
শেষ আপডেট: 12 November 2018 06:10
গৌতমী সেনগুপ্ত
রবিবার ভোর রাত ৩টে। কলকাতা বিমানবন্দরে নামলেন সঞ্জয় মালিক।মালয়েশিয়ায় আটকে থাকা বাঙালি বন্দিদের মধ্যে এক জনকে উদ্ধার করতে সফল এনএটিসি।খবরটা গতরাতেই দ্য ওয়ালের কাছে এসে পৌঁছয়। মুক্ত সেই এক বাঙালি সঞ্জয় মালিক। রবিবার ভোর রাতে হাসি মুখে কলকাতায় পা রাখলেন। সঞ্জয় মালিককে নিতে আসেন ন্যাশনাল অ্যান্টি ট্রাফিকিং কমিটির আধিকারিকরা। রবিবার রাতেই মালয়েশিয়া বিমানবন্দর থেকে ভিডিও মেসেজ করেন সঞ্জয় মালিক। যিনি গত এক মাস ধরে মালয়েশিয়ায় বন্দি ছিলেন। আগের ভিডিও মেসেজে সঞ্জয়কে প্রাণ ভিক্ষা চাইতে দেখা গিয়েছিল, গতকালের মেসেজটি প্রাণ ফিরে পাওয়ার আনন্দের। মেসেজে সঞ্জয় ন্যাশনাল অ্যান্টি ট্রাফিকিং কমিটির চেয়ারম্যান জিন্নার আলিকে ধন্যবাদ জানাচ্ছেন, তখনও তিনি বিশ্বাস করতে পারছেন না, অকথ্য অত্যাচারের কবল থেকে তিনি মুক্ত। দ্য ওয়ালের হাতে এসেছে সেই ভিডিও- https://www.youtube.com/watch?v=5ZfDq6pmPwQ&feature=youtu.be গত ৮ নভেম্বর জিন্নার আলির কাছে বাঁচার আর্জি জানিয়ে ভিডিও মেসেজ করেন জুলফিকর মণ্ডল ও সঞ্জয় মালিক।তাঁরা জানান, গত এক মাস ধরে মালয়েশিয়ার তাঁরা বন্দি। চাকরি দেওয়ার নামে তাঁদের নিয়ে আসা হয়েছে। তারপর থেকেই তাঁদের ক্রীতদাসের জীবন শুরু হয়। সকাল থেকে রাত হাড় ভাঙা খাটুনির পরও জুটছে না খাবার,বেতন। ভিডিও মেসেজ পেয়ে তৎপর হন জিন্নার আলি।মালয়েশিয়ার ভারতীয় দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করে বাঙালিদের উদ্ধারের ব্যবস্থা করেন। যা কিছুটা হলেও সফল। নিজের পাসপোর্ট, টাকা পয়সা নিয়ে সেই মৃত্যু জাল থেকে বেরিয়ে আসতে পেরেছেন সঞ্জয়। ৩২ বাঙালিকে বিদেশে পাচার!! মালয়েশিয়া থেকে ভিডিও মেসেজে বাঁচার আর্জি, তৎপর সেই জিন্নার আলি দ্য ওয়ালকে জিন্নার আলি জানালেন, “বাকি ২৫ বাঙালি এখনও ওখানেই, তবে তাঁরা সুরক্ষিত।এখনও পাসপোর্ট না মেলায় ফিরতে পারছেন না তাঁরা। খুব তাড়াতাড়ি ২৫ জনই ফিরবেন।“
১ মাসের বন্দিদশা কাটিয়ে মুক্ত সঞ্জয়। তবে বন্ধুরা যে এখনও ওখানেই । বন্ধু জুলফিকর মণ্ডলকে সঙ্গে নিয়ে ভিডিও মেসেজ করেছিলেন সঞ্জয়। জানিয়েছিলেন ৩২ বাঙালি মালয়েশিয়ায় বন্দি। সঞ্জয় ফিরে আসায় এইটুকু স্পষ্ট, জিন্নার আলির উদ্যোগেই তৎপর হয়েছে মালয়েশিয়ার ভারতীয় দূতাবাস। বন্দি বাঙালিরা সেখানে সুরক্ষিত। এবার ফেরার অপেক্ষায়।