দ্য ওয়াল ব্যুরো: একাধিক এনকাউন্টার। গত পাঁচ মাসে খতম হয়েছে শতাধিক জঙ্গি। পুলওয়ামা, সোপিয়ান, কুপওয়ারাতে জঙ্গি ডেরা খুঁজে খুঁজে অভিযান চালিয়েছে সেনাবাহিনী। নিকেশ হয়েছে জইশ, হিজবুলের কম্যান্ডার, সক্রিয় সদস্য, স্লিপার সেল। দু’দিন আগেই পুলওয়ামায় জঙ্গি দমন অভিযানে সাফল্য পেয়েছিলেন সেনা জওয়ানরা। শহিদ হয়েছিলেন এক জওয়ান, তবে খতম হয়েছিল তিন জঙ্গিও। এবার উত্তর কাশ্মীরের সোপোরে শুরু হয়েছে এনকাউন্টার।
সেনা সূত্রে খবর, আজ ভোররাত থেকে সোপোরের হার্দশিব গ্রামে অভিযান চালায় সিআরপিএফ এবং জম্মু-কাশ্মীর পুলিশের স্পেশাল টিম। জম্মু পুলিশ ও গোয়েন্দা সূত্রে খবর ছিল, ওই গ্রাম এবং তার সংলগ্ন এলাকায় গা ঢাকা দিয়ে আছে কয়েকজন জঙ্গি। গতকাল রাত থেকেই গোটা গ্রাম ঘিরে ফেলে সেনাবাহিনী। ভোররাতে আচমকাই হামলা চালায় জঙ্গি ডেরায়। সেনাবাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে গোপন ডেরা থেকে গুলি চালাতে শুরু করে জঙ্গিরা। তেড়ে পাল্টা জবাব দেয় সেনাও। গুলির লড়াই এখনও চলছে বলে জানা গিয়েছে।
হার্দশিব গ্রাম ও তার আশপাশের এলাকা ঘিরে রেখেছে জম্মু-কাশ্মীর পুলিশের বিরাট ফোর্স। আরও কোথাও জঙ্গিদের লুকিয়ে থাকার সম্ভাবনা আছে কিনা তার জন্য শুরু হয়েছে তল্লাশি অভিযান।
গত মঙ্গলবারই জম্মু-কাশ্মীর পুলিশের ডিজি দিলবাগ সিং বলেছিলেন, জম্মু-কাশ্মীরে সন্ত্রাস জিইয়ে রাখতে চাইছে পাকিস্তান। উপত্যকার নানা জায়গায় জঙ্গি ঢুকিয়ে নাশকতা চালানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। নিরাপত্তাবাহিনীর উপর হামলা চালানোই তাদের মূল লক্ষ্য। চলতি বছরের শুরুতেই লস্কর, জইশের একাধিক জঙ্গি নিয়ন্ত্রণরেখা পেরিয়ে দেশে ঢুকেছে এমন খবর দিয়েছিল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)। পাক জঙ্গি সংগঠনের কয়েক কম্যান্ডারও উপত্যকায় ঘাঁটি গেড়ে রয়েছে এমন খবরও রয়েছে গোয়েন্দাদের কাছে। বিশেষ করে পুলওয়ামায় দ্বিতীয়বার গাড়িবোমা বিস্ফোরণ ঘটানোর জন্য ফৌজি ভাইকে যে নিয়োগ করেছিল জইশের সেই অন্যতম শীর্ষ নেতা আবদুল রউফ আসগার ২০১৮ সালেই পাকিস্তান থেকে কাশ্মীর ঢুকে তার ডেরা তৈরি করেছে বলে খবর। আত্মঘাতী হামলার প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য ফৌজি ভাইকে কাজে লাগিয়েছিল আসগর। এই জইশ কম্যান্ডারের নেটওয়ার্ক ছড়িয়ে রয়েছে উপত্যকায়।
সপ্তাহ দুয়েক ধরে লাগাতার এনকাউন্টার চলছে উপত্যকায়। গত ১০ জুন একসঙ্গে পাঁচ জঙ্গিকে খতম করেছিল রাষ্ট্রীয় রাইফেলস, সিআরপিএফ ও জম্মু-কাশ্মীরের স্পেশাল অপারেশন গ্রুপ। তার দু’দিন আগেই সোপিয়ানের দুই জায়গায় অভিযান চালিয়ে নয় হিজবুল জঙ্গিকে নিকেশ করে বাহিনী। তাদের মধ্যে তিনজন ছিল হিজবুলের কম্যান্ডার। গত শনিবার কুলগামে দুই হিজবুল জঙ্গি সেনার গুলিতে খতম হয়েছে। উপত্যকার হিজবুল কম্যান্ডার রিয়াজ নাইকু ও জইশের বোমা বিশেষজ্ঞ ফিদায়েঁ প্রশিক্ষক ফৌজি ভাই ওরফে লম্বুকে নিকেশ করা এ যাবৎ ভারতীয় বাহিনীর অন্যতম সফল জঙ্গি দমন অভিযান। এরপর থেকে উপত্যকার আনাচ কানাচে জঙ্গিদের ডেরা খুঁজে এনকাউন্টার চালিয়ে যাচ্ছে সেনাবাহিনী। গোয়েন্দা সূত্রে খবর পেয়ে, অতর্কিতে হামলা চালানো হচ্ছে কখনও সোপিয়ান, কখনও পুলওয়ামায় জঙ্গিদের গোপন ঘাঁটিগুলিতে। সোমবার সন্ধ্যায় ত্রালের বটাগুন্ড সিআরপিএফ ক্যাম্প লক্ষ্য করে গ্রেনেড ছুড়েছিল জঙ্গিরা। তারপর মঙ্গলবার ভোরেই পুলওয়ামায় শুরু হয় এনকাউন্টার। তিন জঙ্গিকে খতম করে ভারতীয় বাহিনী।