দ্য ওয়াল ব্যুরো: কৃষিঋণ শোধ করতে না পারলেও কোনও চাষিদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করা হবে না বলে আশ্বাস দেওয়া হল নয়া দিল্লির কংগ্রেসের সদর দফতরে প্রকাশিত জাতীয় কংগ্রেসের নির্বাচনী ইস্তাহারে। এই ইস্তাহার প্রকাশকে কেন্দ্র করে কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন। একপাশে মা সনিয়া গান্ধী ও অন্যপাশে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং–কে বসিয়ে ইস্তাহারের প্রধান বক্তব্যগুলি সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরে আগামী দিনে কংগ্রেসের দিশা নির্দিষ্ট করে দেন কংগ্রেসের সভাপতি। উগ্র জাতীয়তাবাদ এবং যুদ্ধের আবহের বিপরীতে কংগ্রেসের বিকল্প রাজনৈতিক বয়ান দেশের বেরোজগারি এবং চাষিদের দুরবস্থার সমাধান একথা জানিয়ে রাহুল গান্ধী বলেন, বিজেপি বলেছিল কৃষিঋণ মুকুব করা সম্ভব নয় কিন্তু কংগ্রেস তিন রাজ্যে সেই ঋণ মুকুব করে দেখিয়ে দিয়েছে বিজেপি যা পারে না কংগ্রেস সেটা পারে।
সাংবাদিক সম্মেলনে ইস্তাহার প্রকাশ উপলক্ষে কংগ্রেস সভাপতি বলেন, ''আমরা এই ইস্তাহারের কাজ এক বছর আগে থেকে শুরু করেছিলাম। আমি চিদাম্বরম এবং গৌড়াকে বলেছিলাম, এই ইস্তাহার বন্ধ ঘরে বসে রচিত হবে না, নির্বাচনী ইস্তাহারে যেন দেশের মানুষের আশা আকাঙ্ক্ষা প্রতিফলিত হয়। আমি এও বলেছিলাম যে ইস্তাহারে প্রকাশিত সমস্ত বক্তব্যই যেন সত্যের অনুসারী হয়। একটি মিথ্যে কথাও যেন তার মধ্যে না থাকে কারণ প্রতিদিন প্রধানমন্ত্রীর অজস্র মিথ্যে কথা আমরা শুনে চলেছি।''
১০০ দিনের কাজের বদলে একই প্রকল্পে ১৫০ দিনের কাজ দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে কংগ্রেসের নির্বাচনী ইস্তাহারে। বেরোজগারি সমস্যা মোকাবিলায় ইস্তাহারের দ্বিতীয় ঘোষণা সরকারি দফতরে ২২ লক্ষ শূন্য পদে লোক নিয়োগ করা হবে। যে সব কৃষক ঋণ পরিশোধ করতে পারবে না তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করা যাবে না ফলে ঋণ ফেরতে অপারগ কৃষকদের জেলে যাওয়ার সম্ভাবনাও থাকবে না বলে আশ্বাস রয়েছে ইস্তাহারে। কংগ্রেস ক্ষমতায় এলে 'গব্বর সিং ট্যাক্স'কে যথার্থ গুডস অ্যান্ড সার্ভিস ট্যাক্সে পরিবর্তিত করবে বলে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ একাধিক হারের বদলে একই হারে ট্যাক্স নেওয়া হবে যার ফলে ছোট ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা লাভবান হবেন বলে আশা প্রকাশ করেন কংগ্রেস সভাপতি।
বিরোধী জোট নির্বাচনে জয়লাভ করলে প্রধানমন্ত্রী কে হবেন, সাংবাদিকদের এই প্রশ্নের উত্তরে কংগ্রেস সভাপতি জানান, ''সেটা নির্ভর করছে দেশের মানুষের ওপর, আমার ওপর নয়। প্রশ্নটি আপনাদের দেশের মানুষকে করা উচিৎ।''