দ্য ওয়াল ব্যুরো: সারা পৃথিবীতে কোভিড ভ্যাকসিন সমান ভাবে পৌঁছে দেওয়া বা বলা ভাল ধনী দেশগুলিকে নির্দিষ্ট পরিমাণ ভ্যাকসিন আগেই মজুদ করতে না দেওয়া-- এটাই আগামী দিনে বড় চ্যালেঞ্জ হতে চলেছে বলে মনে করছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা হু। আজ, বুধবার হু-এর মুখ্য বিজ্ঞানী সৌম্যা স্বামীনাথন এ কথাই জানালেন একটি কনফারেন্সে।
নোভেল করোনাভাইরাসের টিকা আবিষ্কার হতে হয়তো আর খুব বেশি দেরি নেই, এমনটাই মনে হয়েছে স্বামীনাথনের বক্তব্য শুনে। তিনি এদিন বলেছেন, "২০২১ সালের গোড়া দিকে আমাদের ভাল খবর পাওয়া উচিত। তার পরেই আসল এবং সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জটা আসবে। সারা পৃথিবীর মানুষের মধ্যে সমান ভাবে করোনা ভ্যাকসিনের বণ্টন। ধনী দেশগুলি যাতে এবিষয়ে আলাদা করে কোনও সুবিধা না পায়, নির্দিষ্ট পরিমাণ ডোজ়ে যেন তারা দখল না করতে পারে, সেটাও দেখতে হবে।"
বেঙ্গালুরুর ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ ম্যানেজমেন্টের তরফে আয়োজিত পঞ্চদশ আন্তর্জাতিক সম্মেলনে ভার্চুয়ালি আমন্ত্রিত ছিলেন সৌম্যা স্বামীনাথন। সেখানেই আজ তিনি এই মন্তব্য করেছেন।
তবে সৌম্যা এ-ও জানিয়েছেন, ভারত এখন টিকা নির্মাণের ক্ষেত্রে অনেকটাই এগিয়ে আছে। একাধিক সংস্থা দিনরাত এক করে কাজ করে চলেছে একক ভাবে বা সংঘবদ্ধ ভাবে। এই দেশ এমনিতেই বিভিন্ন টিকা আবিষ্কারের ব্যাপারে প্রসিদ্ধ। তিনি এ-ও বলেন, যে সাম্প্রতিক এই বিশ্বজোড়া মহামারী বুঝিয়ে দিয়েছে, অসুখের কোনও শ্রেণিবিভেদ হয় না। এটা সারা বিশ্বের জনস্বাস্থ্য ক্ষেত্রকে শক্তিশালী করার জন্য একটা বিশাল শিক্ষণীয় অধ্যায়।
সৌম্যা স্বামীনাথনের মতে, এই ভাইরাস নিয়ে যত গবেষণা হচ্ছে, তার চিহ্নিতকরণ, আচরণ, চিকিৎসা, এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকা মানসিক স্বাস্থ্য সংক্রমণ, ভ্যাকসিন গবেষণা, ছোট বাচ্চাদের ক্ষেত্রে এর প্রভাব, এর জেরে লকডাউন, তার প্রভাব-- এই সবটার দিকে সারা বিশ্বকে বিশেষ ভাবে নজর দিতে হবে এখন। এই ভাইরাস যুদ্ধে একটা 'হোলিস্টিক অ্যাপ্রোচ' দরকার সারা বিশ্বের। কেউ কোনও একটা বিষয়ে বিচ্ছিন্ন ভাবে জোর দিলে যুদ্ধ সফল হওয়া কঠিন।
এদিন আশার কথাও শুনিয়েছেন সৌম্যা। তিনি বলেন, "প্যানডেমিকের যে দ্বিতীয় ধাক্কাটা আসছে, তাতে মৃত্যুহার খুব বাড়ার সম্ভাবনা নেই।" পাশাপাশি সৌম্যা জানান, এশিয়ান এবং আফ্রিকান দেশগুলির তুলনায় ইউরোপ ও আমেরিকায় মৃত্যুহার বেশি। এর কারণ অবশ্য এখনও নিশ্চিত করে কিছু জানা যায়নি। হয়তো জলবায়ুগত কোনও কারণের জন্যই এলাকাভিত্তিক মানুষের প্রতিরোধ ক্ষমতা আলাদা বলে মনে করছেন তিনি।