দ্য ওয়াল ব্যুরো: মুম্বইয়ের ঘিঞ্জি কলোনীতে শৈশবের সুখস্মৃতি বলতে ছিল শুধু মায়ের আদর। স্বপ্নগুলো লাগোয়া বস্তির ঝগড়া-কাজিয়াতেই চাপা পড়ে যেত। রাতের দুঃস্বপ্নে ফিরে ফিরে আসত মায়ের উপর বাবার সেই লাগামছাড়া মার। মদ্যপ বাবার গালিগালাজ শুনতে শুনতে কখন যে বয়ঃসন্ধির দোরগোড়ায় চলে এসেছিলেন, টেরও পাননি। গল্পটা ঠিক এ ভাবেই শুরু করেছিলেন তরুণী। হালে অল ইন্ডিয়া রেডিয়োর সাংবাদিক। কাদা মাখা এক অন্ধকারময় জীবন থেকে ফিরে আসার গল্প শুনিয়েছেন ‘হিউম্যানস অব বম্বে’কে। মুম্বই-কন্যার এই উত্তরণের গল্প মুগ্ধ করেছে দেশবাসীকে।
অভাব যে কত ভয়ঙ্কর হতে পারে, টের পেয়েছিলেন ছেলেবেলাতেই। তিন জনের ছোট সংসারে শান্তি ছিল না কোনওদিনই। সংসারের জাঁতাকলে প্রতিদিন একটু একটু করে পিষতে দেখেছেন মা’কে। তরুণীর কথায়, সংসারের বোঝা টানতে কোনও চেষ্টাই ছিল না বাবার। তাঁর সকাল হত নেশা দিয়ে। রাতে টলতে টলতে বাড়ি ফিরে শুরু হত মার, নোংরা ভাষায় গালিগালাজ। নিজে আধপেটা খেয়ে, তাঁকে ভরপেট খাইয়ে, মা সেই মার হজম করতেন নিত্যদিন।
“তখন আমি খুব ছোট। মনে আছে, আমাকে নিয়ে সমুদ্রে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করতে গিয়েছিলেন মা। আমার মুখ দেখে শেষে আর ঝাঁপ দিতে পারেননি,” তরুণী জানিয়েছেন, মা পরে বলেছিলেন জীবন শেষ করে দেওয়ার মধ্যে কোনও কৃতিত্ব নেই। যুদ্ধ জয় করাই নারীদের লক্ষ্য, সে জীবনের যে কোনও স্তরে হোক। আত্মবিশ্বাসের এক নতুন স্বপ্ন খেলে গিয়েছিলেন মায়ের ক্লান্ত দু’চোখে।
https://www.instagram.com/p/B1WIdDNBvxr/?utm_source=ig_web_copy_link
স্কুল পেরিয়ে কলেজ। জীবনকে নতুন করে চিনছেন তরুণী। প্রেমেও পড়েছেন। পাঁচ বছরের বড় ভালোবাসার মানুষের হাত ধরে, অন্ধকার থেকে ফিরে আসার স্বপ্ন সাজাচ্ছেন। ফের বাধ সাধল নিয়তি। তরুণী জানিয়েছেন, একদিন হঠাৎ করেই বুঝতে পারেন, প্রেমের সম্পর্কটা ফিকে হয়ে আসছে। ছাড়াছাড়ি হল অচিরেই। এক আকাশ অবসাদ যেন আছড়ে পড়ল। চোখে অন্ধকার দেখলেন তরুণী।
“ভালোবাসায় অন্ধ হয়ে গিয়েছিলাম। বুঝতেই পারিনি, অন্ধ-প্রেম কখন গোপনে আমার মনটাকেই ছাড়খাড় করে দিয়েছে। ঠিক করেছিলাম, জীবন শেষ করে দেব,” তরুণী বলেছেন, ”একদিকে অবসাদ, অন্যদিকে বাড়িতে সেই অশান্তি, সহ্য করতে না পেরে একদিন এক বোতল ফিনাইল গলায় ঢেলে দিই। কিন্তু মরতে পারিনি। কী ভাবে যেন বেঁচে যাই। জ্ঞান হয় হাসপাতালে।”
নবজন্ম হয়েছিল সে দিন, জানিয়েছেন তরুণী। আর ফিরে তাকাতে হয়নি। চিকিৎসকরাই কাউন্সেলিং করান। প্রতিদিন মেডিটেশন। তার পর আবার পড়াশোনা। সাংবাদিকতার কোর্স করে এখন অল ইন্ডিয়া রেডিয়োর চাকরি। তরুণীর কথায়, “আগের থেকে খুব ভালো আছি। বেঁচে থাকার রাস্তা খুঁজে পেয়েছি। আবার নতুন করে শুরু করতে চাই।”