ক'দিন আগেই ট্রাইবাল অ্যাডভাইসারি কাউন্সিলের বৈঠকে খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) কাছে অভিযোগ করে বলা হয়েছিল যে, এসসি (SC), এসটি (ST) না হয়েও বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষার সংরক্ষণের তালিকায় নাম ঢুকে যাচ্ছে প্রার্থীদের।

গ্রাফিক্স: দ্য ওয়াল
শেষ আপডেট: 31 August 2025 19:40
নিট (NEET) কাউন্সিলিং-এ 'সন্দেহজনক' জাতিগত সংশাপত্র (ST) ব্যবহার করে ভর্তি নেওয়ার চেষ্টা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠল। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে শিক্ষা ও প্রশাসনিক মহলে। বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য ইতিমধ্যেই পশ্চিমবঙ্গ আদিবাসী উন্নয়ন বিভাগ (West Bengal Tribal Development Department) থেকে সরাসরি স্বাস্থ্যভবনে (WB Swasthya Bhawan) একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে।

ঘটনা হল, ক'দিন আগেই ট্রাইবাল অ্যাডভাইসারি কাউন্সিলের বৈঠকে খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) কাছে অভিযোগ করে বলা হয়েছিল যে, এসসি (SC), এসটি (ST) না হয়েও বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষার সংরক্ষণের তালিকায় নাম ঢুকে যাচ্ছে প্রার্থীদের। অভিযোগ এনেছিলেন মন্ত্রীসভারই এক সদস্য। সূত্রের খবর, তিনি রাজ্যের বনমন্ত্রী বীরবাহা হাঁসদা (Birbaha Hansda)। অভিযোগ পাওয়া মাত্রই মুখ্যসচিবকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের নির্দেশ দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Chief Minister)।
পশ্চিমবঙ্গ আদিবাসী উন্নয়ন বিভাগের তরফে স্বাস্থ্যশিক্ষা দফতরকে জানানো হয়েছে, তাঁদের কাছে এমন একটি প্রতিনিধি সংগঠনের চিঠি এসেছে যেখানে 'সন্দেহজনক' নামের তালিকা দেওয়া আছে। মোট ৪৫ জন পরীক্ষার্থীর নাম ওই তালিকায় উল্লেখ রয়েছে। অভিযোগ, এঁরা নাকি নিজেদের এসটি দেখিয়ে সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করেছেন। আর সেটা যদি সত্যি হয় তাহলে তা বড় জালিয়াতি তো বটেই, আইনি অপরাধও।
দফতরের পাঠানো নথিতে স্বাস্থ্যভবনকে বলা হয়েছে, সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে দ্রুত তদন্ত শুরু করতে হবে এবং প্রাথমিক রিপোর্ট জমা দিতে হবে। কোন কোন প্রার্থী এহেন সন্দেহজনক শংসাপত্র ( Fake Certificate) ব্যবহার করেছেন, তা যাচাই করাই হবে তদন্তের মূল উদ্দেশ্য।

স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা যাচ্ছে, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। কারণ, মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি প্রক্রিয়ায় যদি কোনও রকম 'ভুয়ো' সার্টিফিকেটের ব্যবহার থেকে থাকে, তাহলে প্রকৃত যোগ্য প্রার্থীর ভবিষ্যৎ বিপন্ন হতে পারে। তবে স্বাস্থ্য দফতরের এক আধিকারিকের কথায়, এসটি, এসসি বিষয়টা দেখে পশ্চিমবঙ্গ আদিবাসী উন্নয়ন বিভাগও। তারাও বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। আমরাও ক্ষতিয়ে দেখব।
তবে, দ্য ওয়ালের হাতে সেই ৪৫ জনের নামের তালিকা থাকলেও, তা আপাতত প্রকাশ করা নীতিবিরুদ্ধ। সরকারি তদন্ত সম্পূর্ণ হওয়ার পরেই স্পষ্ট হবে আসল সত্য। তদন্তে দোষ প্রমাণিত হলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই আলোচনা শুরু হয়েছে প্রশাসনিক স্তরে।
এই ঘটনার জেরে আবারও সামনে এল ভর্তি পরীক্ষায় ভুয়ো সার্টিফিকেট ব্যবহারের পুরনো অভিযোগ। তবে এবার সরাসরি সরকারি দফতর তদন্তে নেমেছে। এখন এটাই দেখার, ৪৫ জনের মধ্যে কতজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়।
এ বিষয়ে পশ্চিমবঙ্গ আদিবাসী বিভাগের এক আধিকারিককে ফোন করা হলে তিনি বলেন, তাঁদের কাছে যদি এরকম অভিযোগ আসে, তাহলে নিয়ম মোতাবেক সমস্ত দফতরকে বা যে দফতরের বিষয়, তাদের পাঠানো হয়। এক্ষেত্রেও তারা স্বাস্থ্যভবনকে খতিয়ে দেখতে বলেছে। পাশাপাশি অনগ্রসর কল্যাণ দফতরকেও (Backward Classes Welfare Department) জানিয়ে দিয়েছে।