দ্য ওয়াল ব্যুরো : সরকারের থেকে জলগ্রহণ করবেন না। চা, জলখাবার তো নয়ই। এমনই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন দিল্লির আন্দোলনরত কৃষকরা। বৃহস্পতিবার সরকারের সঙ্গে বৈঠকের সময় কৃষক নেতারা নিজেদের খাবার, জল ও চা নিয়ে এসেছিলেন। শনিবারও তাই করলেন। দিল্লির সীমান্তে সিংঘু সীমান্তে খোলা হয়েছে লঙ্গর। সেখানে কয়েক হাজার কৃষক এক সপ্তাহ ধরে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন। সিংঘু থেকেই এদিন বৈঠকে কৃষক প্রতিনিধিদের জন্য খাবার এসেছে।
শনিবার পঞ্চমবারের জন্য সরকার কৃষকদের সঙ্গে বৈঠকে বসে। নয়াদিল্লির বিজ্ঞান ভবনে আলোচনা শুরু হয় দুপুর আড়াইটেয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন কৃষক সংগঠনের ৪০ জন প্রতিনিধি। সরকারের তরফে ছিলেন কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী নরেন্দ্র সিং তোমর ও রেলমন্ত্রী পীযূষ গয়াল।
বৃহস্পতিবারই কৃষক নেতারা বলেছিলেন, সরকারের অতিথিসেবা করার দরকার নেই। মন্ত্রীরা বরং কৃষকদের দাবি মেটানোর চেষ্টা করুন। আন্দোলনকারীরা চান, সরকার নতুন তিনটি কৃষি বিল নাকচ করুক। গত সেপ্টেম্বরে তিনটি বিল পাশ হয়। সরকারের দাবি, এর ফলে দালালদের দৌরাত্ম্য কমবে। কৃষকরা দেশের যে কোনও জায়গায় উৎপাদিত ফসল বিক্রি করতে পারবেন।
কৃষকরা আশঙ্কা করছেন, নতুন কৃষি আইন কার্যকরী হলে তাঁরা ফসলের ন্যূনতম সহায়ক মূল্য পাবেন না। কৃষি মান্ডিগুলি অচল হয়ে পড়বে। কৃষির সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন পেশার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। গত বুধবার আন্দোলনকারীরা দাবি করেন, সরকার সংসদের বিশেষ অধিবেশন ডেকে তিনটি কৃষি আইন বাতিল করুক।
শনিবার জানা যায়, সরকার কৃষি আইন সংশোধন করতে তৈরি। কিন্তু কৃষক নেতারা তাতে রাজি নন। নরেন্দ্র সিং তোমর ও পীযূষ গয়াল তাঁদের আশ্বাস দেন, নতুন আর একটি প্রস্তাব দেওয়া হবে। তবে তার আগে মন্ত্রীরা নিজেদের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে চান। আগামী বুধবার তাঁরা ফের আন্দোলনকারীদের সঙ্গে বৈঠকে বসতে চান। কৃষক নেতারা তাতে রাজি হয়ে যান।
গত সপ্তাহ থেকে শুরু হয়েছে কৃষক আন্দোলন। পাঞ্জাব ও হরিয়ানা থেকে দিল্লি আসার পথে বারবার বাধা পেতে হয়েছে কৃষকদের। অনেক জায়গায় ব্যারিকেড করে আটকানো হয়েছে তাঁদের। কোথাও লাঠিচার্জ, কোথাও জলকামানের সামনে পড়তে হয়েছে তাঁদের। কিন্তু তাতেও থামেনি মিছিল। ট্রাকে করে, পায়ে হেঁটে কয়েক লাখ কৃষক জড়ো হয়েছেন দিল্লি সীমান্তে। সেখানেই অবস্থান করছেন তাঁরা। এই আন্দোলনে তাঁরা অনেক সেলিব্রিটি থেকে শুরু করে একাধিক বিরোধী রাজনৈতিক দলকে সঙ্গে পেয়েছেন।