
শেষ আপডেট: 1 July 2020 18:30
আরএনএ টেকনোলজিতে ভ্যাকসিন বানিয়েছে ফাইজার ও বায়োএনটেক
অক্সফোর্ড ও অ্যাস্ট্রজেনেকা ডিএনএ (ডিঅক্সিরাইবো নিউক্লিক অ্যাসিড)টেকনোলজিতে ভ্যাকসিন বানাচ্ছে। মোডার্না বায়োটেক মেসেঞ্জার আরএনএ (রাইবোনিউক্লিক অ্যাসিড) সিকুয়েন্সকে কাজে লাগিয়ে ভ্যাকসিন ক্যানডিডেট ডিজাইন করেছে। ফাইজারের বানানো ভ্যাকসিনও আরএনএ প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়েই তবে এই ভ্যাকসিনের ডিজাইন ও তৈরির পদ্ধতি কিছু আলাদা।
[caption id="attachment_235626" align="alignnone" width="900"]
বায়োএনটেকের ভাইরোলজিস্ট অধ্যাপক উগার সাহিন[/caption]
গবেষণার তত্ত্বাবধানে রয়েছেন বায়োএনটেকের ভাইরোলজিস্ট অধ্যাপক উগার সাহিন। তিনি জানিয়েছেন এই আরএনএ ভ্যাকসিনের নাম BNT162। সার্স-কভ-২ ভাইরাসের সংক্রামক আরএনএ স্ট্রেন স্ক্রিনিং করে আলাদা করে প্রথমে ল্যাবরেটরিতে বিশেষ উপায় পিউরিফাই করা হয়েছে। এই পর্যায়ে ভাইরাল স্ট্রেনকে এমনভাবে নিষ্ক্রিয় করে দেওয়া হয় যাতে শরীরে ঢুকলে তার সংক্রামক ক্ষমতা কমে যায়। এই নিষ্ক্রিয় বা দুর্বল আরএনএ স্ট্রেন তখন কোষে ঢুকে প্রতিলিপি তৈরি করতে পারে না। এই জাতীয় ভাইরাল স্ট্রেনের খোঁজ পেলেই সক্রিয় হয়ে ওঠে বি লিম্ফোসাইট কোষ বা বি-কোষ। নিজেদের অজস্র ক্লোন তৈরি করে রক্তরসে অ্যান্টিবডি তৈরি করতে শুরু করে। পাশাপাশি, ভাইরাল অ্যান্টিজেনকে ভাল করে চিনেও রাখে। ফের যদি এমন অ্যান্টিজেনের খোঁজ পায় তাহলে খুব দ্রুত যাতে রোগ প্রতিরোধ বা ইমিউনিটি পাওয়ার গড়ে তুলতে পারে। এই প্রক্রিয়াকে বলে অ্যান্টিবডি বেসড ইমিউন রেসপন্স বা অ্যাডাপটিভ ইমিউন রেসপন্স (Adaptive Immune Response)।
কীভাবে ভ্যাকসিনের ট্রায়াল করছে ফাইজার
ফাইজারের ভ্যাকসিন রিসার্চ বিভাগের প্রধান ক্যাথরিন জ্যানসেন বলেছেন, প্রথম ধাপে ৪৫ জন সুস্থ ব্যক্তির শরীরে ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছিল। তাদের দুটি দলে ভাগ করে ২৪ জনকে হাই ডোজে ভ্যাকসিনের দুটি ইঞ্জেকশন দেওয়া হয়। বাকিদের দেওয়া হয় কম ডোজে। এরপরে তাদের শারীরিক পরিবর্তন পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। দেখা গেছে, যাদের বেশি ডোজে ভ্যাকসিনের দুচি শট দেওয়া হয়েছিল তাঁদের শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হতে শুরু করেছে। শুধু তাই নয় অ্যান্টিবডির পরিমাণও বেশি।
বেইলর কলেজ অব মেডিসিনের ন্যাশনাল স্কুল অব ট্রপিকাল মেডিসিন বিভাগের প্রধান পিটার হটেজ বলেছেন, ফাইজার ও বায়োএনটেকের প্রথম ভ্যাকসিন ট্রায়ালের রিপোর্ট আশা জাগাচ্ছে। এই ভ্যাকসিনের ডোজে যে পরিমাণ অ্যান্টিবডি তৈরি হচ্ছে বলে জানা গেছে সেটা আগামী দিনে হার্ড ইমিউনিটি গড়ে তুলতে পারবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ক্যাথরিন বলেছেন, দ্বিতীয় পর্যায়ে আরও বেশি সংখ্যক মানুষকে ভ্যাকসিন দেওয়া হবে। তৃতীয় পর্যায়ে অন্তত ৩০ হাজার জনকে ভ্যাকসিন দেওয়ার বৃহত্তর পরিকল্পনা রয়েছে। প্রথম ট্রায়ালের সাফল্য দেখেই ভ্যাকসিনের ডোজ তৈরি শুরু হয়েছে। প্রথম ধাপে ১০ কোটি ভ্যাকসিনের ডোজ তৈরি হবে। চূড়ান্ত পর্যায়ে সাফল্য এলে আগামী বছরের মধ্যে ১২০ কোটি ভ্যাকসিনের ডোজ তৈরি করে ফেলা হবে।