তালিকায় নাম নেই, এসআইআর আতঙ্কে হার্ট অ্যাটাক! সরকারি সাহায্যের আশায় বিডিও দফতরে ছুটলেন তরুণী।

কালনার ওই ব্যক্তি
শেষ আপডেট: 9 November 2025 11:56
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এসআইআরের মূল পর্ব শুরু হতেই রাজ্যের নানা প্রান্ত থেকে একের পর এক মৃত্যুর খবর উঠে আসছে। তৃণমূলের দাবি, সিংহভাগ ক্ষেত্রেই এর নেপথ্যে কাজ করছে আতঙ্ক। বিজেপির বক্তব্য, সাধারণ রোগে মৃত্যুকেও এখন এসআইআরের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হচ্ছে। এই রাজনৈতিক তরজার মধ্যেই সরকারি সাহায্যের আবেদন জানিয়ে প্রশাসনের দ্বারস্থ হল কালনার এক পরিবার। তাদের দাবি, এসআইআর আতঙ্কেই স্ট্রোক হয়েছে পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী সদস্যের।
ঘটনাটি কালনা শহরের মহাপ্রভুপাড়া এলাকার। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সেখানে ভাড়া থাকেন ক্ষিতীশ শর্মা (৫৬)। পেশায় গাড়ি চালক। পরিবারের অভিযোগ, এসআইআর তালিকায় নিজের নাম না-থাকায় ভয় পাচ্ছিলেন ক্ষিতীশবাবু। পরিবার মনে করছে, সেই মানসিক চাপ থেকেই ২৯ অক্টোবর স্ট্রোক হয় তাঁর। ভর্তি করা হয় কালনা হাসপাতালে। বর্তমানে কিছুটা সুস্থ হলেও চিকিৎসকের পরামর্শে মাস দেড়েকের জন্য বিছানায় বিশ্রামেই আছেন তিনি।
ক্ষিতীশবাবুর মেয়ে জানিয়েছেন, ‘আমাদের পরিবারের একমাত্র রোজগেরে বাবা। এসআইআর আতঙ্কে স্ট্রোক হয়েছে। সরকারি সাহায্য চেয়ে আমরা উপপুরপ্রধানের কাছে গিয়েছি। পরে বিডিও দফতরেও আবেদন জানিয়েছি।’
পরিবারের আরও অভিযোগ, ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় ক্ষিতীশবাবুর নাম নেই। ছোটবেলায় বাবা-মা মারা গিয়েছিলেন। ফলে তাঁদের লিঙ্কও মিলছে না। সেই কারণেই আতঙ্কে ভুগছিলেন। ক্ষিতীশবাবু নিজেও বলেন, ‘আমার মা-বাবা কেউই বেঁচে নেই। এক ভদ্রলোক আমাকে ছোটবেলায় কালনায় নিয়ে এসে মানুষ করেছিলেন। এখন সবাই বলছে আমার নাম তালিকায় নেই। মেয়েদের ভবিষ্যৎ কী হবে তা ভেবে দুশ্চিন্তায় ছিলাম।’
এই ঘটনার পর প্রশাসনের অন্দরে শুরু হয়েছে চাপানউতর। স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, ‘এসআইআরের আতঙ্কে মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়ছেন, এটা অস্বাভাবিক কিছু নয়।’ বিজেপির বক্তব্য, ‘সরকারি প্রকল্পে অদক্ষতার কারণে সাধারণ মানুষ বিভ্রান্ত হচ্ছেন।’