
শেষ আপডেট: 3 February 2024 16:19
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মাধ্যমিকের প্রথম দিনের পর দ্বিতীয় দিনের ইংরেজি পরীক্ষাতেও ফের প্রশ্নফাঁস! শুক্রবার বাংলা পরীক্ষা শেষ হওয়ার আগেই সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রশ্নপত্র ছড়িয়ে পড়েছিল। শনিবারও দেখা গেল সেই একই ছবি। আর এবারও ঘটনাস্থল মালদহ জেলার একটি স্কুল। পর পর দুই দিন এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছে মধ্যশিক্ষা পর্ষদ।
শনিবার ছিল মাধ্যমিকের ইংরেজি পরীক্ষা। এদিন পরীক্ষা চলাকালীনই সোশ্যাল মিডিয়ায় ইংরেজির প্রশ্নপত্রের ছবি ছড়িয়ে পড়ে। পর্ষদ সূত্রের খবর, ধরা পড়ার হাত থেকে বাঁচতে এদিন অভিযুক্ত পরক্ষার্থীরা কিউ আর কোড কেটে দিয়েছিল বলে। যদিও তার পরও ধরা পরে যায় ছয় পড়ুয়া। পরীক্ষার্থীরা কিউআর কোডের উপর যে লাল কালি দিয়েছিল তা মুছেই পর্ষদ তাদের চিহ্নিত করেছে বলে জানা গিয়েছে।
শনিবার মালদহের এনায়েতপুর হাইস্কুলে ছয় জন মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী প্রশ্নফাঁস করে বলে পর্ষদ সূত্রে খবর। ইতিমধ্যে অভিযুক্ত পরীক্ষার্থীদের চিহ্নিত করে তাঁদের সব পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে। ঘটনায় দুই ছাত্রী এবং চার জন ছাত্রের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করেছে পর্ষদ।
এদিকে মাধ্যমিকের দ্বিতীয় দিনেও প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনা সামনে আসায় প্রবল অস্বস্তিতে পড়ে মধ্য়শিক্ষা পর্ষদ। শনিবার পূর্ব মেদিনীপুরের তিনটি পরীক্ষাকেন্দ্র পরিদর্শন করেন পর্ষদ সভাপতি রামানুজ গঙ্গোপাধ্যায়। পরীক্ষাকেন্দ্র পরিদর্শন শেষে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে পর্ষদ সভাপতি বলেন, 'আমরা নির্বিঘ্নে পরীক্ষা সম্পন্ন করতে চাইছি। কিন্তু কেউ কেউ প্রযুক্তির অপব্যবহার করছে।' আর সেই কারণেই প্রশ্ন ফাঁসের মতো ঘটনা ঘটছে বলে মন্তব্য করেন রামানুজ গঙ্গোপাধ্যায়।
উল্লেখ্য, বিগত কয়েক বছর ধরে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিকে প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে একাধিক বিতর্ক উঠেছে। এই ধরনের ঘটনা ঠেকাতে এবার প্রশ্নপত্রে রয়েছে ম্যাজিক নম্বর বা ইউনিক কোড। পর্ষদের তরফে আগেই জানানো হয়েছে, মাধ্যমিকের প্রশ্নপত্রের প্রতিটি পাতায় ক্রমিক নম্বরের কোড লুকনো থাকবে। কোনও পরীক্ষার্থী প্রশ্নপত্রের ছবি তুললে সেই ছবি দেখে বোঝা যাবে কে ছবিটি তুলেছে। আর তা ধরা পড়লেই ওই পরীক্ষার্থীর পরীক্ষা এই বছরের জন্য পুরোপুরি বাতিল হয়ে যাবে। কিন্তু তারপরও পরীক্ষা শুরুর প্রথম দুই দিনই প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ উঠেছে। যদিও হাতেনাতে ধরা পড়েছে অভিযুক্ত পরীক্ষার্থীরা।