ডাকাতি রুখতে গিয়েই আততায়ীদের হাতে খুন অমেঠীর প্রাক্তন সেনা অফিসার, জানাল পুলিশ
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ডাকাতি রুখতে গিয়েই আততায়ীদের রোষের মুখে পড়েছিলেন অমেঠীর প্রাক্তন সেনা অফিসার আমানুল্লা। গণপিটুনিতে শনিবার রাতে সেনা অফিসারের মৃত্যুর পর এই তথ্যই সামনে এনেছে পুলিশ। ৬৪ বছরের প্রাক্তন সেনা অফিসারের মৃত্যু ঘিরে ইতিমধ্যেই তীব
শেষ আপডেট: 28 July 2019 18:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ডাকাতি রুখতে গিয়েই আততায়ীদের রোষের মুখে পড়েছিলেন অমেঠীর প্রাক্তন সেনা অফিসার আমানুল্লা। গণপিটুনিতে শনিবার রাতে সেনা অফিসারের মৃত্যুর পর এই তথ্যই সামনে এনেছে পুলিশ। ৬৪ বছরের প্রাক্তন সেনা অফিসারের মৃত্যু ঘিরে ইতিমধ্যেই তীব্র অসন্তোষ দানা বেঁধেছে নানা মহলে। গণপিটুনির ঘটনা নিয়ে কেন্দ্র-রাজ্যের বিজেপি সরকারকে কটাক্ষ করে প্রিয়ঙ্কা গান্ধী বলেছেন, গণপিটুনির মতো ঘটনা রুখতে বর্তমান বিজেপি সরকার কোনওভাবেই সক্ষম নয়। বরং উত্তরপ্রদেশের মতো জায়গায় এই ধরনের অপরাধ দিন দিন বেড়েই চলেছে।
কামরাউলি থানার গোড়িয়াঁ কা পূর্বা গ্রামে এই ঘটনা ঘটেছে শনিবার রাতে। এএসপি দয়ারাম জানিয়েছেন, ঘটনার সময় আমানুল্লা তাঁর বাড়িতেই ছিলেন। সেনা অফিসারের ছেলে ও স্ত্রীয়ের কথায়, ওই দিন তাঁদের বাড়ি লাগোয়া একটি দোকান লুঠের চেষ্টা চালাচ্ছিল কয়েকজন দুষ্কৃতী। তারই প্রতিবাদ জানান প্রাক্তন সেনা অফিসার। তাঁকে রুখে দাঁড়াতে দেখে সেই মুহূর্তের জন্য রণে ভঙ্গ দিয়ে পালায় দুষ্কৃতীরা। আবার ফিরে আসে রাতের দিকে।
পুলিশের কথায়, দুষ্কৃতীদের দেখে পুলিশে খবর দেন আমানুল্লার স্ত্রী। তবে পুলিশ পৌঁছনোর আগেই বাড়িতে ঢুকে পড়ে আততায়ীরা। প্রত্যেকের হাতে ছিল লাঠি, ধারালো অস্ত্র। এলোপাথাড়ি মারতে শুরু করে সেনা অফিসারকে। তিনি বাধা দিতে গেলে তাঁর স্ত্রীয়ের গায়েও হাত তোলা হয়। বেধড়ক মেরে আমানুল্লার মাথা ফাটিয়ে দেয় তারা। গলা টিপে মারারও চেষ্টা করে। তবে পুলিশ এসে পড়ায় চম্পট দেয়। রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে সেনা অফিসারকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথেই মৃত্যু হয় তাঁর।
এই ঘটনার পরই ক্ষোভের আগুন জ্বলে ওঠে অমেঠীতে। প্রিয়ঙ্কা গান্ধী বলেন, "উত্তরপ্রদেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভেঙে পড়েছে। অপরাধ চাপা দেওয়ার চেষ্টা করে চলেছে বিজেপি সরকার। অমেঠী আমার বাড়ি। সেখানে এমন গুরুতর অপরাধের ঘটনা ঘটেছে। সব দেখেও বিজেপি সরকার কি চোখ বন্ধ করে রাখবে নাকি কোনও আইনি পদক্ষেপ নেবে?"
এক বছর আগে সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্রের বেঞ্চ সুপারিশ করেছিল, দেশে গণপিটুনি বন্ধ করতে কেন্দ্রীয় সরকার নতুন আইন আনুক। সেই মতো কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারগুলির জন্য নির্দেশিকাও তৈরি হয়েছিল। শীর্ষ আদালতের সুপারিশ ছিল, সংসদে গণপিটুনি রুখতে আইন তৈরি হোক। কড়া শাস্তির ব্যবস্থা হোক যা দেখে এমন হিংসা ছড়ানোর আগে মানুষ ভয় পাবে। সম্প্রতি গণপিটুনির ঘটনা রুখতে সম্প্রতি কেন্দ্র ও রাজ্যগুলিকে ফের নোটিস পাঠিয়েছে প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈয়ের বেঞ্চ।