মুকেশ আম্বানির থেকে তোলা আদায়ের ছক কষেছিলেন বরখাস্ত হওয়া পুলিশ কর্তা শচীন ওয়াজে
দ্য ওয়াল ব্যুরো : গত ২৫ ফেব্রুয়ারি শিল্পপতি মুকেশ আম্বানির (Mukesh Ambani) বাড়ির কাছে বিস্ফোরকভর্তি গাড়ি রেখেছিলেন পুলিশ অফিসার শচীন ওয়াজে। পরে তাঁকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়। ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেটং এজেন্সি (এনআইএ) চার্জশিটে বলেছে, শচীন ও ত
শেষ আপডেট: 8 September 2021 08:08
দ্য ওয়াল ব্যুরো : গত ২৫ ফেব্রুয়ারি শিল্পপতি মুকেশ আম্বানির (Mukesh Ambani) বাড়ির কাছে বিস্ফোরকভর্তি গাড়ি রেখেছিলেন পুলিশ অফিসার শচীন ওয়াজে। পরে তাঁকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়। ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেটং এজেন্সি (এনআইএ) চার্জশিটে বলেছে, শচীন ও তাঁর ঘনিষ্ঠরা শিল্পপতির থেকে তোলা আদায় করতে চেয়েছিলেন। শচীন ও অপর অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস দমন আইন ইউএপিএ এবং ভারতীয় দণ্ডবিধির অন্যান্য ধারায় মামলা করা হয়েছে। এনআইএ বলেছে, “ধনী ব্যক্তিদের থেকে টাকা আদায় করাই ছিল ওয়াজের উদ্দেশ্য। তিনি তাঁদের ভয় দেখিয়ে বলতেন, টাকা না দিলে পরিণতি খারাপ হবে।”
চার্জশিটে বলা হয়েছে, শচীনের প্রধান সহযোগী ছিলেন পাঁচজন। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ পুলিশে চাকরি করেন। বাকিরা পুলিশের চাকরি থেকে অবসর নিয়েছেন। এছাড়া আরও পাঁচজন বিস্ফোরকভর্তি গাড়ি রাখার ঘটনায় যুক্ত ছিল। তারা প্রত্যেকেই পেশাদার অপরাধী।
এনআইএ আদালতে জানিয়েছে, বিস্ফোরকভর্তি গাড়ির ভেতরে একটি নোট রেখেছিলেন ওয়াজে। তাতে আম্বানিদের হুমকি দেওয়া হয়েছিল। সেই নোটটি টেলিগ্রাম অ্যাপে শেয়ার করা হয়। পুলিশকে বিভ্রান্ত করার জন্য প্রচার করা হয়েছিল, জৈশ উল হিন্দ নামে একটি জঙ্গি সংগঠন বিস্ফোরকভর্তি গাড়ি রাখার দায়িত্ব নিচ্ছে।
চার্জশিটে বলা হয়েছে, মুকেশ আম্বানির বাড়ি অ্যান্টিলিয়ার কাছে একটি এসইউভি-র মধ্যে বিস্ফোরক রেখেছিল ‘গ্যাং অব টেন’। অর্থাৎ ওই ষড়যন্ত্রে মোট ১০ জন জড়িত ছিল। পুলিশকে বিভ্রান্ত করার জন্য তারা প্রচার করেছিল, একটি জঙ্গি সংগঠন এই ঘটনার দায়িত্ব নিচ্ছে। এসইউভি-র মালিক মনসুখ হিরনকে হত্যা করার ষড়যন্ত্রও করেছিলেন ওয়াজে।
এনআইএ-র বক্তব্য, বিস্ফোরকভর্তি গাড়িটি ড্রাইভ করে মুকেশ আম্বানির বাড়ির কাছে নিয়ে গিয়েছিলেন ওয়াজে স্বয়ং। তাঁর সঙ্গে ছিলেন পুলিশের এক ড্রাইভার। তিনি ওই ষড়যন্ত্রের কথা জানতেন না। তাঁকে বলা হয়েছিল, এসইউভি গাড়িটি একটি গোপন অপারেশনে ব্যবহার করা হচ্ছে।
চার্জশিটে বলা হয়েছে, ওয়াজে কৌশলে তদন্তের দায়িত্ব নিয়েছিলেন নিজের হাতে। সব প্রমাণ লোপাট করাই তাঁর উদ্দেশ্য ছিল। এছাড়া তিনি আম্বানি পরিবার ও সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করতে চেয়েছিলেন। পুলিশের যে ড্রাইভার ওয়াজের সঙ্গে এসইউভি গাড়িতে ছিলেন, তিনি খবরের কাগজে পুরো ঘটনার কথা পড়ে চমকে ওঠেন। কিন্তু ওয়াজে তাঁকে হুমকি দিয়েছিলেন, কোনও কথা প্রকাশ করলে ফল খারাপ হবে।
চার্জশিটে বলা হয়েছে, ওয়াজে পুলিশ কমিশনারের অফিসে ভিজিটার্স রেজিস্টার নষ্ট করে ফেলেছিলেন। তাঁর গতিবিধির ওপরে যাতে কেউ নজর রাখতে না পারে, সেজন্যই তিনি ওই রেজিস্টার নষ্ট করে দেন। এছাড়া তিনি হোটেল ওবেরয়-তে ১০০ দিনের জন্য একটি ঘর ভাড়া নিয়েছিলেন। তাঁর ধারণা ছিল, ওই ঘরে বসে নানা ছক কষতে সুবিধা হবে।
পড়ুন দ্য ওয়ালের সাহিত্য পত্রিকা 'সুখপাঠ'