দ্য ওয়াল ব্যুরো : ভারতের কৃষক আন্দোলনের সমর্থনে কিছুদিন আগেই টুইট করেছিলেন পপ তারকা রিহানা, পরিবেশকর্মী গ্রেটা থুনবার্গ ও আরও কয়েকজন আন্তর্জাতিক স্তরের সেলিব্রিটি। তার পরেই ভারত সরকারের সমর্থনে টুইট করেন কয়েকজন বলিউড তারকা ও খ্যাতনামা প্রাক্তন ক্রিকেটার। এই প্রেক্ষিতে প্রবীণ কংগ্রেস নেতা শশী তারুর বলেন, ভারত সরকার যে গোঁয়ার্তুমি ও অগণতান্ত্রিক মনোভাবের পরিচয় দিয়েছে, তাতে আন্তর্জাতিক মহলে তার ভাবমূর্তির যথেষ্ট ক্ষতি হয়েছে। ক্রিকেটাররা টুইট করলেই সেই ভাবমূর্তি ভাল হয়ে যাবে না।
শশী তারুর টুইট করে বলেন, "পশ্চিমী সেলিব্রিটিদের মন্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানানোর জন্য সরকার কয়েকজন ভারতীয় সেলিব্রিটিকে নিয়োগ করেছে। একগুঁয়েমি ও অগণতান্ত্রিক মনোভাবের ফলে বিদেশে সরকারের ভাবমূর্তি এখন খারাপ। এই পরিস্থিতিতে কয়েকজন ক্রিকেটার টুইট করলেই ভাবমূর্তি ভাল হয়ে যাবে না।"
ক্রিকেট তারকা শচীন তেন্ডুলকর, অনিল কুম্বলে এবং রবি শাস্ত্রী দু'টি হ্যাশট্যাগে টুইট করেছিলেন। সেগুলি হল 'ইন্ডিয়া টুগেদার' ও 'ইন্ডিয়া এগেন্সট প্রোপাগান্ডা'। শশী তারুর পাল্টা টুইট করে বলেন, "কৃষি আইনগুলি প্রত্যাহার করা হোক। কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে সমস্যার সমাধান করা হোক। তবেই ভারত ঐক্যবদ্ধ হবে।"
অপর প্রবীণ কংগ্রেস নেতা পি চিদম্বরম বলেন, রিহানা ও গ্রেটা থুনবার্গ টুইট করার পরে বিদেশমন্ত্রক ঘুম থেকে জেগে উঠেছে।
বুধবার বিদেশমন্ত্রক বলেছে, কৃষকদের খুব সামান্য অংশই নতুন আইন নিয়ে আপত্তি করছেন। সরকার বিক্ষোভকারীদের ভাবাবেগকে সম্মান করছে। তাঁদের সঙ্গে কথা বলছে। সরকার আপাতত আইনগুলি স্থগিত রাখার কথা বলেছে। খোদ প্রধানমন্ত্রী কৃষকদের এই আশ্বাস দিয়েছেন।
বিদেশমন্ত্রকের বক্তব্য, এত কিছুর পরেও কায়েমি স্বার্থবাহী কোনও কোনও গোষ্ঠী কৃষক আন্দোলনের ওপরে নিজেদের কর্মসূচি চাপিয়ে দিতে চাইছে। তারা এই আন্দোলনকে বিপথগামী করতে চায়। এই 'কায়েমি স্বার্থবাহী গোষ্ঠী' বিদেশে কৃষক আন্দোলনের পক্ষে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছে বলে সরকারের দাবি। বিদেশমন্ত্রকের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, "কায়েমি স্বার্থবাহী কেউ কেউ বিদেশে ভারতের বিরুদ্ধে প্রচার চালাচ্ছে। তাদের উস্কানিতেই বিদেশে মহাত্মা গান্ধীর মূর্তির অসম্মান করা হয়েছে। ভারত তথা সারা বিশ্বে সভ্য সমাজের কাছে এই ঘটনা অত্যন্ত আপত্তিকর।"
কৃষকরা যে জায়গাগুলিতে অবস্থান করছেন, সেখানে পুলিশ ইন্টারনেট বন্ধ করে দিয়েছে। জল ও বিদ্যুতের সরবরাহও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তার প্রতিবাদে সোমবার সন্ধ্যায় কৃষকরা চাক্কা জ্যাম-এর কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন। সোমবার পেশ হওয়া বাজেট নিয়েও কৃষকরা অসন্তুষ্ট হয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য, বাজেটে কৃষির উন্নয়নে যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া হয়নি।
গত প্রজাতন্ত্র দিবসে দিল্লিতে ট্র্যাক্টর মিছিলকে কেন্দ্র করে হিংসা ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ ও কৃষকদের মধ্যে সংঘর্ষে মৃত্যু হয় এক কৃষকের। আহত হন বহু কৃষক। চলতি বছরের প্রথম মন কি বাত অনুষ্ঠানে এদিন লালকেল্লায় সংঘর্ষের ঘটনা নিয়ে মুখ খোলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “প্রজাতন্ত্র দিবসের দিন লালকেল্লায় তেরঙার যে অবমাননা করা হয়েছে তাতে আমি দুঃখিত। এই ঘটনা কোনও মতেই মেনে নেওয়া যায় না।” এর আগে প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, “আইন আইনের পথে চলবে।”