
শেষ আপডেট: 2 February 2023 03:18
দ্রৌপদী মুর্মুকে রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী করেই বিজেপি (BJP) স্পষ্ট করে দিয়েছিল, দেশের জনজাতিদের আরও বেশি করে কাছে টানার চেষ্টা করবে তারা। যদিও বিরোধীদের বক্তব্য ছিল, এসবই প্রতীকী। জনজাতিদের অবস্থা সেই তিমিরেই।
শাসক দলের বক্তব্য, বুধবার সংসদে অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন (Nirmala Sitharaman) যে বাজেট (budget 2023) প্রস্তাব পেশ করেছেন তাতে চোখ বোলালে যে কেউ মানতে বাধ্য সরকার জনজাতিদের কল্যাণে আন্তরিক। আদিবাসীদের কল্যাণে কী আছে এবারের বাজেটে?
সরকারি সূত্রের খবর, আদিবাসী কল্যাণ মন্ত্রকের বাজেট বরাদ্দ এবার অনেকটা বৃদ্ধি করা হয়েছে। বিগত বছরের তুলনায় এবার পাঁচগুণ বৃদ্ধি করে ১৫ হাজার কোটি টাকা করা হয়েছে। এছাড়া সব দফতরেই সামাজিক খাতে বরাদ্দের ২৫ শতাংশ অর্থ তফসিলি এবং আদিবাসীদের কল্যাণে খরচ হয়ে থাকে।
এর অতিরিক্ত হিসাবে অর্থমন্ত্রী এবার বাজেটে দেশে বর্তমানে চালু একলব্য স্কুলের জন্য আগামী তিন বছরে শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী মিলিয়ে ৩৮ হাজার লোক নিয়োগের কথা ঘোষণা করেছেন। এই স্কুলগুলির ৯০ ভাগই আদিবাসী বহুল এলাকায় অবস্থিত। নিখরচার আবাসিক এই সব স্কুলে পড়ুয়াদের ৯০-৯৫ শতাংশ জনজাতি পরিবারের। সেখানে ভারতীয় ব্যবস্থার আদলে আধুনিক শিক্ষা দেওয়া হয়ে থাকে।
বিজেপির এক নেতার কথায়, বিরোধীদের একথা মাথায় রাখা দরকার যে জনজাতিদের জন্য প্রথম পৃথক মন্ত্রক চালু করেছিলেন অটল বিহারী বাজপেয়ী। বিরোধীরা সেই সত্য মেনে নিয়েও বলছে, এবারের বাজেটে যেন সরকারের টনক নড়েছে। তাদের বক্তব্য, আসলে ভোটের টানেই বাড়তি বরাদ্দ।
এ বছরের শেষে দেশের মধ্যভাগের রাজ্য রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ এবং ছত্তীশগড়ে বিধানসভার ভোট। ত্রিপুরা, মেঘালয়-সহ উত্তর-পূর্বের চারটি রাজ্যেও এ বছরই বিধানসভা নির্বাচন আছে। সব মিলিয়ে এ বছরের নয় রাজ্যের বিধানসভা ভোটের ফলকে কেন্দ্র করেই তৈরি হবে ২০২৪-এর সমীকরণ। স্বভাবতই দলের ভোট অঙ্ক মাথায় রেখেছেন অর্থমন্ত্রী।
দেশের মধ্যভাগের হিন্দিভাষী তিন রাজ্যের মধ্যে রাজস্থান এবং ছত্তীশগড় এখন কংগ্রেসের হাতে। ২০১৮-র নির্বাচনে মধ্যপ্রদেশও বিজেপির হাতছাড়া হয়েছিল। পরে কংগ্রেসকে ভাঙিয়ে ক্ষমতায় ফেরে গেরুয়া শিবির। এই তিন রাজ্যের মোট বিধানসভা আসন ৫২০টি। এরমধ্যে মধ্যপ্রদেশের ২৩০, ছত্তীশগড়ের ৯০ এবং রাজস্থানের আসন সংখ্যা ২০০টি।
অন্যদিকে, তিন রাজ্যের লোকসভা আসনের সংখ্যা ৬৫ (মধ্যপ্রদেশ-২৯, ছত্তীশগড়-১১ এবং রাজস্থান ২৫)-টি। মধ্যপ্রদেশ, ছত্তীশগড় এবং রাজস্থানে তফসিলি উপজাতি বা জনজাতি সম্প্রদায়ের লোকেরা সংখ্যায় রাজ্যের জনসংখ্যার যথাক্রমে ২১.১ শতাংশ, ছত্তীশগড়ে ৩০.৬২ শতাংশ এবং রাজস্থানে ১২.৬ শতাংশ।
মধ্যপ্রদেশে ২০১৮-র নির্বাচনে আদিবাসীদের জন্য সংরক্ষিত ৪৭ আসনের মধ্যে ৩০টি কংগ্রেস পেয়েছিল। ছত্তীশগড়েও তাই। রাজ্যের ৪১টি বিধানসভা কেন্দ্রের মোট ভোটারের পঞ্চাশ শতাংশ তফসিলি জাতি ও উপজাতি সম্প্রদায়ভুক্ত। রাজস্থানে ২৫টি আসন আদিবাসীদের জন্য সংরক্ষিত। এর কুড়িটি আগের নির্বাচনে কংগ্রেস পেয়েছিল। স্বভাবতই কংগ্রেসের আদিবাসী ভোট ব্যাঙ্কে থাবা বসানো বিজেপির লক্ষ্য।
সেই কারণে আলাদা করে উপজাতী গোষ্ঠীগুলির মধ্যে অতি পশ্চাৎপদ অংশের বিকাশে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষভাবে দুর্বল উপজাতীয় গোষ্ঠী উন্নয়ন মিশন চালুর কথা ঘোষণা করেছেন অর্থমন্ত্রী। আগামী তিন বছরে এই মিশনে ১৫ হাজার কোটি টাকা খরচের কথা ঘোষণা করেছে মোদী সরকার।
২০ হাজার কোটির শেয়ার বাজার থেকে তুলে নেবে আদানি! টাকা ফিরিয়ে দেবে বিনিয়োগকারীদের