গরম থেকে বাঁচতে হাতিরা খাচ্ছে তরমুজ, শশা, ফুটি!
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এই হাসফাঁস, ভ্যাপসা গরমে আপনি নিশ্চয় নিজেকে ঠাণ্ডা রাখতে বারবার স্নান করছেন, এসি চালাচ্ছেন বা পারতপক্ষে রোদ্দুর এড়িয়ে চলছেন। আর খাবার থালায় এমন কিছু রাখছেন যাতে শরীরটা ঠাণ্ডা হয়। তাই তো? এমনিই ব্যবস্থা এবার ওদের জন্যও কর
শেষ আপডেট: 24 June 2019 10:50
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এই হাসফাঁস, ভ্যাপসা গরমে আপনি নিশ্চয় নিজেকে ঠাণ্ডা রাখতে বারবার স্নান করছেন, এসি চালাচ্ছেন বা পারতপক্ষে রোদ্দুর এড়িয়ে চলছেন। আর খাবার থালায় এমন কিছু রাখছেন যাতে শরীরটা ঠাণ্ডা হয়। তাই তো? এমনিই ব্যবস্থা এবার ওদের জন্যও করা হচ্ছে। ওরা ঠাণ্ডা থাকলেই ভালো, নইলে তো ক্ষেপে গেলে সারা দুনিয়া তোলপাড় করে ফেলতে পারে। ছোট চোখ আর কুলোর মতো কান, সঙ্গে মূলোর মতো দাঁত। বুঝতেই তো পারছেন কাদের কথা বলছি।
উত্তরপ্রদেশের মথুরা থেকে ২৫ কিলোমিটার দূরে ফারাহ শহরে হাতিদের যত্ন করে একটি সংরক্ষণশালা। তারাই এবার এদের খেতে দিচ্ছে তরমুজ, ফুটি আর শশা। এই ফলগুলোয় অনেকটাই জলীয় অংশ থাকে। তাতে এদের শরীর ঠাণ্ডা রাখা যাবে এই ভাবনা থেকেই এই ব্যবস্থা করেছেন তাঁরা, জানাচ্ছেন এই সংরক্ষণশালার প্রজেক্ট ডিরেক্টর বৈজু রাজ। তিনি আবার বন্যপ্রাণ সংরক্ষণের এসওএস প্রকল্পের সাথেও যুক্ত।
বেসরকারি এই সংস্থাটির আধিকারিকরা বলছেন, এখানে যখন এই বন্যপ্রাণীদের রাখা হয়, তাদের আশেপাশে পুকুরের ব্যবস্থাও করা হয়। যাতে গরমে তারা বেশি কষ্ট না পায়। অনেকক্ষণ ধরে তারা যাতে স্নান করতে পারে সেদিকেও নজর রাখা হয়। কখনও কখনও এদের যমুনা নদীতেও নিয়ে যাওয়া হয়, সেখানে তারা প্রায় দু থেকে তিন ঘণ্টা স্নান করতে থাকে।

এখানকারই এক সংরক্ষণ আধিকর্তা শিবম বলছেন আপাতত সুজি তাঁদের কাছে একটা বড় চ্যালেঞ্জ। সুজি ৭০ বছরের একটি মাদী হাতি। সে চোখে দেখতে পায় না, এবং তার একটা দাঁতও নেই। বয়স হয়েছে বটে, তবে তাঁরা চান তাঁকে যত্ন দিয়ে আরও পাঁচটা বছর অন্তত যদি বাঁচিয়ে রাখা যায়। এমনিতে হাতিদের জীবন সাধারণভাবে ৬০-৬৫ এর আশেপাশেই শেষ হয়ে যায়। তিরুপতির কাছে একটি জঙ্গলে সুজিকে ঘোরাফেরা করতে দেখে গ্রামবাসীরা এই সংরক্ষণশালায় খবর দিয়েছিল। সুজি সার্কাসে খেলা দেখাত। তারপরে সে অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাকে তার মালিক ওই জঙ্গলে ছেড়ে দিয়ে গেছে। তাই আপাতত বাকি হাতিদের সাথে সুজিও তরমুজ, ফুটি, শশা খেয়ে নিজেকে ঠাণ্ডা রাখছে।