দ্য ওয়াল ব্যুরো: ফাইজারের টিকা নিয়ে আশা তৈরি হলেও চিন্তা কাটছে না। ণার্কিন ফার্মা জায়ান্ট ফাইজার ও জার্মান সংস্থা বায়োএনটেকের তৈরি এই টিকা সংরক্ষণ করতে হবে মাইনাস ৭০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায়। ভারতের কোনও কোল্ড চেন সংস্থার এই পরিকাঠামো নেই বলেই জানিয়েছেন দিল্লি এইমসের ডিরেক্টর রণদীপ গুলেরিয়া।
করোনার টিকা সংরক্ষণ করতে হলে খুবই কম তাপমাত্রার প্রয়োজন। এইমসের ডিরেক্টর বলেছেন, ভারতে বেশিরভাগ ভ্যাকসিনই সংরক্ষণ করা হয় ২ থেকে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায়। কয়েকটি কোল্ড চেন সংস্থার হিমাঙ্কের নিচে ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস অবধি টিকা সংরক্ষণের পরিকাঠামো রয়েছে। কিন্তু ফাইজারের টিকা তাজা রাখার জন্য যে চরম নিম্ন তাপমাত্রার প্রয়োজন তা এখনও অবধি নেই ভারতের কোনও কোল্ড স্টোরেজেই। উদ্বেগের কারণ সেখানেই।
গুলেরিয়া বলেছেন, এয়ার ট্রান্সপোর্টে টিকা আসার পরে সঙ্গে সঙ্গেই মাইনাস ৭০ ডিগ্রিতে টিকার ভায়াল ঢোকাতে হবে। তা না হলে টিকার কার্যকারিতা নষ্ট হয়ে যাবে। এরপরে কোল্ড চেন থেকে সেই তাপমাত্রা ধরে রেখেই টিকা পৌঁছে দিতে হবে দেশের নানা জায়গায়। এই গোটা প্রক্রিয়ার জন্য যে ধরনের উন্নত পরিকাঠামো দরকার তা ভরতের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলির নেই। বিশেষত গ্রামাঞ্চলে এই তাপমাত্রায় টিকা সংরক্ষণের কোনও যথাযথ ব্যবস্থাই নেই।
ফাইজারের টিকা ৯০ শতাংশ কার্যকরী হয়েছে এই খবর সামনে আসার পরেই আশা জেগেছিল। ব্রিটেনের অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রজেনেকার টিকা, রাশিয়ার স্পুটনিক ভি টিকার পরে আমেরিকার ফাইজারের টিকা দেশের বাজারে আসতে পারে বলে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। শোনা গিয়েছিল, ফাইজারের আরএনএ ভ্যাকসিন মার্কিন রেগুলেটরি কমিটির অনুমোদন পেলে ভারতেও উৎপাদন ও বিতরণ শুরু হতে পারে। ফাইজার জানিয়েছে, টিকার সেফটি ট্রায়ালের রিপোর্টে ছাড়পত্র মিললেই ডিসেম্বরের মধ্যে টিকা চলে আসবে আমেরিকায়। এরপরে অন্যান্য দেশেও টিকার বিতরণ শুরু হবে। ভারতে ফাইজারের শাখা সংস্থা ফাইজার ইন্ডিয়ার প্রতিনিধির সঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রকের কর্তাদের জরুরি আলোচনা হয়েছে বলে খবর। যদিও এই বিষয়ে সরকারি তরফে কিছু জানানো হয়নি।
তবে নানা প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও আশার কথা শুনিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক। জানা গিয়েছে, টিকার সংরক্ষণ ও বিতরণের জন্য তৈরি টাস্ক ফোর্স দেশের সমস্ত ভ্যাকসিন নির্মাতাদের সঙ্গেই কথাবার্তা চালাচ্ছে। টিকা সংরক্ষণের জন্য কীভাবে উপযুক্ত ব্যবস্থা করা যায় তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ভ্যাকসিন রেগুলেটরি কমিটির বিশেষজ্ঞ দলের প্রধান ডক্টর ভিকে পাল বলেছেন, ভ্যাকসিনের উৎপাদন, বিতরণ এবং সংরক্ষণের জন্য আলাদা আলাদা টিম তৈরি হয়েছে। কোল্ড স্টোরেজের জন্য রাজ্যগুলিকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। দেশে এখন যতগুলি কোল্ড স্টোরেজ রয়েছে তাদের পরিকাঠামো খতিয়ে দেখতে বিশেষজ্ঞ দল পাঠানো হচ্ছে।