
শেষ আপডেট: 13 October 2019 18:30
নোবেল কমিটির ঘোষণার পরে এস্থার ডাফলো ও অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় একই সঙ্গে বলেন, ‘‘বিশ্বে ৭০ কোটি মানুষ দারিদ্র্যসীমার নীচে বাস করছেন। পাঁচ বছর বয়সের গণ্ডি পেরোবার আগেই ফি বছর মৃত্যু হয় ৫০ লক্ষ শিশুর। যার অন্যতম কারণ অপুষ্টি, স্বাস্থ্যহানি, এমন রোগ যা চিকিৎসার মাধ্যমে সারানো সম্ভব অথচ অর্থ এবং সচেতনতার অভাবে সেটা সম্ভব হয় না।’’
১৯৯৯ সালে ম্যাসাচুসেটস ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি (এমআইটি) থেকে অর্থনীতি নিয়ে গবেষণা শেষ করেন। রিসার্চ স্কলার থাকার সময়েই তাঁর পছন্দের অধ্যাপক ছিলেন অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং জোসুয়া অ্যাঙ্গরিস্ট। অভিজিত বন্দ্যোপাধ্যায়ের তত্ত্বাবধানেই বিশ্ব অর্থনীতি নিয়ে গবেষণা শুরু করেন এস্থার। এমআইটিতেই অধ্যাপক হিসেবে যোগ দেন। শিক্ষকতা ও গবেষণা পাশাপাশি, সমান্তরালভাবে চলতে থাকে।
https://www.youtube.com/watch?v=0zvrGiPkVcs
২০০৩ সালে এমআইটিতেই ‘পোভার্টি অ্যাকশন ল্যাব’ তৈরি করেন। স্যর, বন্ধু, সহকর্মী অভিজিতের সঙ্গে এই ল্যাবেই অর্থনীতির নানা বিষয় নিয়ে অন্তত ২০০টি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন এস্থার। পেশা এবং গবেষণা ছাপিয়ে সম্পর্কের গভীরতা আরও গাঢ় হয়। একসঙ্গে জীবনের পথে চলার সিদ্ধান্ত নেন এস্থার-অভিজিৎ। ২০১০ সালে কম বয়সে অর্থনীতিতে অন্যরকম ভাবনা ও পথপ্রদর্শনের জন্য ‘জন বেটস ক্লার্ক মেডেল’ পান এস্থার। ওই বছরেই ইউনিভার্সিটি অব ক্যাথলিক দে লাওভেন থেকে সাম্মানিক ডক্টরেট ডিগ্রি পেয়ে যান এস্থার। সমাজ বিজ্ঞান এবং অর্থনীতিতে ইনফোসিস পুরস্কার (Infosys Prize) তাঁর ঝুলিতে ওঠে ২০১৪ সালে।
জীবনের যে কোনও পর্যায়েই শক্ত খুঁটির মতো পাশে ছিলেন স্বামী অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়। ২০০৮ সালে বিশ্বের ১০০ জন মেধাবী মানুষের মধ্যে সামনের সারিতেই এস্থার ডাফলোর নাম লেখে আমেরিকার ম্যাগাজিন ‘ফরেন পলিসি’। ‘দ্য ইকোনমিস্ট’-এর তালিকায় বিশ্বের সেরা আট অর্থনীতিবিদের মধ্যে নাম ওঠে এস্থারের। ২০১১ সালে ‘টাইম ম্যাগাজিন’-এর প্রকাশিত বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী ১০০ জন ব্যক্তির তালিকাতেও প্রথম সারিতেই দেখা যায় এস্থার ডাফলোর নাম। তাঁর লেখা প্রথম বই ২০০৬ সালে। Education and HIV/AIDS Prevention: Evidence from a Randomized Evaluation in Western Kenya বেশ জনপ্রিয় হয়। ২০১১ সালে স্বামী অভিজিতের সঙ্গে লিখেছিলেন ‘Poor Economics: Rethinking poverty and the ways to end it’। এই বই গোটা বিশ্বে সাড়া ফেলে দেয়। ২০১২ সালে এই বইয়ের জন্য স্বামী-স্ত্রী দু’জনকেই ‘জেরাল্ড লোয়েব অ্যাওয়ার্ড’ দেওয়া হয়। এস্থার-অভিজিতের লেখা Good Economics for Hard Times: Better Answers to Our Biggest Problems প্রকাশিত হতে চলেছে এই বছরের নভেম্বরে।
আবদুল লতিফ-জামিল পোভার্টি অ্যাকশন ল্যাব (J-PAL)-এর সহ-কর্ণধার এবং ডিরেক্টর এস্থার সমাজ বিজ্ঞানে তাঁর দূরদর্শী ভাবনার জন্য ২০১৫ সালে স্পেনে পুরস্কার পান। বিশ্ব অর্থনীতিতে দারিদ্র্য দূরীকরণের নানা পর্যায়ে গবেষণার জন্য যে জার্নি শুরু করেছিলেন এস্থার-অভিজিৎ, সেটাই পূর্ণতা পায় চলতি বছরে। সর্বোচ্চ সম্মান পেয়ে ইতিহাস তৈরি করেন দু’জনেই।
নোবেল লরিয়েট অর্থনীতিবিদের স্ত্রী-ও নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন, ইতিহাসে এমন ঘটনাও আছে। সুইডিশ অর্থনীতিবিদ গুনার মিরদাল ১৯৭৪ সালে অর্থনীতিতে নোবেল পান। ‘অর্থনৈতিক, সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক ঘটনার পারস্পরিক নির্ভরতার তাৎপর্যপূর্ণ বিশ্লেষণ এবং অর্থ ও অর্থনৈতিক বৈষম্যে তত্ত্বের তাৎপর্যপূর্ণ বিশ্লেষণের জন্য’ অস্ট্রিয়ার অর্থনীতিবিদ ফ্রেডরিক হায়েকের সঙ্গে যৌথভাবে অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার পান মিরদাল। পরে ১৯৮২ সালে তাঁর স্ত্রী আলভা মিরদাল শান্তিতে নোবেল পান। তিনিই প্রথম নারী, যিনি শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পান।