
শেষ আপডেট: 21 September 2023 08:47
দ্য ওয়াল ব্যুরো: স্টিফেন হকিং যদি এই ব্রেন-মেশিন পেতেন তাহলে হয়ত স্নায়ুর জটিল রোগে সারাটা জীবন প্রতিবন্ধী হয়ে কাটাতে হত না। এমনটাই মনে করছেন ইলন মাস্কের নিউরোলিঙ্কের (Neuralink) গবেষকরা। মাস্কের কোম্পানি এমন এক ব্রেন-মেশিন তৈরি করেছে যা নাকি স্নায়ুর যে কোনও জটিল রোগই সারাতে পারবে। ব্রেনে ছোট্ট একটা চিপ বসিয়ে দিলেই কেল্লাফতে। মানসিক ও স্নায়বিক প্রতিবন্ধকতা আর গ্রাস করবে না কোনওভাবেই। এমনকী ব্রেন থেকে সঙ্কেত পাঠিয়ে শারীরিক প্রতিবন্ধকতাও সারানো যাবে এই ব্রেন-মেশিনে।
নিউরোলিঙ্কের (Neuralink) এই গবেষণায় সহযোগিতা করছে ডিফেন্স অ্যাডভান্সড রিসার্চ প্রোজেক্ট এজেন্সি। এই গবেষণার সঙ্গে জড়িত জাস্টিন স্যানচেজ জানিয়েছেন, বিশ্বজুড়ে ২ লক্ষের বেশি মানুষ মস্তিষ্কের রোগে ভোগেন। ‘অ্যাংজাইটি অ্যান্ড ডিপ্রেসন অ্যাসোসিয়েশন অব আমেরিকা’ (ADAA) তাদের একটি গবেষণার রিপোর্টে বলেছিল, অবসাদ, উদ্বেগ, অবসেসিভ-কমপালসিভ ডিসঅর্ডার থেকে স্লিপিং ডিসঅর্ডার—মস্তিষ্কের জটিল রোগ সারাতে পারবে ইলন মাস্কের সংস্থার তৈরি ব্রেন-মেশিন। মস্তিষ্কের ক্ষতও সারাবে। নিউরোটেকনোলজিতে এমন ডিভাইস তৈরি হয়েছে যা যে কোনও অ্যাংজাইটি ডিসঅর্ডার, অবসেসিভ কমপালসিভ ডিসঅর্ডার, বাইপোলার সিন্ড্রোম থেকে ট্রমাটিক ব্রেন ইনজুরিও সারাতে পারবে। স্নায়ুর দুরারোগ্য রোগ থেকেও মুক্তি দেবে।

মোটর নিউরনের একটি রোগ অ্যামিওট্রপিক লেটারেল স্কেলরোসিস-এ (এএলএস) আক্রান্ত ছিলেন বিশ্ববিখ্যাত বিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং। তাঁর পুরো জীবনই কেটেছে হুইলচেয়ারে। পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়েও কম্পিউটার স্পিচ সিন্থেসাইজারের মাধ্যমে কথা বলতেন তিনি। আপেক্ষিকতাবাদ, কোয়ান্টাম তত্ত্ব এবং ব্ল্যাক হোল নিয়ে তাঁর যুগান্তকারী গবেষণা নাড়িয়ে দিয়েছিল বিশ্বকে। কিন্তু মস্তিষ্কের ওই জটিল রোগ তাঁকে শারীরিকভাবেও প্রতিবন্ধী করে ফেলেছিল। নিউরোলিঙ্কের গবেষকরা বলছেন, স্নায়র জটিল রোগে শরীর ও মস্তিষ্কের পেশিগুলো কাজ করা বন্ধ করে দেয়। ব্রেন থেকে সঙ্কেত না পেয়ে অকেজো হয়ে যায় শরীরের নানা অঙ্গের পেশি। তখন শারীরিক প্রতিবন্ধকতার শিকার হতে হয়। নতুন ব্রেন-মেশিন এই সমস্ত প্রতিবন্ধকতা নাকি দূর করতে পারবে।
নিউরোলিঙ্কের (Neuralink) ডিভাইস মস্তিষ্কের সমস্ত জটিল রোগ সারাতে পারবে বলেই দাবি করেছেন গবেষকরা। এই ডিভাইস তৈরি হবে ছোট ইলেকট্রোড দিয়ে। তার মধ্যে এমন যন্ত্র থাকবে যা সহজেই মস্তিষ্কের কোষে ঢুকিয়ে দেওয়া যাবে। গবেষকদের দাবি, এই ডিভাইস মস্তিষ্কের ভেতরে কোনও ক্ষতি করবে না বা এর কোনও প্রতিক্রিয়াও দেখা যাবে না। মস্তিষ্কের কোষে প্রতিস্থাপন করলে এই যন্ত্র ক্ষতিগ্রস্থ কোষগুলিকে সারাতে পারবে। মস্তিষ্কের স্বাভাবিক ক্রিয়া ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করবে। ব্রেন সার্জারির মতো ঝুঁকিপূর্ণ অস্ত্রোপচারের দরকার পড়বে না। পাশাপাশি, মানসিক অবসাদ, উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা থেকেও রোগীকে রেহাই দেবে।
তবে সবকিছুরই ভাল দিক ও খারাপ দিক আছে। নিউরোলিঙ্কের এই যন্ত্র নিয়ে অনেক প্রশ্ন উঠেছে। মার্কিন ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফডিএ) দাবি করেছে, এমন যন্ত্র একবার মস্তিষ্কের কোষে প্রতিস্থাপন করলে সেটা আর বের করার উপায় থাকবে কিনা সেটা দেখতে হবে। রোগ সারার পরেও দীর্ঘসময় মস্তিষ্কের ভেতরে থাকলে তার কোনও খারাপ প্রভাব পড়বে কিনা সেটাও চিন্তার বিষয়।
আরও পড়ুন: কলকাতায় ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল মেট্রো স্টেশনের কাজ শুরু হল, সৌধের উল্টোদিকেই হবে গেট