
শেষ আপডেট: 16 February 2024 17:04
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সাত সকালে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থীরা স্কুলের জানানো কেন্দ্রেই হাজির হয়েছিল। সেখানে গিয়ে জানতে পারে, এই স্কুলে তাদের সিটই পড়েনি। আসলে এক স্কুলে সিট পড়েছে পরীক্ষার্থীদের, অথচ স্কুল জানিয়েছে আরেক স্কুলের কথা। শুক্রবার উচ্চমাধ্যমিকের প্রথম দিনই এমন বিশৃঙ্খলার মুখে পড়ে বেশ কয়েকজন পরীক্ষার্থীরা।
শুক্রবার উচ্চমাধ্যমিকের প্রথম ভাষার পরীক্ষা ছিল। এদিন একাধিক জায়গায় পরীক্ষাকেন্দ্র নিয়ে ভোগান্তি পোহাতে হয় পড়ুয়াদের। মালদহের একটি স্কুলে এমনটা ঘটেছে বলে জানান উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের সভাপতি চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য। একই অভিযোগ উঠেছে লেকটাউনের একটি স্কুলেও। যার জেরেই নতুন সিদ্ধান্ত নিল সংসদ।
মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ডে পরীক্ষাকেন্দ্রের নাম লেখা থাকে। কিন্তু উচ্চমাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ডে পরীক্ষাকেন্দ্রের উল্লেখ থাকে না। আর তাতেই শেষ মুহূর্তে বিপদে পড়তে হয় পড়ুয়াদের। তাই আগামী বছর থেকে অ্যাডমিট কার্ডে পরীক্ষাকেন্দ্রের নাম লেখা থাকবে বলে জানিয়েছে সংসদ।
জানা গিয়েছে, লেকটাউন আদ্যনাথ শিক্ষা নিকেতনের উচ্চমাধ্যমিকের সিট প্রতি বছরই বাঙুর বয়েজ হাইস্কুলে পড়ে। এবারও স্কুল থেকে জানানো হয়েছিল, বাঙুর বয়েজেই সিট পড়েছে। অভিভাবকরা জানান, সাড়ে ৮টার মধ্যে আদ্যনাথের পরীক্ষার্থীরা বাঙুর বয়েজের সামনে চলে যায়। কিন্তু ৯টা ১০ মিনিটেও সিট নম্বরের তালিকা ঝোলানো হয়নি।
এরপরই অভিভাবকরা বাঙুর বয়েজের পরীক্ষা পরিদর্শকের সঙ্গে কথা বলে জানতে পারেন, আদ্যনাথের পড়ুয়াদের সিট ওই স্কুলে পড়েনি, সিট পড়েছে পল্লীশ্রী হাইস্কুলে। তাতে কপালে হাত পড়ে যায় পরীক্ষার্থীদের। যদিও লেকটাউন আদ্যনাথ শিক্ষা নিকেতনের প্রধান শিক্ষিকা তাঁর ভুলের কথা স্বীকারও করেন। তবে এমন ভুল কোনওভাবেই মেনে নিতে নারাজ অভিভাবকরা।
এরপর পরীক্ষা শেষ হওয়ার জন্য সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সংসদ সভাপতি চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য বলেন, “মালদহে একটি স্কুলে ৭-৮ জন ভুল পরীক্ষাকেন্দ্রে চলে যায়। হেড অব দ্য ইনস্টিটিউশনের কথায় তারা গেলেও সেটা সঠিক ভেন্যু ছিল না। এখনও পর্যন্ত অ্যাডমিট কার্ডে পরীক্ষাকেন্দ্রের নাম লেখা থাকে না। আজকের ঘটনার পর আগামী বছর থেকে অ্যাডমিট কার্ডে পরীক্ষাকেন্দ্রের নাম লেখা থাকবে।”
একইসঙ্গে এদিন উচ্চমাধ্যমিকেও প্রশ্নপত্রের ছবি তুলে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল করে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। বেলঘরিয়ার একটি পরীক্ষাকেন্দ্র থেকে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ উঠেছিল। পরে জানা যায়, ওই কেন্দ্রের এক পরীক্ষার্থী প্রশ্নপত্র হাতে পাওয়ার পরেই মোবাইলে ছবি তুলে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছে। হাতে নাতে ধরা পড়ে যায় সে। এরপরেই ওই অভিযুক্তের পরীক্ষা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয় শিক্ষা সংসদ।