লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস
শেষ আপডেট: 25 December 2024 12:41
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সময় যত গড়াচ্ছে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি কাণ্ডে লিপস অ্যান্ড বাউন্ডসের একাধিক অস্থাবর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার পথে হাঁটতে চলেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। তদন্তকারীদের দাবি, তিনটি বেসরকারি ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্টে লিপস অ্যান্ড বাউন্ডসের ২ কোট ৭০ লাখ টাকা আছে। সেই তিনটি অ্যাকাউন্ট প্রাথমিকভাবে বাজেয়াপ্ত করার কাজ ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। অভিযোগ, এই অ্যাকাউন্টগুলিতে সরাসরি নিয়োগ দুর্নীতির টাকা জমা পড়েছিল।
মঙ্গলবারই আদালতে এমন তথ্য জানিয়েছে ইডি। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব একটি বেসরকারি ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্টে লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস-এর দু’কোটি ৭০ লক্ষ টাকা বাজেয়াপ্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে খবর। ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টগুলি পাকাপাকি ভাবে বাজেয়াপ্ত করার আবেদন জানানো হয়েছে। এর আগে লিপস অ্যান্ড বাউন্ডসের আটটি স্থাবর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করেছিল ইডি। যার আনুমানিক মূল্য ছিল ৭ কোটি ৪৬ লাখ টাকা।
উল্লেখ্য, নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস নিয়ে একাধিক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠে এসেছে ইডির চার্জশিটে। প্রশ্ন উঠেছে, শুধুমাত্র খাতায় কলমে ব্যবসা হওয়া সত্ত্বেও এক সাইকেল সংস্থা সহ চারটি সংস্থার থেকে কয়েক কোটি টাকা কীভাবে পেল সংস্থাটি? দাবি করা হয়েছে, সব মিলিয়ে ৪টি সংস্থা থেকে নাকি ২ কোটি ৮৩ লক্ষ ২৬ হাজার ৪৩৫ টাকা ঢুকেছে লিপস অ্যান্ড বাউন্ডসের অ্যাকাউন্টে।
ইডি পরিষ্কার করে চার্জশিটে জানিয়েছে, লক্ষ্মী সাইকেল প্রাইভেট লিমিটেড থেকে ১ কোটি ৩৪ লক্ষ ৪ হাজার ৬৮১ টাকা, নবীন এন্টারপ্রাইজ থেকে ১ কোটি ২৪ লক্ষ ৬৭ হাজার ১৯৭ টাকা, এগজটিক ইনভেনশন এন্টারপ্রাইজ নামে একটি সংস্থা থেকে প্রায় ১৪ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা, ইন্টিগ্রেটেড ইনভেনশন ট্রেডিং সংস্থা থেকে ১০ লক্ষ ৪ হাজার ৫৫৮ টাকা পেয়েছে লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস-এর আটটি স্থাবর সম্পতি বাজেয়াপ্ত করেছিল ইডি। যার আনুমানিক মূল্য ছিল ৭ কোটি ৪৬ লক্ষ টাকা। আদালতকে ইডি জানিয়েছে, ইতিমধ্যে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট বাজেয়াপ্ত করার জন্য দিল্লিতে অ্যাডজুকেটিং অথরিটি-র কাছে আবেদন জমা পড়েছে। দ্রুত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট বন্ধ করা হবে।
এছাড়া প্রাথমিকে নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় আদালতে পঞ্চম সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিট জমা দিয়ে ইডি। চার্জশিটের শুরুতেই আছে লিপস অ্যান্ড বাউন্ডসের নাম। সংস্থার সঙ্গে নাম জড়িয়ে আছে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। এছাড়া রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের স্ত্রীর নামে গড়া তহবিলের নামও রয়েছে সেই চার্জশিটে। মোট ২৯টি নাম যোগ করা হয়েছে বলে খবর। সংস্থার অন্যতম ডিরেক্টর ছিলেন সুজয়কৃষ্ণ ভদ্র ওরফে কালীঘাটের কাকু। বর্তমানে তাঁকে নিয়েও বেশ চিন্তা বাড়ছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারীদের।