দ্য ওয়াল ব্যুরো : গত মার্চ থেকেই কড়াকড়ি কমানো হচ্ছে ব্রিটেনে। প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন আশা করেছিলেন, করোনার ভয় কাটিয়ে ২১ জুন থেকে পুরোপুরি চালু হবে অর্থনীতি। কিন্তু এর মধ্যে দেশে করোনার ডেল্টা ভ্যারিয়ান্টের সংক্রমণ বৃদ্ধি পেয়েছে। কড়াকড়ি পুরোপুরি তুলে নিলে সংক্রমণ হু হু করে বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা আছে। তাই বরিস জনসন সোমবার ঘোষণা করলেন, অর্থনীতি পুরোপুরি চালু করার জন্য আরও চার সপ্তাহ অপেক্ষা করতে হবে। তার আগে সব কড়াকড়ি তুলে নেওয়া যাবে না।
ব্রিটেনের সংবাদপত্রগুলি বলতে শুরু করেছিল, আগামী ২১ জুন হবে 'ফ্রিডম ডে'। ওইদিন থেকে আর সামাজিক দূরত্ব মেনে চলতে হবে না। নাইট ক্লাবও খুলে যাবে। কিন্তু বরিস জনসন বলেছেন, ডেল্টা ভ্যারিয়ান্টের সংক্রমণ যেভাবে বাড়ছে, তাতে এখন বিধিনিষেধ না তোলাই ভাল। তার বদলে টিকাকরণে আরও মনোযোগ দিতে হবে।
ইংল্যান্ডে এখন যে বিধিনিষেধগুলি চালু আছে, আগামী চার সপ্তাহ ধরে তার সবই প্রায় চালু থাকবে। পানশালা ও রেস্তোরাঁয় একসঙ্গে নির্দিষ্ট সংখ্যক মানুষই ঢুকতে পারবেন। তবে বিয়ের অনুষ্ঠানে নিমন্ত্রিতদের সংখ্যার কোনও উর্ধ্বসীমা বেঁধে দেওয়া হচ্ছে না। ইউরো কাপও চলবে।
করোনার ডেল্টা ভ্যারিয়ান্ট প্রথমে দেখা গিয়েছিল ভারতে। এখন ব্রিটেনে যাঁরা করোনা পজিটিভ হচ্ছেন, তাঁদের ৯৬ শতাংশই ডেল্টা ভ্যারিয়ান্টে আক্রান্ত হয়েছেন। গত সপ্তাহে করোনা পজিটিভ হয়েছেন আগের চেয়ে ৫০ শতাংশ বেশি মানুষ। ফেব্রুয়ারির পরে দেশে দৈনিক সংক্রমিতের সংখ্যাও বৃদ্ধি পেয়েছে। এখন গড়ে প্রতিদিন ৮ হাজার মানুষ করোনায় আক্রান্ত হচ্ছেন।
এর আগে দক্ষিণ ইংল্যান্ডের কেন্ট অঞ্চলে দেখা গিয়েছিল করোনার আলফা ভ্যারিয়ান্ট। কিন্তু ডেল্টা ভ্যারিয়ান্ট তার চেয়ে ৬০ শতাংশ বেশি সংক্রামক। ওই ভ্যারিয়ান্টের জন্য ব্রিটেনে গত জানুয়ারিতে তিন মাসের লকডাউন ঘোষণা করা হয়। তবে এখন ব্রিটেনে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন কম সংখ্যক করোনা রোগী। মৃত্যুহারও কমেছে। দেশের ৫৫ শতাংশ মানুষকে ভ্যাকসিন দেওয়া সম্ভব হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে আরও চার সপ্তাহ বিধিনিষেধ জারি রাখার সিদ্ধান্তে অসন্তুষ্ট হয়েছেন অনেকে। ব্রিটেনের 'দি টাইমস' সংবাদপত্রে প্রকাশিত রিপোর্টে বলা হয়েছে, মন্ত্রিসভার একাধিক সদস্যই নাকি মনে করছেন, এবার কড়াকড়ি বন্ধ করে দিলেই ভাল হত।
বরিস জনসন বলেছেন, "আমরা করোনাকে নির্মূল করতে পারব না। কিন্তু দেশের প্রাপ্তবয়স্করা সকলে টিকা নিলে করোনার মোকাবিলা করতে আমাদের সুবিধা হবে।" সরকারের দাবি, প্রাপ্তবয়স্কদের দুই তৃতীয়াংশকে ১৯ জুলাইয়ের মধ্যে টিকা দেওয়া সম্ভব হবে।