
শেষ আপডেট: 21 December 2023 17:32
দ্য ওয়াল ব্যুরো, উত্তর ২৪ পরগনা: রাজ্যের শিশুরা যাতে অপুষ্টিজনিত রোগে না ভোগে, তাই অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে থেকে পুষ্টি পাউডার দেওয়া শুরু করেছিল সরকার। এবার সেই খাবার নিয়ে প্রশ্ন উঠল। মেয়াদ উত্তীর্ণ পুষ্টি পাউডার বিলি করার অভিযোগে উত্তেজনা ছড়াল গোপালনগর থানার গঙ্গানন্দপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের বিক্রমপুর এলাকায়।
নারী ও শিশু কল্যাণ দফতরের তরফ থেকে রাজ্যের প্রতিটি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র পৌঁছে দেওয়া হয় পুষ্টি পাউডার। গত ১৭ তারিখ সেই বস্তা ভর্তি পাউডারের প্যাকেট বিক্রমপুরের ওই অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র পৌঁছেছিল। গত ২০ তারিখে স্কুলের দিদিমণি বস্তা খুলে পাউডারগুলি গ্রামের মায়েদের বিলি করেন। ওই পুষ্টি পাউডার খেয়ে তিন শিশু অসুস্থ হতে এলাকার বাসিন্দাদের সন্দেহ হয়। তাঁরা দেখে, প্যাকেটগুলিতে যে তারিখ দেওয়া রয়েছে তার মেয়াদ পাঁচ মাস আগেই উত্তীর্ণ হয়ে গিয়েছে। এই ঘটনা সামনে আসতে রীতিমতো শোরগোল পড়ে যায়। জবাব চাইতে ডেকে পাঠানো হয় দিদিমণিকে।
এক শিশুর মা জানিয়েছেন, তাঁর দুই সন্তান। দ্বিতীয় সন্তান বেশ ছোট। তার জন্য সকালে অঙ্গনওয়াড়ি থেকে দেওয়া প্যাকট খুলে খাবার তৈরি করতে গিয়েছিলেন। সেখানে তিনি দেখেন পাউডারে পোকা কিলবিল করছে। সঙ্গে সঙ্গে তিনি স্কুলে এসে বিষয়টি দিদিমণিকে জানান।
গ্রামবাসীদের অভিযোগ, আসলে ওই দিদিমণি মেয়াদ না দেখেই সমস্ত খাবারের প্যাকেট বিলি করে দিয়েছিলেন। তার দায়সারা কাজের জন্যই এমন ঘটনা ঘটেছে। ম্যানুফ্যাকচারিং ডেট থেকে ১২০ দিন মেয়াদ থাকে পুষ্টি পাউডারের।
তাদের আরও অভিযোগ, স্কুলে পড়ুয়াদের যে চাল দেওয়া হয়, তাতেও পোকা থাকে। শিক্ষা কেন্দ্রের কর্মী নিয়মিতভাবে আসেন না। শিশুর মায়েদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন দিদিমণি।
অভিযুক্ত ওই দিদিমণি সুলেখা সরকার বলেন, ''আমি যেমন খাবার পেয়েছি, ঠিক তেমনটাই দিয়েছি। তবে খাবারের প্যাকেটের তারিখ না দেখে প্যাকটে বিলিয়ে দেওয়া আমার ভুল হয়েছে।''
এই বিষয়ে সিডিপিও বনগাঁ সঞ্জয় পোদ্দার বলেন, ”ওই অঙ্গনওয়াড়ি দিদিমণিকে ডেকে পাঠিয়েছি। বিষয়টি আমরা তদন্ত করছি । যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।“