
পুলিশ কমিশনার বিনীত গোয়েল ও তৃণমূল সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায়।
শেষ আপডেট: 20 August 2024 17:49
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আরজি কর কাণ্ডে কলকাতার পুলিশ কমিশনার বিনীত গোয়েল এবং আরজি করের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষকে হেফাজতে নিয়ে সিবিআই জিজ্ঞাসাবাদ করুক, গত শনিবার ফেসবুক পোস্টে এই দাবি করেছিলেন তৃণমূল সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায়। সুখেন্দুর ওই পোস্ট ঘিরে শোরগোল তৈরি হয়েছিল সমাজে।
মঙ্গলবার এ ব্যাপারেই ভরা আদালতে নিজের ভুল স্বীকার করে নিলেন সুখেন্দুুশেখর। পুলিশের তরফে তাঁর বিরুদ্ধে ভুল তথ্য পরিবেশনের অভিযোগ আনা হয়েছিল। সূত্রের খবর, এদিন আদালতে পুলিশের ওই অভিযোগ মেনে নিয়ে সুখেন্দু বলেন, 'তথ্যগত ভুল ছিল। পোস্টটি ডিলিট করে দিচ্ছি।'
প্রসঙ্গত, সুখেন্দুশেখরের ওই পোস্টের পরই তা নিয়ে আপত্তি জানিয়ে রবিবার সকালে পাল্টা পোস্টে তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ লিখেছিলেন, "দলের সিনিয়র লিডারের এই ধরনের পোস্ট দুর্ভাগ্যজনক। আরজি কর মামলারও বিচার দাবি করছি। কিন্তু সিপি সংক্রান্ত এই দাবির তীব্র বিরোধিতা। তথ্য পাওয়ার পর তিনি যথাসাধ্য চেষ্টা করেছেন। ব্যক্তিগতভাবে সিপি তার কাজ করছিল এবং তদন্ত একটি ইতিবাচক ফোকাসে ছিল।"
I also demand justice in RGKar case.
— Kunal Ghosh (@KunalGhoshAgain) August 18, 2024
But strongly oppose this demand regarding CP. After got information He has tried his best. Personally CP was doing his job and investigation was in a positive focus. This kind of post is unfortunate, that too from my senior leader. https://t.co/quLVsUEXCd
আরজিকর কাণ্ডে বিভ্রান্তিমূলক তথ্য প্রচারের অভিযোগে আগেই সরব হয়েছিল কলকাতা পুলিশ। পুলিশ কমিশনার বিনীত গোয়েল দাবি করেছিলেন, পুলিশ প্রথম থেকেই স্বচ্ছভাবে দ্রুততার সঙ্গে তদন্ত করছে। কিন্তু সোশ্যাল মাধ্যমে নানা রকম গুজব ছড়িয়ে পরিস্থিতিকে উত্তপ্ত করে তোলা হচ্ছে। এ ব্যাপারে একাধিকজনকে পুলিশের তরফে তলবও করা হয়েছিল। ওই তালিকায় ছিলেন তৃণমূল সাংসদ সুখেন্দুশেখরও।
এরপরই কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন সুখেন্দু। এদিন মামলার শুনানি ছিল বিচারপতি রাজর্ষি ভরদ্বাজের এজলাসে। আদালত সূত্রের খবর, সেখানেই পুলিশের বিরুদ্ধে তাঁর আনা অভিযোগে তথ্যগত ভুল ছিল বলে স্বীকার করে নেন তৃণমূল সাংসদ। সোশ্যাল মাধ্যম থেকেও পোস্টটি মুছে ফেলার কথা বলেন তিনি। এরপরই আদালত জানিয়ে দেয়, আপাতত সুখেন্দুশেখরের বিরুদ্ধে কোনও কড়া পদক্ষেপ করতে পারবে না পুলিশ।
সূত্রের খবর, আদালতের শুনানির পরই সোশ্যাল মাধ্যম থেকে বিতর্কিত পোস্টটিও মুছে ফেলেছেন তৃণমূল সাংসদ। এ ব্যাপারে টেলিফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে ফোন বেজে গিয়েছে। কেউ ধরেননি। ফলে তৃৃণমূল সাংসদের প্রতিক্রিয়াও মেলেনি।