দ্য ওয়াল ব্যুরো : ২০০১ সালে খুন হয়েছিলেন প্রাক্তন ডাকাতরানি ফুলন দেবী (Phloon Devi)। কিন্তু উত্তরপ্রদেশে ২০২২ সালের ভোটে বড় ফ্যাকটর হয়ে উঠছেন তিনিই। নিষাদ পার্টি নামে উত্তরপ্রদেশের একটি ছোট দল দাবি করেছে, তারা ফুলন দেবীর উত্তরসুরী। অন্যদিকে বিকাশশীল ইনসান পার্টি নামে অপর একটি দলের বক্তব্য, নিষাদ জাতের প্রত্যেক পরিবারের উচিত, বাড়িতে ফুলন দেবীর মূর্তি রাখা। বুধবার রাতে সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ সিং যাদব জালাউন জেলায় ফুলনদেবীর বাড়িতে যান। প্রাক্তন ডাকাতরানির মা মুলা দেবীর সঙ্গে দেখা করে তাঁর আশীর্বাদ চান।
২০২২ সালের ভোটের প্রচারের অঙ্গ হিসাবে 'সমাজবাদী বিকাশ যাত্রা' শুরু করেছেন অখিলেশ। তারই মধ্যে তিনি মুলা দেবীর সঙ্গে দেখা করে প্রতিশ্রুতি দেন, তাঁদের পরিবারকে সবরকম সাহায্য করবেন। ভোটে জিতে ক্ষমতায় এলে ফুলনদেবীর মৃত্যু নিয়ে সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দেবেন।
অখিলেশের বাবা মুলায়ম সিং মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন ১৯৯৪ সালে ফুলনদেবীর বিরুদ্ধে সব মামলা তুলে নিয়েছিলেন। তিনিই ফুলনদেবীর রাজনীতিতে আসার পথ পরিষ্কার করেন। ১৯৯৬ সালে মির্জাপুর লোকসভা কেন্দ্র থেকে প্রথমবার সাংসদ হয়েছিলেন ফুলনদেবী। ১৯৯৯ সালে তিনি ফের নির্বাচিত হন। মির্জাপুর এবং পূর্ব উত্তরপ্রদেশের দলিতদের মধ্যে ফুলনদেবী এখনও জনপ্রিয়।
উত্তরপ্রদেশের জালাউন জেলার ঘুরা কা পারওয়া জেলায় ১৯৬৩ সালে ফুলনদেবী জন্মগ্রহণ করেন। সম্প্রতি সমাজবাদী পার্টি সম্প্রতি রায়বেরিলিতে তাঁর মূর্তি স্থাপন করতে গিয়েছিল। কিন্তু সরকার অনুমতি দেয়নি।
ফুলনদেবী ছিলেন নিষাদ জাতের মানুষ। উচ্চবর্ণের অত্যাচারে তিনি ডাকাত দলে যোগ দেন। তাঁর গুলিতে নিহত হয় ঠাকুর সম্প্রদায়ের ২০ জন। বর্তমানে ফুলনদেবীর প্রশংসা করে অখিলেশ নিষাদ ভোট টানতে চাইছেন বলে পর্যবেক্ষকদের ধারণা।
বৃহস্পতিবার অখিলেশ সাংবাদিকদের বলেন, "মানুষ বিজেপি সরকারের প্রতি যেভাবে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে, তাতে ভোটে আমাদের ৪০০ আসনেও জিতিয়ে দিতে পারে"। মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের সমালোচনা করে তিনি বলেন, "ওই ভুয়ো বাবাকে শীঘ্র ক্ষমতা থেকে সরানো হবে"। লখিমপুর খেরির ঘটনা উল্লেখ করে তিনি বলেন, "বিজেপি কর্মীরা কৃষকদের গাড়ি চাপা দিয়ে মারছে। এই সরকার কৃষকবিরোধী। কীটনাশকের মূল্যবৃদ্ধির জন্য সরকারই দায়ী"।
পরে অখিলেশ বলেন, "এই সরকারের আমলে মুদ্রাস্ফীতি বেড়েছে। বেকারত্ব বেড়েছে। দুর্নীতি বেড়েছে। অপরাধ বেড়েছে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভেঙে পড়েছে।" অখিলেশ জানান, আগামী বিধানসভা নির্বাচনে কয়েকটি ছোট দলের সঙ্গে জোট বেঁধে লড়বে তাঁর দল। কিন্তু তাঁরা কোনও জাতীয় দলের সঙ্গে জোট করবেন না।