Exclusive: "জানি কী করতে অন্ধকার রাস্তায়!" বলেই সমকামীকে চড় পুলিশের
শোভন চক্রবর্তী
দেশের শীর্ষ আদালত ঐতিহাসিক রায় দিয়ে দিয়েছে। তবু সমকামী হওয়ার অপরাধে কলকাতার প্রাণ কেন্দ্রে হেনস্থা হতে হলো রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রকে। অভিযোগের তির খোদ পুলিশের দিকে।
আর পাঁচটা ছেলের মতো নয় অভিষেকের হাঁটা-চলা-পো
শেষ আপডেট: 9 October 2018 17:05
শোভন চক্রবর্তী
দেশের শীর্ষ আদালত ঐতিহাসিক রায় দিয়ে দিয়েছে। তবু সমকামী হওয়ার অপরাধে কলকাতার প্রাণ কেন্দ্রে হেনস্থা হতে হলো রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রকে। অভিযোগের তির খোদ পুলিশের দিকে।
আর পাঁচটা ছেলের মতো নয় অভিষেকের হাঁটা-চলা-পোশাক। মধ্য কলকাতার বাসিন্দা তথা রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের হিউম্যান রাইটসের স্নাতকোত্তরের ছাত্র অভিষেক কর একজন সমকামী। সোমবার নন্দন চত্বরে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা মেরে বাড়ি ফেরার সময় পুলিশ তাঁকে হেনস্থা করেছে বলে অভিযোগ করেছেন অভিষেক। মঙ্গলবার বিকেলে ময়দান থানায় পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগও দায়ের করেছেন তিনি। তাঁর দাবি, এ দিন যখন তিনি থানায় যান, সেখানেও হেনস্থার শিকার হন।
কী হয়েছিল সোমবার?
অভিষেক বলেন, "সোমবার আমি এবং আমার দুই বন্ধু নন্দন থেকে বেরিয়ে হেঁটে হেঁটে ময়দান মেট্রো স্টেশনে আসি। ব্যাগে হাত দিয়ে দেখি আমার মানিব্যাগটা নেই। ফোন করি নন্দনের সামনে দোকানদার ভাস্করদাকে। তিনি বলেন দোকানেই পড়ে রয়েছে মানি ব্যাগ। বন্ধুদের বলি চলে যেতে। আমি শর্টকার্ট রাস্তা দিয়ে নন্দনের দিকে হাঁটতে শুরু করি। এরপর একটা পুলিশের মোটরসাইকেল এসে আমার পথ আটকায়। নেমে আসেন সাদা পোশাকের তিনজন। আমায় বলে, জানি অন্ধকার রাস্তায় কী করতে এসেছিস। অশ্লীল গালাগাল করতে থাকে ওরা। বলে, আমি নাকি যৌন কার্যের জন্য অন্ধকারে গেছিলাম। আমি মানি ব্যাগ হারানোর কথা বলতেই ওরা বলে সব নাটক। আমি বলি ফোন করুন দোকানদারকে। একজন আমায় থাপ্পড় মারে। এরপর আমি বলি আমায় থানায় নিয়ে চলুন। ওরা বলে দাঁড়া গাড়ি আসছে। মিনিট কুড়ি কেটে যায়। ঘড়িতে তখন রাত নটা পঁচিশ। আমি বলি কোথায় গাড়ি? পুলিশ বলে গাড়ি খারাপ হয়ে গেছে। বাড়ি যা।"
অভিষেক
দ্য ওয়াল-কে টেলিফোনে বলেন, তাঁর মা অসুস্থ। বাবা গত হয়েছেন দু'মাস আগে। মাকে ইনসুলিন নিতে হয়। তিনি তাই সোমবার বাড়ি ফিরে যান। তিনি আরও বলেন, "কাল যখন ওরা আমায় হেনস্থা করছে, রাস্তায় তখন কয়েকজন দাঁড়িয়ে পড়েছিল। তাঁরা প্রতিবাদ করতে পুলিশ তাঁদেরকে বলে, মানুষ হলে ছেড়ে দিতাম। হিজড়েদের কোনও ছাড় নেই।"
মঙ্গলবার বিকেলে থানায় গিয়ে ওই তিন পুলিশকর্মীর রোষের মুখে পড়তে হয় বলেও অভিযোগ অভিষেকের।
ময়দান থানায় যোগাযোগ করা হলে পুলিশ অভিযোগ দায়েরের কথা স্বীকার করে নেয়। এক আধিকারিক বলেন, "আজ বিকেলে অভিযোগ দায়ের হয়েছে। আমরা খতিয়ে দেখছি কী ঘটনা ঘটেছিল।"
অভিষেক জানিয়েছেন, বুধবার তিনি মানবাধিকার আইনে মামলা করবেন পুলিশের বিরুদ্ধে।