দ্য ওয়াল ব্যুরো: সারা দেশের একটা বড় অংশের মানুষদের সমর্থন আগেই পেয়েছিলেন আন্দোলনকারী কৃষকরা। এবার তাঁদের পাশে দাঁড়াল খোদ সুপ্রিম কোর্ট। শীর্ষ আদালত জানিয়ে দিয়েছে, কৃষক আন্দোলনের যথেষ্ট যুক্তিযুক্ত কারণ রয়েছে। কৃষি আইন বদল চেয়ে তাঁদের লড়াই করার অধিকারও আছে বলে জানিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।
আজ ২৩-তম দিনে পড়ল দিল্লির সিঙ্ঘু সীমান্তে কৃষকদের আন্দোলন। দফায় দফায় কেন্দ্রের সঙ্গে আলোচনার পরেও কোনও সমাধান দূরের কথা, বরং তেজ বেড়ে চলেছে আন্দোলনের। কৃষক আন্দোলনের জেরে রাজধানীতে যাতায়াতের পথে সমস্যা-সহ নানা অভিযোগ তুলে একাধিক জনস্বার্থ মামলা করা হয়। উল্টো দিতে, নতুন তিনটি কৃষি আইন বাতিলের দাবি তুলে মামলা দায়ের করেছিল কৃষক সংগঠনগুলিও। সেই মামলাগুলির একসঙ্গে শুনানি চলছে।
তাতে শীর্ষ আদালত জানাল, আন্দোলনের অধিকার থাকলেও, এভাবে রাজধানী শহর অবরুদ্ধ হয়ে থাকতে পারে না দিনের পর দিন। আজ, বৃহস্পতিবার শীর্ষ আদালত এ সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে বিচারপতি জানান, কৃষিবিশেষজ্ঞ ও কৃষক সংগঠনের নেতাদের নিয়ে একটি নিরপেক্ষ ও স্বাধীন প্যানেল তৈরি করে বিষয়টির নিষ্পত্তির কথা ভাবছেন তাঁরা।
প্রধান বিচারপতি এসএ বোবদে বলেন, "কৃষি আইনের বিরুদ্ধে কৃষকদের যে প্রতিবাদ, আমরা স্পষ্ট ভাবেই তার স্বীকৃতি দিচ্ছি। আন্দোলনকে খর্ব করার কোনও প্রশ্নই নেই। কিন্তু এতে কারও জীবনের বা সম্পত্তির ক্ষতি হলে তা মেনে নেওয়া যায় না। যতক্ষণ না একটা সিদ্ধান্তে আসা যাচ্ছে কৃষকরা শান্তিপূর্ণ ভাবে আন্দোলন চালিয়ে যেতে পারেন, এবং পুলিশ যেন তাঁদের কিছু না করেন।"
বিচারপতি আরও বলেন, "কৃষকদের আন্দোলনের মৌলিক অধিকারই প্রথম বিচার্য। আইনের বৈধতা পরেও বিচার করা যাবে। আমরা লক্ষ করেছি, কেন্দ্র কৃষকদের কিছুই বুঝিয়ে উঠতে পারেনি। আমাদের মনে হয় না কৃষকরা কেন্দ্রের কথা মেনে নেবে। তাই একটি আলাদা কমিটি গড়াই শ্রেয়।"
তবে আন্দোলনকারী কৃষকদের উদ্দেশেও এদিন বিশেষ বার্তা দিয়েছেন বিচারপতি বোবদে। তিনি বলেন, "রাস্তার অবরোধ তুলতে হবে। এতে দিল্লির সাধারণ মানুষদের অন্ন সংস্থানে সমস্যা হচ্ছে। আমরা আপনাদের আন্দোলনের সমব্যথী। কিন্তু এটার পদ্ধতি বদল করতে হবে। একটা সমাধান খুঁজতে হবে। আমরা আপনাদের প্রতিবাদে নাক গলাব না। তাই আপনাদেরই ঠিক করতে হবে কী করণীয়। দীর্ঘ সময় ধরে এমন অবরোধ তো চলতে পারে না।"
এদিন টিকরি সীমান্তে আরও এক বিক্ষোভকারী কৃষকের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ৩৮ বছরের ওই যুবক বৃহস্পতিবার সকালে বিক্ষোভস্থলেই মারা যান। জয় সিং নামে ওই কৃষক ভাটিন্ডার বাসিন্দা।