
মহম্মদ ইমন
শেষ আপডেট: 24 July 2024 18:51
প্রীতি সাহা
এক পলকে চেনা দেশটা অচেনা হয়ে গিয়েছিল। চোখের সামনে এত গুলি, বারুদ কখনও দেখেননি মহম্মদ ইমন। বাংলাদেশের কোটাবিরোধী আন্দোলনে শামিল হয়েছিলেন এই তরুণ। কিন্তু আন্দোলন যে এভাবে ধ্বংসাত্মক আকার নেবে তা কল্পনাও করতে পারেননি।
মাঝের কদিন শান্ত বাংলাদেশের বুকে ঝরেছে প্রচুর রক্ত। তখনই পরিজনদের পরামর্শে সীমান্ত পেরিয়ে প্রাণ বাঁচাতে চলে এসেছিলেন কলকাতায়। গত ৬ দিন ধরে কলকাতায় রয়েছেন। বুধবার মারকুইস স্ট্রিটে দ্য ওয়ালের সঙ্গে দেখা হল ইমনের।
চোখে মুখে আতঙ্কের ছাপ স্পষ্ট। শরীর পশ্চিমবঙ্গে থাকলেও মন পড়ে রয়েছে বাংলাদেশেই। বলছিলেন, "সেদিনের কথাগুলো ভাবলে এখনও শিউড়ে উঠছি। কীভাবে প্রাণ বাঁচিয়ে এদেশে এসেছি তা একমাত্র আল্লাহ জানেন।"
বুধবার সকাল থেকে বাংলাদেশে স্বাভাবিক জনজীবনের অনেকটাই ফিরেছে। কার্ফু শিথিল হতে ঘরবন্দি মানুষ পথে বেরিয়ে পড়েছেন। শহরে সেনা, আধা সেনা এবং পুলিশের টহল জারি আছে। তারমধ্যে হাট-বাজর-অফিসে ভিড় বাড়তে শুরু করেছে। স্বাভাবিক সময়ে ঢাকার রাস্তা তুমুল যানজটে ডুবে থাকে। বুধবার সকাল থেকে সেই চেনা ছবি ফিরে এসেছে রাজধানীতে। ১০ মিনিটের পথ পেরতে এক-দেড় ঘণ্টা লেগে যাচ্ছে।
ছাত্র আন্দোলনকে ঘিরে সম্প্রতি উত্তাল হয়ে উঠেছিল বাংলাদেশ। যার প্রভাব পড়েছিল এদেশেও। স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল সীমান্ত। ইমনের মতো প্রাণ হাতে করে অনেকেই চলে এসেছিলেন কলকাতায়। তাঁদের অনেকেই ইমনের মতো আস্তানা গেড়েছেন মারকুইস স্ট্রিটে। বলছিলেন, ব্যবসায়িক সূত্রে ক'দিন আগেও এই মারকুইস স্ট্রিটে ব্যস্ততার শেষ থাকত না। সেখানে এখন বড্ড খাঁ খাঁ করছে। সকলেরই একটাই প্রার্থনা, সবকিছু আবার আগের মতো ঠিক হয়ে যাক।