দ্য ওয়াল ব্যুরো : কিছুদিন ধরেই শোনা যাচ্ছিল, মেঘালয়ের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মুকুল সাংমা (Mukul Sangma) কংগ্রেস ছাড়তে পারেন। তাঁর সঙ্গে দল ছাড়বেন আরও কয়েকজন কংগ্রেস বিধায়ক। প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি ভিনসেন্ট এইচ পালা একথা গুজব বলে উড়িয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু এরপর জানা গেল, রবিবার দিল্লিতে গিয়েছেন মুকুল। প্রদেশ কংগ্রেসের বিরুদ্ধে কয়েকটি অভিযোগ নিয়ে তিনি দেখা করেছেন দলনেত্রী সোনিয়া গান্ধী ও প্রাক্তন সভাপতি রাহুল গান্ধীর সঙ্গে। একটি সূত্রে খবর, মুকুল সাংমাকে দলে টানার চেষ্টা করছে তৃণমূল।
রবিবার নিজের বাসভবনে রাহুল বৈঠকে বসেন সাংমা, পালা, হাইকম্যান্ডের তরফে মেঘালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মনীশ ছত্রথ এবং প্রবীণ কংগ্রেস নেতা কে সি বেণুগোপালের সঙ্গে। সাংমা যখন দিল্লিতে, তখনই মেঘালয়ের কয়েকটি আসনে উপনির্বাচনের প্রার্থী ঘোষণা করেছে কংগ্রেস।
সদ্য পাঞ্জাবে সংকট কাটিয়ে উঠেছে কংগ্রেস। প্রাক্তন ক্রিকেটার তথা রাজনীতিক নভজ্যোৎ সিং সিধু আচমকা পদত্যাগ করায় সংকট সৃষ্টি হয়েছিল পাঞ্জাব কংগ্রেসে। পরে মুখ্যমন্ত্রী পরমজিৎ সিং চান্নির সঙ্গে বৈঠকের পরে তিনি পদত্যাগপত্র ফিরিয়ে নেন। এই পরিস্থিতিতে শনিবার তিনি টুইট করে বললেন, কোনও পদে থাকুন বা না থাকুন তিনি সবসময় প্রাক্তন কংগ্রেস সভাপতি ও কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়ঙ্কা গান্ধীর পাশে থাকবেন।
টুইটে সিধু লিখেছেন, "আমি গান্ধিজি ও শাস্ত্রীজির আদর্শে বিশ্বাসী। পদ পাই বা না পাই, সবসময় রাহুল গান্ধী ও প্রিয়ঙ্কা গান্ধী বঢরার পাশে দাঁড়াব। নেতিবাচক শক্তিগুলি আমাকে পরাজিত করতে চাইছে। কিন্তু ইতিবাচক শক্তির সাহায্যে আমি পাঞ্জাবকে জিতিয়ে দেব।"
গত ২৮ সেপ্টেম্বর সিধু পাঞ্জাব প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি পদ থেকে ইস্তফা দেন। তিনি বলেন, রাজ্যের ভবিষ্যতের সঙ্গে আপস করতে পারবেন না। একটি সূত্রে জানা যায়, চান্নি মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পরে প্রশাসনের শীর্ষপদে এমন কয়েকজনকে নিয়োগ করেছিলেন, যাঁদের সিধুর পছন্দ হয়নি। তাঁদের মধ্যে অন্যতম হলেন রাজ্যের পুলিশ প্রধান ইকবাল প্রীত সিং সাহোতা এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুখজিন্দর সিং রণধাওয়া।
গত সেপ্টেম্বরে রাহুল ও কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়ঙ্কা গান্ধী বঢরার সঙ্গে দেখা করেন রাজস্থানের নেতা শচীন পাইলট। তখন জল্পনা শুরু হয়, রাজস্থান কংগ্রেসেও দেখা দিয়েছে বিক্ষোভ। তার ফলে দলে ও রাজ্য সরকারে কিছু পরিবর্তনও হতে পারে। গতবছর কংগ্রেস ত্যাগ করার জন্য প্রায় প্রস্তুত হয়ে গিয়েছিলেন শচীন। রাহুলের সঙ্গে বৈঠকের পরে তিনি সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেন। গত জুন মাসে ফের শোনা যায় শচীন বিজেপিতে যোগ দিতে পারেন। শচীন অবশ্য বিজেপিতে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেন। কিন্তু সেই সঙ্গে বলেন, রাহুল তাঁকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, রাজস্থান সরকারে কিছু রদবদল করা হবে। সেই প্রতিশ্রুতি এখনও পালিত হয়নি।
এআইসিসি-র তরফে রাজস্থানের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা অজয় মাকেন সম্প্রতি বেশ কয়েকবার রাজস্থানে গিয়েছেন। মন্ত্রিসভার রদবদল নিয়ে তিনি আলোচনা করেছেন বিধায়কদের সঙ্গে। একটি সূত্রের খবর, পাইলট রাহুলকে বলেছেন, তাঁর অনুগামী কয়েকজন বিধায়ককে মন্ত্রী করতে হবে। সেই সঙ্গে রাজ্যের বিভিন্ন বোর্ড ও কর্পোরেশনের শীর্ষেও বসাতে হবে তাঁর ঘনিষ্ঠদের।