দ্য ওয়াল ব্যুরো : মঙ্গলবার রাতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে কৃষক নেতাদের বৈঠকে কাটেনি জট। বুধবার জানা গেল, দিল্লি-হরিয়ানা সীমান্তে সিংঘু অঞ্চলে কৃষক নেতারা নিজেদের মধ্যে বৈঠকে বসবেন। ওই অঞ্চলে গত ১৪ দিন ধরে কৃষকরা বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন। ভারতীয় কিষাণ ইউনিয়নের নেতা রাকেশ টিকায়েত বলেন, "সরকার আমাদের একটি খসড়া পাঠিয়েছে। তা নিয়ে আলোচনা হবে। আমরা পরবর্তী কর্মসূচি স্থির করব। আশা করা যায়, বিকাল চারটে থেকে পাঁচটার মধ্যে সব ঠিক হয়ে যাবে।"
এদিন কৃষক নেতারা যেখানে আলোচনায় বসবেন, সেই সিংঘুতেই এক কৃষক মারা গিয়েছেন। বুধবার সকালে তাঁর দেহটি পাওয়া যায়। মৃতের নাম অজয় মোরে। বয়স ৩২। বাড়ি ছিল হরিয়ানার সোনেপতে। সম্ভবত হাইপোথার্মিয়া রোগে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। অজয়ের বাড়িতে আছেন তাঁর বয়স্ক বাবা-মা ও স্ত্রী। এছাড়া আছে তাঁর পাঁচ ছেলেমেয়ে। কৃষক বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পরে অন্তত পাঁচজনের মৃত্যুর খবর মিলেছে।
সরকারের তরফে বলা হয়েছে, তাঁরা কৃষি আইনে কিছু সংশোধনী আনতে পারেন। কিন্তু কৃষকরা চান আইনের সম্পূর্ণ প্রত্যাহার। তাই কোনও সিদ্ধান্তে আসা যাচ্ছে না। তার উপর বুধবার কৃষক ও সরকারের মধ্যে যে বৈঠক হওয়ার কথা ছিল তা বাতিল হয়েছে।
সূত্রের খবর, মঙ্গলবারের বৈঠকে কেন্দ্রের তরফে কৃষক সংগঠনগুলির কাছে একটি প্রেজেনটেশন দেওয়া হয়। সেইসঙ্গে এই আইনগুলিতে সরকার কী কী সংশোধনী আনতে পারবে ও অন্যান্য প্রস্তাব লিখিত আকারে বুধবার কৃষক সংগঠনগুলির কাছে পাঠানো হবে বলে খবর।
অল ইন্ডিয়া কিষাণ সভার সাধারণ সম্পাদক হান্নান মোল্লা মঙ্গলবারের বৈঠকের পরে বলেন, “কৃষক ও সরকারের মধ্যে বুধবার কোনও বৈঠক হচ্ছে না। কৃষক নেতারা একসঙ্গে বসে আগামী পরিকল্পনা ঠিক করবেন।”
গত শনিবারই কৃষকদের সঙ্গে কেন্দ্রের বৈঠক হয়েছে দীর্ঘ সাত ঘণ্টার। কিন্তু আন্দোলনের কোনও সমাধানসূত্র বেরোয়নি সেখানে। কৃষক পক্ষের তরফে অবস্থানে অনড় আন্দোলনকারীরা। সেপ্টেম্বর মাসে পাস হওয়া তিনটি নতুন কৃষি আইন প্রত্যাহার না করা হলে তাঁরা কোনও রকম ভাবেই আপস করবেন না। কর্পোরেটদের প্রবেশ তাঁরা মেনে নেবেন না কোনও কিছুর বিনিময়ে।
কেন্দ্রীয় কৃষি মন্ত্রী নরেন্দ্র তোমর এই আলোচনায় সরকার পক্ষের তরফে মুখ্য ভূমিকায় ছিলেন। তিনি জানিয়েছেন, সরকারের কোনও ইগো নেই, কিন্তু সরকার কৃষকদের সমস্ত দাবিই মানতে রাজি কেবল কৃষিবিল প্রত্যাহার করা ছাড়া।