
শেষ আপডেট: 13 October 2023 14:04
কলকাতার লাটুবাবু-ছাতুবাবুর বংশধর। পরে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতার মালা মণিরামপুর গ্রামে জমিদারি বিস্তার করেন বিহারীলাল দেব সরকার। ফলতা সহ বিভিন্ন জায়গায় ধান চালের ব্যবসা করে ফুলে ফেঁপে উঠেছিলেন তাঁরা। বিহারীলাল দেব সরকারের নাতি কালিকৃষ্ণ দেব সরকার বাড়িতে দেবীদুর্গার আরাধনা শুরু করেন। সেই থেকে জমিদার বাড়ির ঠাকুরদালানে পূজিতা হয়ে আসছেন দেবী।
এবছর দেব সরকার বাড়ির পুজো ২৭৯ বছরে পা রাখল। নিয়ম মেনে এক চালার প্রতিমা তৈরি করা হচ্ছে। দেব সরকার পরিবারের এইটাই রীতি। এই বাড়ির বংশধর তাপস দেব সরকার জানিয়েছেন, পরিবারে ছাগ বলির প্রথা রয়েছে। সপ্তমী থেকে নবমী প্রত্যেকদিনই মায়ের সামনে ছাগ বলি হয়। এক সময় পুজোর নৈবেদ্যর জন্য সাত থেকে নয় মন চাল লাগত। এখন অত চাল হয়তো নৈবেদ্যতে দেওয়া হয় না, কিন্তু পুজোর জায়গা জুড়ে সাজানো হয় নৈবেদ্য।
এ বাড়ির রীতি একটু অন্যরকম। বোধন থেকে শুরু করে দশমী পর্যন্ত পুজোর সমস্ত কাজ বাড়ির মহিলারা সামলান। নাড়ু তৈরি থেকে শুরু করে কলাবউ স্নান, সন্ধিপুজোর আয়োজনও তাদের দায়িত্বে থাকে। বংশপরম্পরায় একই পরিবারের পটুয়া ও পুরোহিত দিয়েই দেব সরকার বাড়ির প্রতিমা গড়া থেকে পুজো সবই হয়ে আসছে।
তাপসবাবু আরও জানিয়েছেন, এক সময় পুজোর চারটে দিন বাড়ির সামনের মাঠে প্রতিযোগিতামূলক যাত্রার আসর বসানো হত। শোনা যায়, চারণ কবি মুকুন্দ দাস একসময় দেব সরকার বাড়ির সেই যাত্রা প্রতিযোগিতায় এসেছিলেন। এখন আর যাত্রাপালা হয় না। যদিও পরিবারের সদস্যরাই নিজেদের মধ্যেই গান-বাজনার আয়োজন করেন।
দেশ ও বিদেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে এই পরিবারের সদস্যরা। তাঁরাও পুজোর টানে বাড়িতে ফেরেন। এবারেও তাঁদের বাড়িতে আসার কথা রয়েছে। কিন্তু যাঁরা আসতে পারেন না তাঁদের জন্য বছরখানেক হল একটি নতুন নিয়ম চালু হয়েছে। পরিবারের প্রবাসী সদস্যদের পুজোয় সামিল করতে ভার্চুয়াল মাধ্যমে পুজো দেখানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। পুজো প্রায় দোরগোড়ায়। ঐতিহ্যবাহী দেব সরকার বাড়ির প্রস্তুতির ব্যস্ততাও এখন তুঙ্গে।