দ্য ওয়াল ব্যুরো: ১৪ জুন নিজের ঘর থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার হয় বলিউড অভিনেতা সুশান্ত সিং রাজপুতের দেহ। তার পর থেকেই ঘটনার প্রবাহ জটিল থেকে জটিলতর হয়েছে। আপাত দৃষ্টিতে মনে হওয়া আত্মহত্যা ঘুরে গিয়েছে খুনের ইঙ্গিতে। প্রেমিকা রিয়া চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে উঠেছে অভিযোগের আঙুল। জেলও হয়েছে রিয়ার। নানা তথ্য-প্রমাণ-সাক্ষ্য মেনে জেলও হয়েছে রিয়ার, তিনি জামিন পেয়েছেন সম্প্রতি।
রিয়ার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগেই তাঁরই এক প্রতিবেশী দাবি করেছিলেন, সুশান্তের মৃত্যুর ঠিক আগের দিন অর্থাৎ ১৩ জুন রিয়া চক্রবর্তী ও সুশান্তকে একসঙ্গে দেখেছিলান তিনি। ডিম্পল থাওয়ানি নামের ওই মহিলার সাক্ষ্য অতি জরুরি হলেও, সিবিআই জেরার মুখে পিছু হটলেন তিনি। বলতেই পারলেন না, আদৌ সুশান্ত-রিয়াকে দেখা গিয়েছিল কিনা।
জানা গেছে, ডিম্পল থাওয়ানি নামের ওই মহিলার কাছে সিবিআই জানতে চায়, তিনি ১৩ তারিখ কী দেখেছিলেন। উত্তরে ওই মহিলা জানান, তিনি নিজের চোখে রিয়া ও সুশান্তকে একসঙ্গে দেখেননি সেদিন, তবে তিনি শুনেছেন, কেউ একজন ওঁদের একসঙ্গে দেখেছিল ১৩ তারিখ রাতে। তবে কে দেখেছে, সে কথা জানতে চাওয়া হলেও কোনও উত্তর মেলেনি। এমনকি কখন দেখা গিয়েছিল, তাও বলতে পারেননি তিনি।
কোনও রকম সদুত্তর না পেয়ে সিবিআই তাঁকে সাবধান করে দেয়, এমন মিথ্যে ও ভিত্তিহীন কথা তিনি যেন কখনও না বলেন।
সুশান্তের মৃত্যুর পরে রিয়া চক্রবর্তী পুলিশকে জানিয়েছিলেন, ৮ জুন সুশান্তের সঙ্গে তাঁর ঝগড়া হওয়ার পরে তিনি তাঁর ফ্ল্যাট ছেড়ে চলে যান। তাঁদের আর দেখা হয়নি। সুশান্ত সিং রাজপুতের বন্ধু ও ফ্ল্যাটমেট সিদ্ধার্থ পিঠানিও রিয়ার এই কথাই সত্যি বলে জানিয়েছিলেন। সিদ্ধার্থ আরও বলেছিলেন, রিয়া সুশান্তকে ফোনেও ব্লক করে দেন যাতে কোনও ভাবেই তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ না করতে পারেন সুশান্ত।
তবে এর পরে জল গড়ায় বহু দূর। সুশান্তের বাবা দাবি করেন তাঁর ছেলের মৃত্যু আদতে খুন, তাতে জড়িয়ে আছেন রিয়া। এর পরে ওই রহস্য মৃত্যু মামলায় মাদক যোগে রিয়া চক্রবর্তীকে গ্রেফতারওর করে নারকোটিক্স কন্ট্রোল ব্যুরো। ২৮ দিন কারাবাসের পরে শর্তসাপেক্ষে জামিন পেয়েছেন রিয়া চক্রবর্তী।
এর মধ্যে রিয়ার সুশান্তের সঙ্গে দেখা হওয়া নিয়ে মিথ্যে বলার দাবি করা প্রতিবেশা সিবিআইয়ের জেরায় পিছু হঠলেন। প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে জেরায় পৌঁছলেও, তিনি নিজের দাবির সপক্ষে একটি তথ্যপ্রমাণও দিতে পারেননি।