দ্য ওয়াল ব্যুরো : ‘প্রশাসন ভেঙে পড়েছে। রাজ্যে আইনের শাসন নেই।’ চারপাতার এক চিঠিতে উত্তরপ্রদেশ সম্পর্কে এমনই অভিযোগ করলেন ২০০ জন বিশিষ্ট নাগরিক। তাঁদের মধ্যে আছেন প্রাক্তন আইএএস, আইএফএস এবং আইপিএস অফিসাররা। তাঁদের অভিযোগ, পুলিশ খুশিমতো মানুষকে আটক করছে। শান্তিপূর্ণ সমাবেশের ওপরে আক্রমণ চালাচ্ছে। বিচারের আগেই অনেককে অপরাধী সন্দেহ করে গ্রেফতার করা হচ্ছে। তথাকথিত লাভ জেহাদের নামে মুসলিমদের টার্গেট করা হচ্ছে। গোহত্যার নামে ন্যাশনাল সিকিউরিটি অ্যাক্টের অপব্যবহার করা হচ্ছে।
কোভিড সংকট মোকাবিলায় রাজ্যের ‘ব্যর্থতার’ সমালোচনা করে বলা হয়েছে, অতিমহামারীতে মৃত্যু কমিয়ে দেখানো হয়েছে। কোভিডের দ্বিতীয় ওয়েভের মুখে কার্যত ভেঙে পড়েছে রাজ্যের স্বাস্থ্যব্যবস্থা। চিঠিতে লেখা হয়েছে, “আমরা উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ করছি, উত্তরপ্রদেশ প্রশাসন ক্রমশ সাংবিধানিক মূল্যবোধ ও আইনের শাসন থেকে দূরে সরে যাচ্ছে।”
পরে লেখা হয়েছে, “প্রশাসনের প্রতিটি শাখা, বিশেষত এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট এবং পুলিশ বিভাগ অচল হয়ে পড়েছে। আমাদের আশঙ্কা, এই পরিস্থিতি বজায় থাকলে আগামী দিনে রাজ্যে গণতন্ত্র ধ্বংস হয়ে যাবে।”
কেরলের সাংবাদিক সিদ্দিক কাপ্পানকে গ্রেফতার করার ঘটনা উল্লেখ করে বলা হয়েছে, “তিনি ২০০ দিনের বেশি জেলে কাটিয়েছেন। যাঁরা উত্তরপ্রদেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার সমালোচনা করেছিলেন, তাঁদেরও শাস্তির মুখে পড়তে হয়েছে।”
আগামী বছরেই ভোট হবে উত্তরপ্রদেশে। চিঠিতে সেকথা উল্লেখ করে বলা হয়েছে, “উত্তরপ্রদেশে বর্তমান সরকার প্রথম থেকেই সরকারবিরোধী মনোভাব নিয়ে চলছে। আগামী দিনে যদি এই প্রবণতা বন্ধ না হয়, তাহলে ভোটের আগে রাজ্যে সাম্প্রদায়িক মেরুকরণ ও অশান্তি দেখা দেবে।”
এর মধ্যে জানা যায়, উত্তরপ্রদেশ রাজ্য ল কমিশন প্রথম খসড়া বিল পেশ করে সুপারিশ করেছে, দু’টি বা তার কম সন্তান থাকলে ইনসেনটিভ মিলবে, কিন্তু তার বেশি সন্তান হলেই নানা নিষেধাজ্ঞা চাপবে। দুই সন্তান নীতি লঙ্ঘন করলে সরকারি স্কিমের সুবিধা পাওয়া যাবে না, রেশন কার্ডে মালপত্র পাওয়া যাবে চার ইউনিট পর্যন্ত। স্থানীয় প্রশাসনিক নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া, সরকারি চাকরির আবেদন করা যাবে না, সরকারি কর্মচারী হলে পদোন্নতি চাওয়া যাবে না। দুই সন্তান নীতি মানলে গোটা কর্মজীবনে দুটি বাড়তি ইনক্রিমেন্ট হবে, জমি বা বাড়ি কেনা যাবে ভর্তুকি দামে। সরকারি পরিষেবা চার্জে ছাড় মিলবে। জাতীয় পেনসন স্কিমে বাড়তি তিন শতাংশ ইপিএফের সুবিধাও পাওয়া যাবে। ১৯ জুলাইয়ের মধ্যে খসড়া বিল সম্পর্কে জনসাধারণের মতামত চেয়েছে ল কমিশন।