় মৃত এক এলিয়েনের শরীর ব্যবচ্ছেদ করে নাকি জানা গেছে ঐ প্রাণীটি এসেছে রেটিকুলাম-৪ নামের এক জ্যোতিষ্ক থেকে। উচ্চতায় প্রাণীটি সাড়ে তিন ফুট, রোমহীন শীর্ণ শরীর, কালো বড় বড় চোখ।
[caption id="attachment_144677" align="aligncenter" width="1241"]
The Extraterrestrial Highway, এখান থেকেই নাকি দেখা যায় ভিনগ্রহবাসীদের আকাশযান[/caption]
বিল কেসিং-এর সেই দুনিয়া কাঁপানো বই[/caption]
'ষড়যন্ত্র-তত্ত্বে' বিশ্বাসীদের মতে ষাটের দশকের শেষের দিকে নাসার বিজ্ঞানীরা বুঝতে পারেন যে, তীব্র মহাজাগতিক তেজস্ক্রিয়তার জন্য চাঁদের বুকে পা ফেলা কোনও মানুষ পৃথিবীতে বেঁচে ফিরতে পারবেন না। সম্মানহানির ভয়ে নাসা আশ্রয় নিয়েছিল বিজ্ঞানের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জালিয়াতির।
[caption id="attachment_144702" align="aligncenter" width="620"]
বিল কেসিং[/caption]
১৬ জুলাই ১৯৬৯, কেপ কেনেডি লঞ্চ স্টেশন থেকে চাঁদের পথে রওনা হয়েছিল নাসার অ্যাপেলো-১১ মহাকাশযান। ষড়যন্ত্র-তত্ত্বে' বিশ্বাসীদের মতে, অ্যাপোলো-১১ উপস্থিত মানুষজনের চোখের বাইরে চলে যাওয়ার পর, একটি মিলিটারি এয়ারক্রাফটে করে অতি গোপনে নিল আর্মস্ট্রংদের নিয়ে যাওয়া হয়েছিলো এরিয়া-৫১ এলাকায়।
সেখানে আগে থেকেই প্রস্তুত করা ছিল চাঁদের মাটি ও পরিবেশ। কারণ, অভিযানের আগে, চন্দ্রাভিযান সম্বন্ধীয় যন্ত্রপাতি, যেমন রোভার ও বিভিন্ন জীবনদায়ী যন্ত্রপাতির পরীক্ষানিরীক্ষা এখানেই হয়েছিল।
কয়েকদিন ধরে সেখানেই 'চাঁদের বুকে মানুষের পা' ভিডিয়োটির শ্যুটিং করা হয়। ক্যামেরার সামনে নিখুঁত অভিনয় করেন নীল আর্মস্ট্রং এবং বাজ অলড্রিন। বিশ্বের মানুষকে নাসা জানায়, ২০ জুলাই চাঁদের মাটিতে পা রেখেছে নিল আর্মস্ট্রং ও বাজ অল্ড্রিনের। প্রমাণ হিসেবে এরিয়া-৫১ ঘাটিতে তোলা সেই ভিডিওই বিশ্বজুড়ে প্রচারের ব্যবস্থা করে নাসা।
কিন্তু, ওপরের সবকটি তথ্য মিথ্যে বলে প্রমাণ করতে চেয়েছে আমেরিকা। নাসা বিশ্বকে দেখিয়েছে তাদের অ্যাপোলো মিশনের ৬ টি মহাকাশযান, চাঁদ থেকে প্রায় ৩৮২ কেজি ওজনের পাথর পৃথিবীতে নিয়ে এসেছিল। অর্থাৎ চাঁদে সত্যিই নেমেছিল নাসার মহাকাশযান।
তবু প্রশ্ন রয়ে গেল একটাই। এমন কী আছে এরিয়া-৫১ এর ভেতরে, যার জন্য বারণ না শোনা মানুষকে বিনা বিচারে সরাসরি ও সঙ্গে সঙ্গে মেরে ফেলার অনুমতি দিয়েছে আমেরিকা?