দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভুয়ো ডিগ্রি, ভুয়ো রেজিস্ট্রেশন নম্বর। বছরের পর বছর রোগীদের প্রতারণা করার অভিযোগ। দুর্গাপুর শহরের দু’জায়গা থেকে ধরা পড়ল দুই ভুয়ো চিকিৎসক। পুলিশ জানিয়েছে, মঙ্গলবার রাতে গ্রেফতার করা হয় তাঁদের। আজ, বুধবার আদালতে তোলা হবে।
দুর্গাপুরের আমরাই ও রঘুনাথপুরে দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে ডাক্তারি করেছেন সত্যরঞ্জন। বেশ পরিচিতই ছিলেন এলাকায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, ভুয়ো ডিগ্রি এবং রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে রোগী দেখতেন তিনি। জীবনযাত্রার মানও এমন রাখতেন যাতে কেউ সন্দেহ না করে। কিন্তু সন্দেহ হওয়ায় কয়েকজন রোগীর পরিবারের লোকেরাই তাঁর রেজিস্ট্রেশন নম্বর পরীক্ষা করেন মেডিক্যাল কাউন্সিলের ওয়েবসাইটে। ওই নম্বর মেলেনি। পরে খোঁজ নিয়ে জানা যায় তাঁর ডিগ্রিও ভুয়ো।
অন্যদিকে, দুর্গাপুরের সি-জোন এলাকায় ভুয়ো ডিগ্রি নিয়ে চেম্বার খুলে বসেছিলেন আরও একজন। পুলিশ জানিয়েছে, সেই ব্যক্তি নিজের নাম জানিয়েছেন ছবিলাল ঠকরী। তাঁর রেজিস্ট্রেশন নম্বর ভুয়ো তা দেখা গেছে. তবে অন্য ডিগ্রিগুলোর অন্য ডিগ্রিগুলো যাচাই করার কাজ চলছে।
স্থানীয় সূত্রে খবর, ২০১৭ সালে প্রথম এই দুই ডাক্তারের কার্যকলাপ নিয়ে সন্দেহ হয় এলাকাবাসীর। চেম্বারে গিয়ে ক্ষোভ দেখান তাঁরা। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখাতে না পারায় খবর দেওয়া হয় পুলিশে। অভিযোগ, সবকিছু জেনেও পুলিশ কোনও ব্যবস্থা নেয়নি। ফলে উধাও হয়ে যান দু’জনেই।
সম্প্রতি আসানসোল থেকে দুর্গাপুর থানায় যোগ দেওয়া সাব-ইনস্পেকটর বংশী কর্মকার জানিয়েছেন, খবর মিলেছিল ওই দু’জন ফের এলাকায় ফিরে এসেছেন। নাম ভাঙিয়ে চেম্বার খুলে বসার তোড়জোড় করছেন। খবর পেয়েই তৎপর হয় পুলিশ। রঘুনাথপুর থেকে সত্যরঞ্জন ও সি-জোনের গৌতম বুদ্ধ এলাকা থেকে ছবিলালকে পাকড়াও করে পুলিশ।
ধৃতদের বাড়ির ঠিকানা নিয়েও সন্দেহ রয়েছে পুলিশের। জেরার সময়ে দু’জনেই অসংলগ্ন কথাবার্তা বলছেন। আজ আদালতে তোলার পরে তাঁদের সাত দিনের হেফাজত চাওয়া হবে জানিয়েছে পুলিশ।