দ্য ওয়াল ব্যুরো : বৃহস্পতিবার দিল্লির যন্তর মন্তরে 'কিষাণ সমাবেশ' করার অনুমতি চেয়েছিল কৃষি আইনের বিরুদ্ধে আন্দোলনকারী সংগঠনগুলি। দিল্লির কেজরিওয়াল সরকার জানাল, কোভিড বিধি মেনে কৃষকরা সমাবেশ করলে আপত্তি নেই। কিষাণ সংসদ নিয়ে সতর্ক আছে দিল্লি পুলিশও। ২৬ জানুয়ারির মতো পরিস্থিতি যাতে হাতের বাইরে না যায়, সেজন্য সবরকম ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। কৃষকরা স্থির করেছেন ছোট ছোট মিছিল করে তাঁরা সিংঘু সীমান্ত থেকে সংসদের উদ্দেশে রওনা হবেন। পুলিশ এসকর্ট করে তাঁদের নিয়ে যাবে যন্তর মন্তরে।
কোভিড অতিমহামারীর জন্য দিল্লি জুড়ে এখন জারি রয়েছে দিল্লি ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অ্যাক্ট। সেই আইন অনুযায়ী কোনও সমাবেশ করা নিষিদ্ধ। কিন্তু কিষাণ সংসদের জন্য সেই আইনে ছাড় দেওয়া হয়েছে। নতুন কৃষি আইনের বিরুদ্ধে ২০২০ সালের নভেম্বর থেকে আন্দোলনে নেমেছে বিভিন্ন কৃষক সংগঠন। তাদের যৌথ মঞ্চের নাম সংযুক্ত কিষাণ মোর্চা। সেই মোর্চাই কিষাণ সংসদ করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। স্থির হয়েছে, কিষাণ সংসদ চলবে ১৩ অগাস্ট পর্যন্ত। ওইসময় সংসদের বাদল অধিবেশন শেষ হবে।
ভারতীয় কিষাণ ইউনিয়নের সদস্য মনজিৎ সিং রাই বলেন, "কিষাণ সংসদে সবকিছুই হবে সংসদীয় রীতিনীতি মেনে। সেখানে স্পিকার থাকবেন, ডেউটি স্পিকার থাকবেন। টি-ব্রেকও হবে।" কিষাণ সংসদে অংশগ্রহণকারীরা সকলেই পরিচয়পত্র নিয়ে আসবেন। পুলিশ যদি তাঁদের বাধা দেয়, তাঁরা গ্রেফতার বরণ করবেন। সংযুক্ত কিষাণ মোর্চার সদস্য রামিন্দর পাতিয়ালা বলেন, "আমরা কৃষকদের বলেছি, তাঁরা যেন ছ'মাস পর্যন্ত কারাবরণের জন্য প্রস্তুত থাকেন। তাও অনেকে মিছিলে যাওয়ার জন্য উৎসাহ দেখাচ্ছেন।"
কৃষকদের যাতে শান্তিপূর্ণভাবে যন্তর মন্তর অবধি পৌঁছে দেওয়া যায়, তার ব্যবস্থা করছে দিল্লি পুলিশে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য পুলিশের পাশাপাশি মোতায়েন করা হচ্ছে আধা সেনা। একটি সূত্রে জানা গিয়েছে, কৃষকরা বিকাল পাঁচটায় যন্তর মন্তর থেকে ফিরে আসবেন।
বুধবার সংযুক্ত কিষাণ মোর্চার বিবৃতিতে বলা হয়, কেরল থেকে কৃষকরা দু'টি দলে বিভক্ত হয়ে দিল্লিতে আসছেন। এখানে তাঁরা কিষাণ সংসদে যোগ দেবেন। এছাড়া কর্নাটক, তামিলনাড়ু ও অন্যান্য রাজ্য থেকেও কৃষকরা আসছেন রাজধানীতে। সিরসায় সর্দার বলদেব সিং সিরসার অনশন বুধবার চারদিনে পড়ল। এদিন সকালে বিক্ষোভকারীরা দু'ঘণ্টার জন্য হাইওয়ে অবরোধ করেন। তবে কৃষকরা জানিয়ে দিয়েছেন, বৃহস্পতিবার সংসদ ঘেরাও করার কর্মসূচি তাঁদের নেই।