
শেষ আপডেট: 18 November 2023 17:35
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বৃদ্ধ হয়ে গেলে কি মানুষ পরিবারের বোঝা হয়ে যায়! ইদানিং বাড়তে থাকা বৃদ্ধাশ্রমের সংখ্যার নিরিখে মাঝেমধ্যেই ওঠে ওই প্রশ্নটা। এবার এই প্রশ্নটাকেই আরও জোরাল করে তুলল উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাট মহকুমার সন্দেশখালি সুন্দরবনের সিতুলিয়ার ঘটনা।
মোরশেদ গাজি। ৬৫ বছরের বৃদ্ধ বেশ কিছুদিন ধরেই শারীরিকভাবে অসুস্থ ছিলেন। গত ১২ নভেম্বর তাঁকে হিঙ্গলগঞ্জের ১৩ নম্বর সানডেল বিল ব্লক হাসপাতালে ভর্তি করে গিয়েছিল পরিবারের লোকজন। তারপর থেকে বৃদ্ধর খোঁজ নেওয়া তো দূরে থাক পরিবারের কারও দেখা মেলেনি হাসপাতাল চত্বরে।
অগত্যা, গত চার দিন ধরে হাসপাতালের চিকিৎসক থেকে নার্স, তাঁরাই মোরশেদের দেখভালের দায়িত্ব নিয়েছিলেন। ধীরে ধীরে সুস্থও হয়ে উঠছিলেন বৃদ্ধ। কিন্তু বৃহস্পতিবার আচমকায় শারীরিক অবনতি হতে শুরু করে। বিকেলে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন মোরশেদ।
”
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভর্তির সময় রোগীর পরিজনের ফোন নম্বর নেওয়া হয়। মোরশেদের বাড়ির সেই নম্বরে ফোন করে তাঁর মৃত্যুর খবর দেওয়া হলেও পরিবারের কেউ হাসপাতালে আসতে রাজি হননি। বারংবার ফোন করলে ফোন কেটে দেওয়া হয়। দেহ নিতেও অস্বীকার করেন পরিজনেরা।
এদিকে প্রায় ২৪ ঘণ্টা হতে চলায় মৃত ব্যক্তির দেহেও পচন ধরতে শুরু করেছে। ওয়ার্ডের মধ্যে ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ। ফলে সমস্যার মধ্যে পড়েছে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া অন্য রোগীরা। আইনি জটিলতার হাত থেকে রেহাই পেতে পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। দ্রুত সমস্যার সমাধান চাইছেন তাঁরা।
হিঙ্গলগঞ্জ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি শহিদুল্লাহ গাজি বলেন, “অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা। তবে এভাবে যদি পরিবারের লোকজন দেহ নিতে অস্বীকার করে তাহলে প্রশাসনকে বলব ওঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে।" পরিবা্রের অবশ্য কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।