দ্য ওয়াল ব্যুরো : বুধবার রাতে লখিমপুরে মৃত লাভপ্রীত সিং-এর (Lovepreet Singh) পরিবারের লোকজনের সঙ্গে দেখা করেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ও তাঁর বোন প্রিয়ঙ্কা গান্ধী বঢরা। ১৯ বছর বয়সী লাভপ্রীতের বাড়ির লোক প্রশ্ন তোলেন, মন্ত্রীর ছেলের বিরুদ্ধে কেন এখনও ব্যবস্থা নেয়নি পুলিশ? অভিযোগ, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অজয় মিশ্রের ছেলে আশিস মিশ্র গত রবিবার কৃষকদের শান্তিপূর্ণ সমাবেশের মধ্যে গাড়ি চালিয়ে দেন। তাতে চারজন কৃষক মারা যান। আশিসের বিরুদ্ধে খুনের মামলা শুরু করেছে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ।
লাভপ্রীতের বাবা সতনাম সিং বলেন, "সরকার ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করেছে। কিন্তু তাতে লাভ কী? পুলিশ এখনও আশিসকে জেরা করেনি। গ্রেফতারও করেনি।" উত্তরপ্রদেশ পুলিশের অতিরিক্ত ডিজি প্রশান্ত কুমারকে প্রশ্ন করা হয়, অভিযুক্তরা ভিআইপি বলেই কি পুলিশ ব্যবস্থা নিতে দেরি করছে? তিনি বলেন, "আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, খুনিরা ছাড়া পাবে না। একটি এফআইআরও করা হয়েছে। কেউ ছাড়া পাবে না। কিন্তু টিভি চ্যানেলের স্টুডিওতে বসে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না।"
প্রশান্ত কুমারকে প্রশ্ন করা হয়, পুলিশের ওপরে কি চাপ রয়েছে? তিনি বলেন, কীসের চাপ? এফআইআর করা হয়েছে। মৃতদের পরিবারও তদন্ত নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে।
মঙ্গলবার এক সর্বভারতীয় সংবাদ মাধ্যমের কাছে মন্ত্রী অজয় মিশ্র বলেন, যে স্পোর্টস ইউটিলিটি ভেহিকলটি চাষিদের চাপা দিয়েছিল, সেটি তাঁর ছেলেই ব্যবহার করেন। তবে চাষিদের চাপা দেওয়ার সময় তিনি গাড়িতে ছিলেন না।
মন্ত্রীর কথায়, "আমরা প্রথম দিন থেকে বলে আসছি, যে মাহিন্দ্রা গাড়িটি চাষিদের চাপা দিয়েছিল, সেটি আমাদের। আমাদের নামেই গাড়িটি রেজিস্ট্রি করা আছে। রবিবার গাড়িটিতে অপর একজনের ওঠার কথা ছিল। আমার ছেলে ওই জায়গায় ছিলই না। ওইদিন বেলা ১১ টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সে অপর এক সভায় ব্যস্ত ছিল।" মন্ত্রীর দাবি, তাঁর ছেলে যে সভায় উপস্থিত হয়েছিলেন, সেখানে হাজার হাজার লোকের সমাবেশ হয়েছিল। তার ছবি ও ভিডিও আছে। আশিসের মোবাইলের কল রেকর্ড ও লোকেশন দেখলেও সেকথাই প্রমাণিত হবে। হাজার হাজার মানুষ সাক্ষী দেবে, চাষিদের চাপা দিয়ে মারার সময় আশিস সেখানে ছিলেন না।
এরপর মন্ত্রী বলেন, "আমার গাড়ির চালক খুন হয়েছেন। আমাদের দলের দুই কর্মী খুন হয়েছেন। একজন পালিয়ে বেঁচেছেন। আহত হয়েছেন তিনজন।" অজয় মিশ্রের দাবি, তাঁর গাড়িটি পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে একটি ফরচুনার গাড়িও পোড়ানো হয়েছে। যারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে, তারা কৃষক হতে পারে না। কৃষকদের মধ্যে জঙ্গিরা লুকিয়েছিল।