
শেষ আপডেট: 6 November 2023 16:26
দ্য ওয়াল ব্যুরো, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: ডেকরেটর্সের ব্যবসার আড়ালে চলত বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র তৈরির কারখানা। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে সেখানে হানা দিল স্পেশাল টাস্কফোর্স ও বারুইপুর জেলা পুলিশ। উদ্ধার হয়েছে একাধিক আগ্নেয়াস্ত্র ও অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম। পুলিশের জালে ধরা পড়েছে বাবা-ছেলে সহ তিন অভিযুক্ত।
ঘটনা জানাজানি হতেই শোরগোল পড়ে বাসন্তীর আমঝাড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের তিতকুমার ভারতীর মোড়ে। এই এলাকায় বাড়ি ইশতেহার গায়েনের। সবাই জানতেন ডেকরেটর্সের ব্যবসা আছে তাঁর। পুলিশের অভিযোগ, সেই ব্যবসার আড়ালে বাড়িতে বেআইনি অস্ত্র কারখানা চালাচ্ছিল ইশতেহার গায়েন, তার ছেলে হাসানুর গায়েন ও রিয়াজুল খান নামে আরও একজন। এখান থেকে বিভিন্ন এলাকায় অস্ত্র সরবরাহ করা হত এবং অস্ত্র তৈরির জন্য বরাত নেওয়া হত।
গোপন সুত্রে এই বেআইনি অস্ত্র কারখানার হদিশ পায় এসটিএফ ও বারুইপুর জেলা পুলিশ। রবিবার বাত দেড়টা নাগাদ বাসন্তী থানার পুলিশ ও টাস্কফোর্সের বিশাল বাহিনী ইশতেহারের বাড়িতে যৌথ অভিযান চালায়। কারখানায় মেলে তিনটি ছোট বন্দুক,একটি বড় বন্দুক এবং আগ্নেয়াস্ত্র তৈরির বেশকিছু সরঞ্জাম। তিনজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ধৃতদের সোমবার আদালতে তোলা হয়।
হাসানুরের স্ত্রী আর্জিনা গায়েন জানিয়েছেন, তাঁর শ্বশুর ইশতেহার গায়েন বাড়িতেই সাইকেল সারানোর কাজ করতো। স্বামী ছিল ডেকরেটর্স। তিনি বলেন, “শ্বশুর সাইকেল সারাইয়ের পাশাপাশি অস্ত্র কারখানা চালাত এবং বন্দুক তৈরি করত। কোথায় কোথায় অস্ত্র বিক্রি করত এবং কাদের কাছে সে সম্পর্কে আমরা কিছুই জানি না। অনেকবার শ্বশুরকে এমন কাজ করতে নিষেধ করেছিলাম। বলেছিলাম বয়স হয়েছে, ওই সমস্ত কাজ করতে হবে না। শোনেননি।রবিবার রাতে পুলিশ আমার স্বামী, শ্বশুর ও এক প্রতিবেশীকে ধরে নিয়ে গেল। আমার স্বামী নির্দোষ।”
ধৃতদের হেফাজতে নেওয়ার জন্য এদিন আদালতে আবেদন জানায় পুলিশ। আধিকারিকরা জানান, ধৃতরা কাদের কাছে এবং কোথায় আগ্নেয়াস্ত্রগুলি বিক্রি করত তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আর কে কে এই কারবারের সঙ্গে জড়িত, জানতে ধৃতদের আরও জেরা করা দরকার।