দ্য ওয়াল ব্যুরো: জঙ্গি হামলার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। অন্যদিকে, সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন ও জাতীয় নাগরিক পঞ্জী নিয়ে বিক্ষোভও দানা বাঁধতে পারে। সব মিলিয়ে তাই প্রজাতন্ত্র দিবসের আগেই নিরাপত্তা বলয় আঁটোসাঁটো করা হল রাজধানী দিল্লিতে। ফেস-রেকগনিশন সিস্টেম, সিসিটিভি ক্যামেরা, ড্রোন-নজরদারি তো থাকবেই, শার্প-শ্যুটার ও স্লাইপারদেরও নিয়োগ করা হয়েছে যে কোনও পরিস্থিতির মোকাবিলার জন্য।
দিল্লি পুলিশ সূত্রে খবর, শহরের বিভিন্ন বাসস্ট্যান্ড ও স্টেশন সংলগ্ন হোটেল, সরাইখানা ও অতিথিশালায় যাঁরা উঠছেন, তাঁদের পরিচয়পত্র যাচাইয়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে থানাগুলিকে। রাজপথ থেকে লালকেল্লা অবধি ৮ কিলোমিটার প্যারেড-গ্রাউন্ডে নজরদারি চালানোর জন্য নিয়োগ করা হয়েছে স্নাইপারদের। রাস্তার দু’পাশে উঁচু বিল্ডিংগুলি থেকে তাঁরা নজরদারি চালাবেন।
শহরের গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলিতে, ট্রাফিক-মোড়ে ফেসিয়াল-রেকগনিশন সিস্টেম বসানো হয়েছে। সন্দেহজনক মনে হলেই তার পরিচয়পত্র দেখতে চাওয়া হবে। শতাধিক সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়েছে শহরের নানা প্রান্তে। লাল কেল্লা, চাঁদনী চক সন্নিহিত এলাকাতে ইতিমধ্যেই ১৫০টি সিসিটিভি ক্যামেরা বসে গেছে।

ডেপুটি কমিশনার (নয়া দিল্লি জ়োন)বলেছেন, শহরের মধ্যে, বাইরে, সীমান্তে মিলিয়ে বহুস্তরীয় নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রজাতন্ত্র দিবসের দিন রাজধানীর রাস্তায় নামবেন ৫০০০-৬০০০ পুলিশ কর্মী। থাকবে ৫০ কোম্পানি আধাসেনা। বিমানবন্দর, রেলস্টেশন, মেট্রো স্টেশনগুলিতে কড়া নজরদারি চালানো হবে। যানজট এড়াতে ট্রাফিকের হাল দেখবেন দু ‘হাজারেরও বেশি ট্রাফিক কর্মী। আজ, শনিবার সন্ধ্যে ৬টার পর থেকে বিজয় চক থেকে ইন্ডিয়া গেট অবধি রাস্তায় যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হবে।
এ বছর প্রজাতন্ত্র দিবসের বিশেষ অতিথি ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট জাইর বোলসোনারো। তাঁকে আমন্ত্রণ জানানোয় ইতিমধ্যেই বিতর্ক তৈরি হয়েছে নানা মহলে। যন্তরমন্তরে প্রতিবাদ-ধর্নায় বসার ডাক দিয়েছে এসএফআই। সূত্রের খবর, সিপিএম-সহ অন্যান্য বাম দলগুলি তাদের গণ ও ছাত্র সংগঠনকে মাঠে নামাতে চলেছে। এসএফআই এবং এআইএসএ-র পক্ষ থেকে বলা হয়েছে তারা তীব্র প্রতিবাদ জানাবে। দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, সবরকম আপত্তিকর পরিস্থিতি এড়াতে জোরদার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। ড্রোন উড়িয়ে নজরদারি চালানো হবে।