শেষ আপডেট: 27 January 2020 04:06
এই আইনের বিরুদ্ধে রয়েছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের ১৫৪ সদস্য বিশিষ্ট প্রোগ্রেসিভ অ্যালায়েন্স অফ সোশ্যালিস্ট অ্যান্ড ডেমোক্র্যাক্টস, ১৮২ সদস্য বিশিষ্ট ইউরোপিয়ান পিপলস ডেমোক্র্যাক্টস (ক্রিশ্চান ডেমোক্র্যাটস), ৪১ সদস্যের ইউরোপিয়ান ইউনাইটেড লেফট ও নর্ডিক গ্রিন লেফ্ট, ৭৫ সদস্যের গ্রিনস/ইউরোপিয়ান ফ্রি অ্যালায়েন্স এবং ১০৮ সদস্যের রিনিউ ইউরোপ গ্রুপ।
রেজলিউশন গ্রহণের সময় প্রোগ্রেসিভ অ্যালায়েন্স অফ সোশ্যালিস্ট অ্যান্ড ডেমোক্র্যাক্টসরা সমালোচনা করে বলেছিল, “ঘটনা হল দেশীয়করণ ও উদ্বাস্তু নীতি ভারত গ্রহণ করেছে ধর্মের ভিত্তিতে।” ইউরোপিয়ান পিপলস পার্টির আশঙ্কা হল, “সিএএ এবং তার পরবর্তীতে যে বিপুল বিরোধিতা দেখা গেছে তার প্রভাব পড়তে পারে ভারতের অভ্যন্তরীণ ভাবমূর্তি ও অভ্যম্তরীণ স্থিতাবস্থার উপরে।”
সরকার অবশ্য এই বিষয়টিকে পুরোপুরি ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় বলেই অবস্থান গ্রহণ করে আসছে। ভারত মনে করে যে, প্রত্যেকটি সমাজই আত্তীকরণের ব্যাপারে নির্দিষ্ট নীতি ও পন্থা অবলম্বন করে চলে। এর মধ্যে বৈষম্যের কোনও ব্যাপার নেই। ঘটনা হল, ইউরোপের সমাজও এইরকম নীতি মেনেই চলে। সরকার মনে করে, পরবর্তী পদক্ষেপ করার আগে তাদের এইসব যুক্তিপূর্ণ ও নিখুঁত ব্যাখ্যা বাস্তব পরিস্থিতি বুঝতে সহায়তা করবে।
সরকারি সূত্রে বলা হচ্ছে, ইউরোপিয়ান ইউনিয়নে এমন কোনও পদক্ষেপ করা উচিত নয় যেখানে বিশ্বের অন্য কোনও প্রান্তে গণতান্ত্রিক ভাবে নির্বাচিত আইনসভার অধিকার ও কর্তৃত্বের উপরে প্রশ্নচিহ্ন পড়ে যায়।
এর আগে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের ১৫০ জন সদস্য দাবি করেছিলেন যাতে ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তির সময় মানবাধিকারের প্রশ্ন তুলে ভারতকে কঠোর ভাবে নিষেধের তালিকাভুক্ত করা হয়। এব্যাপারে আগামী সপ্তাহের প্লেনারি সেশনে আলোচনা হতে পারে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নে। জম্মু-কাশ্মীর এবং সিএএ ইস্যুর পরে গণতন্ত্রের ক্ষেত্রে ভারতকে ১০ ধাপ নীচে নামিয়ে দিয়েছে ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্ট ইউনিট।
জম্মু-কাশ্মীর নিয়ে গত বছর অক্টোবর মাসে বিজেপি সরকার যে অবস্থান গ্রহণ করেছিল তার বিরুদ্ধেও একই রকম অবস্থান গ্রহণ করেছিল ইউরোপীয় ইউনিয়ন। ইউরোপিয়ান ফ্রি অ্যালায়েন্স বলেছিল যে, প্রধানমন্ত্রী মোদীর নেতৃত্বে যে স্বদেশী অ্যাজেন্ডা গ্রহণ করা হয়েছে তারা তার সমালোচনা করছে। কাশ্মীরের বিশেষ সুবিধা বন্ধ করা ও ইন্টারনেট বন্ধ রাখার সমালোচনা করেছিল নর্ডিক গ্রিন লেফট।
ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের দক্ষিণপন্থীরা একে চমক বলে মনে করলেও অন্য রাজনৈতিক দলগুলি তা মনে করে না। এমনকি এমাসে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের সদস্যদের জম্মু-কাশ্মীরে সরেজমিন দেখার কথা থাকলেও তারা সেই সফরকে ‘গাইডেড ট্যুর’ বলে অভিহিত করে তা বাতিল করে দিয়েছে।